Sunday , November 29 2020
Breaking News
Home / Education / বিসিএস প্রস্তুতিঃ কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

বিসিএস প্রস্তুতিঃ কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভাল করার জন্য আপনাকে প্রথমেই প্রশ্নের ধরণ বুঝ নিতে হবে। পরীক্ষার সিলেবাস দেখে প্রথমবার অনেক বেশিকিছু মনে হলেও আপনি যখন ভালমতো সিলেবাস নিয়ে বসে বিভিন্ন বই থেকে টপিকগুলো চিহ্নিত করে ফেলবেন, তখন আপনার মাথা থেকে অনেক চাপ কমে যাবে। আগের ১০০ মার্কের পরীক্ষার সিলেবাসের তুলনায় নতুন ২০০ মার্কের পরীক্ষায় তথ্য-প্রযুক্তির জন্য অনেক বেশি টপিক পড়তে হবে। এজন্য প্রথমেই সিলেবাসের টপিকগুলো নবম-দশম শ্রেণীর কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বই থেকে ভালমতো চোখ বুলিয়ে নেবেন। এতে আপনার বেসিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ভাল একটি ধারণা তৈরি হবে।

কোন টপিক না পেলে বা আরেকটু ডিটেইল শিখতে চাইলে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই থেকে পড়তে পারেন। এবার আগের বছরের প্রশ্নগুলো খুব ভালমতো দেখে নিতে হবে। কোন টপিকের কোন বিষয়গুলো থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয়- এই বিষয়টি মাথায় রেখে পড়া শুরু করুন।
তথ্য প্রযুক্তি অংশে যেসব বিষয় রয়েছে তার বেশিরভাগের সাথেই আমরা পরিচিত। যেমন- ই-কমার্স, সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্ক বা ইমেইল সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। ই-কমার্সের সাথে মোবাইল কমার্স বা M-commerce ও ফেসবুক মার্কেটিং সম্পর্কিত কিছু তথ্যও ও শিখে নেবেন। কত সালে ই-কমার্স শুরু হয়, প্রথম কোথায় ই-কমার্স শুরু হয়েছিল, বর্তমান সময়ে কত শতাংশ পণ্য ই-কমার্সের মাধ্যমে বিক্রি হয়, কোন দেশ ই-কমার্সে সব থেকে বেশি বাণিজ্য করে থাকে এই ধরণের তথ্যগুলো নিয়ে একটা চার্ট করে ফেলতে পারেন। অথবা কোন রঙ্গিন কালি দিয়ে বই থেকে মার্ক করে রাখতে পারেন। এতে সময় কম লাগবে। সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন- 2G, 3G, 4G ইত্যাদি কোন ধরণের প্রযুক্তি ব্যাবহার করে এই ধরণের প্রশ্নগুলো আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম কোন দেশ 3G/4G চালু করে এগুলো থেকেও প্রশ্ন হতে পারে। সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে 3G একটি মাইলফলকের মত। তাই অন্যগুলোর তুলনায় 3G নিয়ে একটু ডিটেল পড়তে হবে। সেলুলার ডাটার ক্ষেত্রে ব্লুটুথ ও WiFi এর মত প্রযুক্তি ব্যবহিত হয় হয়। এগুলোর ফুল মিনিং, কত IEEE স্ট্যান্ডার্ড ব্যাবহার করা হয়, কোন তরঙ্গ ব্যাবহার করা হয় এই তথ্যগুলো থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। LAN, WAN, MAN, Wimax রেঞ্জ এবং কোন ক্ষেত্রে ব্যবহিত হয় এগুলো জেনে নিতে হবে। কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরণের নেটওয়ার্কের নামগুলো অবশ্যই জানতে হবে। TCP/IP কত সালে উদ্ভাবিত হয়, এগুলোর ফুল মিংনিং এসব থেকে প্রশ্ন হতে পারে। হটস্পট, রাউটার এগুলোর কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। আজকের দিনে স্মার্ট-ফোন একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। Android, iOS, WP, Tizen, Black Berry ইত্যাদি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে। এন্ড্রোয়েড, আইফোন কত সালে বাজারে ছাড়ে, কোনটি ওপেন সোর্স এগুলো জানতে হবে। ইন্টারনেট একটি তথ্য বহুল টপিক। ইন্টারনেটের ইতিহাস, বাংলাদেশে কখন ইন্টারনেট চালু করা হয়, সার্ভারের ধরণ, ইন্টারনেটে কোন ধরনের প্রটোকল বেশি ব্যবহিত হয়, ইন্টারনেট ব্যাবহারকারীর সংখ্যা, কোন দেশ সবথেকে বেশি ব্যবহারকারী এসব তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিভিন্ন ধরণের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। কোনটির প্রতিষ্ঠাতা কে, কত সালে শুরু করা হয়, কোনটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত, কোনটি ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবথেকে বেশি এই ধরণের প্রশ্নগুলোই বেশি দেওয়া হয়। এর-পাশাপাশি কোনটি কোন কাজে ব্যবহিত হয়, বা কোন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজে লেখা হয়েছে এগুলোও শিখে নিতে হবে। রোবটিক্স এর জন্য- ব্যাবহার, কি ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহিত হয়, বিখ্যাত কিছু রোবটের নাম, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন- যুদ্ধক্ষেত্রে বা চিকিৎসার জন্য কোন রোবট ব্যাবহার করা হয় এগুলো, ভবিষ্যতে রোবটের কি ধরনের ব্যাবহার হতে পারে এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে প্রশ্ন হতে পারে। বেশ কয়েকবার বড় ধরণের সাইবার আক্রমণ হয়েছিল। সেই আক্রমণগুলোর নাম, সাইবার যুদ্ধের শুরু, প্রথম সাইবার যুদ্ধ, সাইবার আইন চেরনোবিল ভাইরাসের মত কিছু ভাইরাসের নাম, অ্যানোনাইমাসে বা উইকিলিকসের মত বড় ধরণের হ্যাকার গ্রুপ সম্পর্কের প্রশ্ন হতে পারে।

ক্লাউড কম্পিউটিং একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। এর বৈশিষ্ট্য, সুবিধা, অসুবিধা এবং বিশেষ করে ব্যাবহার এগুলো শিখে নিতে হবে। কোন দেশ ক্লাউড কম্পিউটিং শুরু করে, কোন কোম্পানি প্রথম শুরু করে, নাসা কোন ইন্টারফেস ব্যাবহার করে এগুলোও জানা থাকা প্রয়োজন। তবে এসব টপিক থেকে বেসিক প্রশ্ন করার সম্ভাবনাই বেশি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক হলো- বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও তাদের সেবা। এক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলোর সেবার ধরণ, শুরুর তারিখ, প্রতিষ্ঠাতা, গ্রাহক সংখ্যা, পরিসর এগুলো থেকেই বেশি প্রশ্ন হয়। এছাড়াও এসব কোম্পানির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যেকোনো ধরণের প্রশ্ন আসতে পারে।
আজকে এ পর্যন্তই থাক। পরবর্তী পর্বে দৈনন্দিন বিজ্ঞানের যে অংশটুকু বাকি আছে সেগুলো নিয়ে একটা বিস্তারিত পোস্ট দেবার চেষ্টা করব। সবাই ভাল থাকবেন। লক্ষ্য স্থির করে পড়তে থাকুন। সফলতা আসবেই।

Your work is going to fill a large part of your life, and the only way to be truly satisfied is to do what you believe is great work. And the only way to do great work is to love what you do. If you haven’t found it yet, keep looking. Don’t settle. As with all matters of the heart, you’ll know when you find it. Steve Jobs

লেখা সংক্রান্ত যেকোনো পরামর্শের জন্য আমার ফেসবুক inbox এ লিখতে পারেন। Avizit Basak
বি দ্রঃ লেখাটাতে শুধু আমার নিজের আইডিয়া অনুযায়ী ধারণা দেয়া হয়েছে। আপনি আপনার মত করেও প্রস্তুতি নিতে পারেন। সফল হবার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, সেটা সম্পন্ন করাটাই মুখ্য কাজ।আর ছোটখাটো ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে।

লিখেছেনঃ

Avizit Basak
BCS (Administration)
33rd BCS

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page