Friday , November 27 2020
Breaking News
Home / Education / এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে part 2

এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে part 2

আমি ভাবলাম, হেরে যাওয়ার আগেই হারব কেন? আমি এর শেষ দেখেই ছাড়ব। বাসায় বাবা-মা’ও বলছিল, যেকোনও একটা ছেড়ে দাও। আমার মন বলছিল, আমি ছাড়ব না, কিছুতেই না! জীবনের সাথে এইবেলা একটু জুয়া খেলে দেখিই না কী হয়! মনের কথা শুনতে হয়। এমবিএ প্রোগ্রাম অফিসে ফোন করলাম। সেখানের দায়িত্বে ছিলেন জাকির ভাই।

উনি বললেন, “আইবিএ’র শিডিউল কারওর জন্যই বদলায় না। আপনার শিডিউল বদলান।” আমি বললাম, “এটা তো সম্ভব নয়। আপনাদের তো কয়েকটা স্লট আছে। বিসিএস-এর স্লট তো একটাই।” উনি এরপরও বললেন, “কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আমরা সরি!” এটা বলেই উনি ফোনটা রেখে দিলে জেদ আরও চেপে বসল। পরেরদিনের পরীক্ষার পড়াশোনা শিকেয় তুলে রাখলাম। খোঁজখবর নিয়ে জানলাম, আইবিএ’র এমবিএ’র সেসময়ের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান রাহী স্যার। একমাত্র উনি চাইলেই আমার ইন্টারভিউ’র স্লট চেঞ্জ করা সম্ভব। রাহী স্যার অসম্ভব রাগী একজন মানুষ। আইবিএ’র মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট বাংলাদেশের মধ্যে সেরা।

সে ডিপার্টমেন্টের বেস্ট ফ্যাকাল্টি রাহী স্যার। স্যারের নাম্বার নিলাম। যার কাছ থেকে নাম্বারটা নিলাম, উনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি সত্যিসত্যি রাহী স্যারকে ফোন করবে নাকি?” “হ্যাঁ। কেন?” “আমরা স্টুডেন্টরাই স্যারকে কখনও ফোন করার সাহস করি না। আর তুমি এই কাজে স্যারকে ফোন করবে?” “আমি করব। আমাকে করতেই হবে। আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।” “God bless you, man! You better think twice.” আমি বললাম, “Sometimes life doesn’t give you the opportunity to think twice. It’s the first and the only chance! I must grab it before it’s too late! আমি ফোন করবই। আমি আমার চেষ্টা করব, হলে হবে, নাহলে নাই। চেষ্টা না করলে তো হবেই না। Thank you, ভাইয়া!” উনার সাথে কথা শেষ করেই কোনও চিন্তাভাবনা না করে দিলাম রাহী স্যারকে ফোন। খুবই গম্ভীর কণ্ঠস্বরের একজন মানুষ।

কথা বলতেই ভয় লাগে। কিন্তু আমার তো আর হারানোর কিছু নেই। আমি শুধু এটা জানি, আমি আইবিএ’তে লিখিত পরীক্ষায় পাস করেছি এবং আমার ইন্টারভিউ আইবিএ’কে নিতে হবে। আমি সত্যিই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলাম। আমি এক নিঃশ্বাসে আমার সমস্যাটি বলে ফেললাম। রাহী স্যার বললেন, “You silly kid! You’ve dared to call Rahi Sir for this! Did you think I am your friend? It’s not my business whether you can attend the viva board or not. You have only 2 choices: Leave IBA, or, Leave BCS.” অসীম বিস্ময়ে আমি নিজেকে বলতে শুনলাম, “Sir, I have called you to hear about the third choice. If you don’t have that, please make it for me. I know I’ll be at IBA.”

স্যার প্রচণ্ড উচ্চস্বরে ফোনে বললেন, “You are a stupid little boy. You just know nothing about the things here! Don’t waste my time. I am busy!” “Sir, please give me a chance. I am………” স্যারকে আর শোনাতে পারলাম না, এর আগেই ফোনটা কেটে দিলেন। আমি বুঝে উঠতে পারিনি, কী হয়েছে, শুধু এটা আরও শক্তভাবে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করল, আমি আইবিএ’তে পড়বই। বিসিএস’কে সেই মুহূর্তে কিছু সময়ের জন্য ম্লান মনে হল। কালকে পরীক্ষায় যা হয় হবে। এখন আগে আইবিএ’র ব্যবস্থাটা করতে হবে। দিলাম ফোন প্রোগ্রাম অফিসে। জিজ্ঞেস করলাম, “রাহী স্যারকে কখন আসলে পাওয়া যাবে?” “মানে?” “স্যার আমাকে দেখা করতে বলেছেন।” “স্যারকে জিজ্ঞেস করে নেন, কখন আসলে উনার দেখা পাবেন।” (সাহস করে মিথ্যে বলে ফেললাম….) “স্যার বললেন, প্রোগ্রাম অফিসে ফোন করে জেনে নিতে।

আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে বলেছেন? কী বলেন! আচ্ছা লাইনে থাকেন, স্যারের ক্লাস শিডিউলটা দেখি।” আমাকে জাকির ভাই জানালেন নেক্সট ফ্রাইডে’তে সন্ধ্যায় এলে স্যারকে পাওয়া যাবে। ‘থ্যাংকয়্যু ভেরি মাচ’ বলে ফোনটা রেখেই সাথেসাথে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলাম বাসের টিকেট কাটতে। চট্টগ্রামের গরীবুল্লাহ্ শাহর মাজারের ওখান থেকে ইউনিকের ননএসি বাসে বৃহস্পতিবার রাতের জন্য ঢাকার টিকেট কাটলাম। পরদিন প্রচণ্ড মানসিক চাপ নিয়ে বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম পত্র পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষার হলেও মাথায় ঘুরছিল, “রাহী স্যার আমার কথা রাখবেন তো?” পরীক্ষার খাতায় ভুলে কয়েকবার ‘রাহী’ শব্দটা লিখে ফেলেছিলাম, পরে অবশ্য কেটেও দিয়েছি।

About khan

Check Also

৫০০মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেল রেকর্ড করলেন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী স্রোতশ্রী

পাঁচশ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৪৯৯ নম্বর। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে স্রোতশ্রী রায় নামে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page