Wednesday , November 25 2020
Breaking News
Home / Education / বাংলায় বেশি নম্বর পেতে অনুশীলনের বিকল্প নেই

বাংলায় বেশি নম্বর পেতে অনুশীলনের বিকল্প নেই

শিক্ষক

সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,

প্রথমেই তোমাদের প্রতি শুভাশিস রইল। জীবনে প্রথম তোমরা কোনো পাবলিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছ। আর তো মাত্র কয়েকটা দিন! এ মুহূর্তে মনের দ্বিধা, সংকোচ ও ভয়কে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আত্মবিশ্বাসটুকু ধরে রাখ। মনে মনে ভাববে – “আমি সবকিছুই পারি এবং সবার থেকে অনেক ভালো পারি।” নিজের প্রস্তুতির ওপর আস্থা রাখবে। সাফল্য আপনি এসে ধরা দেবে। এখন আমি তোমাদের বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতির ব্যাপারে কিছু কথা বলব-

বাংলায় ভালো ফলাফল করার জন্য প্রশ্নের ধরন বুঝে বিষয়ের বারবার অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। পাঠ্যবই বারবার পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পড়বে। প্রত্যেক অধ্যায়ের কঠিন শব্দগুলোর শব্দার্থ, সমার্থক ও বিপরীত শব্দ দিয়ে একটি চার্ট তৈরি করে পড়ার টেবিলের সামনে টানিয়ে রাখতে পার। এর সঙ্গে যুক্তবর্ণগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো ভেঙে লিখে ও বাক্য তৈরি করে তারও একটা তালিকা শেষ সময়ে প্রস্তুত করে রাখতে পার। পাঠ্যবইয়ের শেষের দিকে যে শব্দার্থগুলো দেয়া আছে সেগুলো ভালোভাবে পড়বে কারণ এখান থেকেই এক বাক্যে প্রকাশগুলো সাধারণত এসে থাকে। ক্রিয়াপদের চলিত রূপ অনুশীলন করার জন্য উপরের ক্লাসের ব্যাকরণ বইয়ের সহায়তা নিতে পার। ক্রিয়া পদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রূপ লিখনে ব্যাকরণ বইয়ের ‘ক্রিয়ার কাল’ অধ্যায়টি অনুশীলন করলে সহায়তা পবে। পাঠ্যবই অন্তর্গত গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে প্রশ্নের ধরন অনুসারে শব্দার্থ ও প্রশ্ন খুঁজে বের করবে এবং তার উত্তর অনুশীলন করবে। পাঠ্যবই বহির্ভূত অনুচ্ছেদটি ভালোভাবে পড়বে ও অনুধাবন করার চেষ্টা করবে। এ অংশ থেকে তোমাকে তিনটি বড় প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। বড় প্রশ্নের উত্তরে কখনোই হুবহু অনুচ্ছেদের লাইন তুলবে না। প্রশ্ন বুঝে নিজের থেকে উত্তর করবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কথা লিখবে না।

বিরামচিহ্ন অনুশীলনের ক্ষেত্রে পাঠ্যবইয়ের গদ্য রচনাগুলো থেকে ছোট ছোট অনুচ্ছেদ বাছাই কর এবং সেগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য কর। বিগত বছর তোমাদের প্রশ্নের ধরনে নতুন সংযোজিত হয়েছে- অনুচ্ছেদ পড়ে প্রশ্ন তৈরিকরণ। এ প্রশ্নের উত্তর লিখনে প্রশ্নটি তৈরি করে তুমি খেয়াল কর উত্তরটি অনুচ্ছেদে আছে কিনা। কবিতাংশ থেকে যে প্রশ্ন আসে তার প্রস্তুতিতে প্রত্যেক কবিতার বিশেষ অংশ চিহ্নিত করে তার মূলভাব ও সেখান থেকে দুই ও তিন নম্বরের দুটি করে প্রশ্নের উত্তর বাসায় বসে নোট করে রাখবে। কবিতাংশের মূলভাব লিখতে গিয়ে কখনোই পুরো কবিতার মূলভাব লিখবে না। ফরম পূরণে প্রদত্ত তথ্যের প্রতি খেয়াল রাখবে। চারদিকে মার্জিন রেখে একটা বক্স করে নিয়ে তার ভিতরে ফরমটা তুলে নিলে দেখতে সুন্দর লাগবে। পত্র লিখনের ক্ষেত্রে তোমাদের আবেদনপত্র ও ব্যক্তিগতপত্র বাছাই করার সুযোগ থাকতে পারে। প্রশ্নে দু’ধরনের দুটি পত্রই হয়তো দেয়া থাকবে। সেক্ষেত্রে তুমি এখনই ঠিক করে নিতে পার কোন ধরনের পত্র তুমি উত্তর করবে। তবে পত্রের নিয়ম-কানুন তোমাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। পত্রের প্রত্যেক অংশ যথাযথ স্থানে লিখতে হবে।

রচনা লিখনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবে রচনাটি যাতে দুইশ শব্দের কম না হয়। প্রশ্নে উল্লিখিত পয়েন্টগুলোর আলোকেই রচনা লিখবে। রচনায় যদি যুক্তিসংগতভাবে কবিতার লাইন বা মনীষীদের উক্তি ব্যবহার কর তবে রচনার মান ভালো হয়। প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পাঠ্যবইয়ের অন্তর্গত ও বর্হিভূত রচনা উভয়ই পড়তে হবে।

About khan

Check Also

৫০০মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেল রেকর্ড করলেন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী স্রোতশ্রী

পাঁচশ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৪৯৯ নম্বর। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে স্রোতশ্রী রায় নামে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page