Friday , December 4 2020
Breaking News
Home / Education / স্বপ্ন যখন বিসিএস ক্যাডার

স্বপ্ন যখন বিসিএস ক্যাডার

প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন মানুষকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। কেউ স্বপ্ন দেখে বড় রাজনীতিবিদ হওয়ার, আবার কেউ দেখে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কেউবা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে সবচেয়ে বেশি ছাত্র-ছাত্রীরা চায় সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হতে। অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন থাকে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে। আজ আমরা বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করব। যারা নতুন বিসিএস দিবেন আশা করি তাদের কাজে লাগবে।
বিসিএস একটা দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা। সার্কুলার থেকে প্রিলি, রিটেন, ভাইভা, নিয়োগ পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক টেনশন, হতাশা আসবে। কিন্তু ধৈর্য ধরতে হবে। স্বপ্নকে ছুয়ে দেখতে প্রতিজ্ঞা করতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে নিজেকে। আপনিও পারবেন।

ফরম পূরণ: টেকনিক্যাল ক্যাডার ও বোথ ক্যাডার। যারা শুধুমাত্র টেকনিক্যাল ক্যাডার দিবেন, তাদের চয়েস একটাই। যেমন: বিসিএস(স্বাস্থ্য), রসায়ন, গণিত ইত্যাদি। আর যারা বোথ ক্যাডার দিবেন তারা প্রথমে প্রশাসন, ফরেইন, পুলিশ, ট্যাক্স ইত্যাদি দিবেন, এরপর স্বাস্থ্য/নিজের সাবজেক্ট।

ফরম পূরণের সময় স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই দিলে ভাল। না হয় দুই জায়গায় ভেরিফিকেশন হবে। তবে স্থায়ী ঠিকানায় বাড়ি বা জমি থাকতে হবে। স্থায়ী ঠিকানা পরে পরিবর্তনের সুযোগ নাই।

নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ ইত্যাদি এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী দিতে হবে। স্নাতক লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেই সার্টিফিকেট দিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষা:

প্রিলি একটি বাছাই পরীক্ষা। এই নাম্বার পরবর্তীতে যোগ হবে না। তাই ১ম হয়ে প্রিলি পাস করা আর ১০,০০০ তম হয়ে প্রিলি পাস করা একই কথা।

প্রিলিতে সবার জন্য পাস মার্ক/কাট মার্ক একই। অর্থাৎ প্রায় ২,৫০০০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে যে ১০-১২ হাজার প্রিলিতে টিকবে আপনাকে এর মধ্যে একজন হতে হবে। এখানে কোন ধরনের কোটা/আলাদা কাট মার্ক এপ্লাই করা হয় না, তাই সেই লেভেলের প্রস্তুতি নিতে হবে।
রিটেন পরীক্ষা: যারা বোথ ক্যাডারে দিবেন তাদের জন্য পরীক্ষা ১১০০ নম্বরের। আর যারা শুধুমাত্র ট্যাকনিকাল, জেনারেল ক্যাডার তাদের ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা। ট্যাকনিকালদের বাংলা ২য় পত্র ও বিজ্ঞান পরীক্ষার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ট্যাকনিক্যাল বিষয়ে ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে।

লিখিত পরীক্ষা পাস নম্বর গড়ে ৫০%। সবাইকে অবশ্যই ৫০% মার্কস পেতে হবে ভাইবা দেয়ার জন্য। আপনার ক্যাডারে যত সিটই থাকুক আপনি যদি রিটেনে ৫০% মার্কস না পান,তাহলে আপনি রিটেনে ফেল।

রিটেন পরীক্ষায়ও কোন ধরনের কোটা/আলাদা কাট মার্ক এপ্লাই করা হয় না। কোন পরীক্ষায় ৩০% এর কম পেলে ওই সাবজেক্টের নাম্বার যোগ হবে না। মনে রাখবেন, বিসিএস পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল লিখিত পরীক্ষা। এখানে যে যত বেশি নম্বর পাবে, তার ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি।

ভাইভা: ভাইভার উপর ক্যাডার প্রাপ্তি নির্ভর করে না। কারণ ভাইভাতে বেশির ভাগই পাস করে এবং এভারেজ একটা নম্বর পায়। অল্প কিছু পরীক্ষার্থী খুব ভাল ভাইভা মার্কস পান। ভাইভা পরীক্ষা ২০০ নম্বরের। আর পাস মার্ক ১০০।

ভেরিফিকেশন: পুলিশ, এনএস আই, ইউ এন ও, স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইত্যাদি সংস্থা ভেরিফিকেশন করে। এখানে দেখা হয় কোন মামলা আছে কিনা, রাজনৈতিক পরিচয় নিজের এবং আত্মীয়স্বজনের, স্থায়ী ঠিকানা ঠিক আছে কিনা, স্কুল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয় এ ও ভেরিফিকেশন করা হয়।

জয়েনিং: গেজেট দেয়ার ১৫-৩০ দিনের মধ্যে নিজ মন্ত্রণালয়ে জয়েন করা লাগে। মন্ত্রণালয়ে জয়েনিং এরপর কর্মস্থলে জয়েনিং এর জন্য আলাদা গেজেট প্রকাশিত হয়। এটা মন্ত্রণালয়ে জয়েনিং এর ৭ দিনের মধ্যে সাধারণত হয়। এসব প্রসিডিউর সফলভাবে শেষ করতে পারলে তবেই আপনি বিসিএস ক্যাডার।

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page