Monday , September 20 2021
Breaking News

এক অদম্য বাবার বাস্তব গল্প; জুতো সেলাইয়ের ফাঁ’কে ছেলেকে পাঠদান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই পুলিশে চাকরি করার আগ্রহ ছিল। কারণটা বাবা। তিনি ছিলেন আর্মি অফিসার। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও দেখতাম ডিপার্টমেন্টের বড় ভাইয়েরা পুলিশে চাকরি পাচ্ছে। এগুলো অনুপ্রাণিত করেছে আমাকে।

বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে পড়াশোনা করতাম। হলের স্টাডিরুমে রাতে পড়তাম। যে বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ তা মার্ক করে রাখতাম। দরকারি তথ্য টুকে রাখতাম একটি নোট খাতায়। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো জোগাড় করে সমাধান করেছি। প্রশ্নগুলো দেখার সময় বোঝার চেষ্টা করতাম, কোন বিষয়গুলো এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বেশি আসে। নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্য বই ছিল আমার নখদর্পণে।

”বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে পড়াশোনা করতাম। হলের স্টাডিরুমে রাতে পড়তাম। যে বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ তা মার্ক করে রাখতাম। দরকারি তথ্য টুকে রাখতাম একটি নোট খাতায়”

পড়াশোনা শেষ করেই চাকরির জন্য চেষ্টা শুরু করি। ট্রাস্ট ব্যাংকে অফিসার, সোনালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার, সাব-রেজিস্ট্রার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাইবার কর্মকর্তা এবং রাজস্ব বোর্ড, ইসলামী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকে অফিসার পদে আবেদন করেছি। প্রত্যেকটি পদেই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।

সাধারণত চাকরির লিখিত পরীক্ষায় চারটি ভাগ থাকে। বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান। লিখিত পরীক্ষায় আমি সব সময় সাধারণ জ্ঞান দিয়ে শুরু করতাম। কারণ এটিতে ভালো ছিলাম। গণিতে দুর্বল থাকায় এর উত্তর দিতাম সবশেষে। সাধারণ জ্ঞানের পরে উত্তর দিতাম বাংলার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীর মতো আমারও লক্ষ্য ছিল বিসিএস। প্রশাসনে চাকরি করতে চেয়েছিলাম। ৩৪তম বিসিএসে টিকে গেলেও নন-ক্যাডারে চাকরি হয়েছিল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। তাই যোগদান করিনি।

সব শেষ চাকরির জন্য লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা হয় পুলিশে, সাব-ইন্সপেক্টর পদে। লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার আগে শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। বিভিন্ন শারীরিক কসরতের মধ্য দিয়ে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাক পাই। ১০ দিন পরে হয় লিখিত পরীক্ষা। পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্ন জোগাড় করি। একটি সহায়ক বইও কিনি। সাধারণত পুলিশে নিয়োগ পরীক্ষা হয় ২২৫ নম্বরের। ২৫ নম্বর থাকে মানসিক দক্ষতার ওপর। বাংলায় ৫০, ইংরেজিতে ৫০, গণিতে ৫০ ও সাধারণ জ্ঞানে থাকে ৫০ নম্বর। গণিতের প্রশ্ন আসে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বই থেকে। সেসব বই পড়া শুরু করলাম। বাংলায় বাগধারা ও ভাব-সম্প্রসারণ আসে প্রতিবারই। ইংরেজি থেকে প্রিপজিশন, রচনা, ইডিয়ম অ্যান্ড ফ্রেজ থাকে। তাই এসব বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলাম। আমার লিখিত পরীক্ষা খুবই ভলো হয়েছিল। উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ডাক পেয়েছিলাম ভাইভার জন্য। মুক্তিযুদ্ধ ও আমার একাডেমিক পড়াশোনার বিষয়ে বেশি প্রশ্ন করেছিল। সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিয়েছিলাম। যেদিন খবর পাই আমার চাকরি হয়ে গেছে, তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশের চাকরি বেশ উপভোগ করছি।

About khan

Check Also

সফলতার গল্পঃ পাউরুটি খেয়ে দিন পার করা ছেলেটি আজ বিসিএস ক্যাডার!

বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা দিতে যাও’য়ার মতো ভালো কোনো পোশাক ছিল না ছেলেটির। ছিল না সকালের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *