Saturday , November 28 2020
Breaking News
Home / Education / নৌবাহিনীর কমিশনড অফিসার পদ ছেড়ে বিসিএস ক্যাডার মুনিয়া

নৌবাহিনীর কমিশনড অফিসার পদ ছেড়ে বিসিএস ক্যাডার মুনিয়া

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক ছিল মুনিয়া চৌধুরীর। এইচএসসি পাসের পর নৌ বাহিনীতে কমিশনড অফিসার পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি। তবে তার মায়ের স্বপ্নটা খেলা করেছে অন্যখানে। মায়ের কথামতো বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন তিনি। এখানেও প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন তিনি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেছেন তিনি। চার বছরের অনার্স পরীক্ষায় ভাষা শিক্ষা বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হলেন তিনি। মাস্টার্সেও একই

ফল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারতেন। তবে তখনও তার মাথায় মায়ের স্বপ্ন খেলা করেছে। মানে বিসিএস ক্যাডার হতে হবে তাকে। শুরু হল প্রস্তুতি। ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষা দিলেন। ক্যাডার পেলেন না। নন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পেলেন। কিন্তু তিনি দমে যাননি। শুরু করলেন ৩৪তম বিসিএসের জন্য নতুন প্রস্তুতি। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পাঠাগারে পড়তে যেতেন। বের হতেন রাত ৮টায়। এভাবে পড়াশোনা করে ৩৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধায় সেরা হয়েছেন

তিনি। মুনিয়ার মতে, বিসিএসে সাফল্যের জন্য সব বিষয়েই ভালো জানতে হবে। কোনো একটি বিষয়ে ভালো জানলে হবে না। বাংলা, ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান সববিষয়েই সমানভাবে ভালো জানতে হবে। অন্যথায় ভালো ফল করা যাবে না। বিসিএসে ভালো করতে হলে মুনিয়ার পরামর্শ : >>> একেকজনের ক্ষেত্রে একেক কৌশল কাজ করে। আমি যেভাবে পড়েছি, সেভাবে হয়ত অন্যদেরক্ষেত্রে কাজ করবে না। আমিএকই সঙ্গে পড়েছি, পাশাপাশি লিখেছি। না লিখলে আমার মনেথাকে না।

কারও কারও ক্ষেত্রে হয়ত পড়লেই চলে। তাই একজন কীভাবে পড়বেন সেটা তাকেই ঠিক করতে হবে। >>> বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত বিষয়ে এসএসসি ও এইচএসসির পাঠ্যবইগুলো ভালোভাবে পড়লে উপকার হবে। সেই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা নিতে হবে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক কিছুই এখন সহজলভ্য ইন্টারনেটের বদৌলতে। >>> পাশাপাশি পড়তে হবে বাংলাদেশের সংবিধান, ধারণা রাখতে হবে ইতিহাস, রাষ্ট্র পরিচালনা, দেশের এবং বিশ্বের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে। >>>

আবার কিছু বিষয় মুখস্থ রাখলেও পরীক্ষার খাতায় লেখার ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে। উপস্থাপনা যেন সবার মতো না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাস্তব জীবনের উদাহরণের আলোকে লেখা এগিয়ে নিলে পরীক্ষকের মনোযোগ আকর্ষণ করা সহজ হবে। সেই সঙ্গে লেখার মান হতে হবে ঝরঝরে। >>> সাহিত্য চর্চা করলে ভাষার দিক থেকেসমৃদ্ধ হওয়া যাবে। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি বিষয়ে চর্চার অভাব আছে, ভাষাগত দুর্বলতা রয়ে গেছে। ইংরেজি সাহিত্য পড়লে এই

সমস্যা দূর করা যাবে। >>> আবার পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পাওয়া মাত্রই লেখা শুরু না করে এক মিনিট বা দুই মিনিট চিন্তা করুন, ভাবুন, কীভাবে শুরু করবেন। শুরুটা ভালো হলে পরের লেখাগুলো এমনিতেই আসে। >>> আরও একটা বিষয় ভালো কাজে দিতে পারে। সেটা হচ্ছে, কোথাও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বা তথ্য পেলে ডায়েরিতে লিখে রাখুন। আমাদের মাথা কম্পিউটার নয় যে, সব কিছু মনে রাখতে পারে। ডায়েরিতে প্রতিনিয়ত লিখে রাখলে এবং সেগুলোতে চোখ বুলালে নিজের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ

হবে। >>> প্রথমবার সাফল্য পাননি, এমনটি যে কারও ক্ষেত্রে হতেই পারে। অনেকে এ জন্য দমে গিয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু এটা হলে চলবে না। বিসিএসের জন্য প্যাশন থাকতে হবে। নিজেকে উদ্বুদ্ধকরণ আর জেদটা জরুরি। একবার না হলে পরের বার বা তারও পরের বার হবে। এজন্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সর্বোপরি লক্ষ্যটা সুনির্দিষ্ট থাকলেই ভালো হবে।

About khan

Check Also

প্রথম বিসিএসেই ক্যাডার হয়ে স্বপ্নপূরণ করলেন জবির ফজলুর রহমান

মোঃ ফজলুর রহমান মামুন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেন। ছোট বেলায় স্বপ্ন ছিল বিদেশে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page