Friday , November 27 2020
Breaking News
Home / Education / এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে part 3

এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে part 3

ফ্রাইডে’তে বিকেলের আগেই আইবিএ’তে হাজির হয়ে গেলাম। এমবিএ প্রোগ্রাম অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। জাকির ভাই সেসময় ছিলেন না, ২ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় এলেন। গিয়ে পরিচয় দিলাম। “ও আচ্ছা, আপনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন। রাহী স্যার ইন্টারভিউ’র শিডিউল চেঞ্জ করার ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলবেন বলেছেন? আসলেই??” “জ্বি, আমাকে দেখা করতে বললেন তো!” আমরা কথা বলছিলাম, একটু পরেই রাহী স্যার এলেন। প্রোগ্রাম অফিস হয়েই উনার রুমে ঢুকলেন। সৌম্যদর্শন গম্ভীর প্রকৃতির একজন মানুষ। স্যারের বসার রুমটি প্রোগ্রাম অফিসের ঠিক পাশেই।

জাকির ভাই বললেন, “আপনি সোফায় বসেন, আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করে দেখি, এখন ফ্রি আছেন কি না।” স্যারকে “চট্টগ্রাম থেকে সুশান্ত পাল নামে একজন আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন, আপনি আসতে বলেছিলেন” বলাতে স্যার সাথে সাথেই অনেকটা চিৎকার করে বলে উঠলেন, “আমি কাউকে আমার সাথে দেখা করতে আসতে বলিনি। ওকে চলে যেতে বল। ডিসগাস্টিং!” জাকির ভাই আমাকে বললেন, “স্যার দেখা করবেন না, আপনি চলে যান।” “আমি চলে যাব, তবে স্যারের সাথে দেখা করে তারপরই যাব। ভাই, আমি ফিরে যেতে আসিনি। আমাকে দেখা করতেই হবে।” অনেকটা জোর করেই স্যারের রুমে অনুমতি না নিয়েই ঢুকে গেলাম। আমি খুবই বিনীতভাবে “আসসালামুয়ালাইকুম স্যার” বলার পর সালামের উত্তর দিয়ে স্যার বললেন, “কী চাই?” তখন রুমে আরও কয়েকজন স্টুডেন্ট ছিল যারা বিভিন্ন কাজে স্যারের কাছে এসেছিল। “স্যার, আমি আপনাকে পরশু সন্ধ্যায় ফোন করেছিলাম।” “Is it my duty to remember your call? Get out!” কিছুই না বলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলাম। Get out!

কথাটি আমার মাথায় কাজ করেনি, সেসময় আমি শুধু এইটুকুই জানতাম যে, আমি রাহী স্যারের সাথে শিডিউল চেঞ্জ করার ব্যাপারে কথা বলব, এবং স্যার নিশ্চয়ই তা করতে রাজি হবেন। এভাবে করে প্রায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর স্যার বললেন, “Why are you standing here like a statue?” টাইমস্লট চেঞ্জ করার বিষয়ে একটা অ্যাপ্লিকেশন স্যারের টেবিলের সামনে ভয়ে-ভয়ে রেখে বলতে শুরু করলাম, “স্যার, আমি গত পরশু আপনার সাথে ফোনে কথা……..” “Speak in the language I am using now.” “Sir, my interview has been scheduled on the next Monday at 10 in the morning. I am appearing at the 30th BCS written exam. I have an exam at the same time. So, I request you to shift my schedule to another convenient time-slot.” “Sorry, we cannot.” “Please Sir! Otherwise,

my dream to be here will be shattered.” “Let it be. Just go for BCS. You will do better being a civil servant.” “But Sir, it’s uncertain.” “Is being here certain for you?” “No Sir, that’s why I cannot leave any of these 2 opportunities. Please Sir, give me a chance. Do me a favour. I will be ever grateful, Sir.” “তোমার একজাম কয়টায়?” “১০টায়, স্যার।” “কতক্ষণের?” “৩ ঘণ্টার, স্যার।” “ওকে ঠিক আছে, একজাম দিয়েই চলে এস। ১:৩০টার মধ্যে আসতে পারবে তো?” বুঝলাম, স্যার ভুলেই গেছেন যে আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি।

“স্যার, আমি চট্টগ্রাম থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি।” “Stupid! We cannot change our schedule for you! Are you Mr President?” “No Sir, I just want to be your student! I will do anything you tell me to do. Please give me a chance, Sir!” “ভাই দেখ, তুমি এমনিতেই ১টায় পরীক্ষা শেষ করে চট্টগ্রাম থেকে এসে পরীক্ষা দিতে পারবে না। রাত ১০টায় নিলেও পারবে না। রাস্তার অবস্থা তো ভাল না, প্রচুর জ্যাম থাকে। বিসিএস’টা ভালভাবে দাও। এমবিএ পরেও করতে পারবে।” “স্যার, আমি সন্ধ্যায় আসতে পারব।” “কীভাবে? প্লেনে?” “জ্বি স্যার।

আমাকে একটা সুযোগ দিন, স্যার।” “আচ্ছা। পরেরদিন একজাম নাই তোমার?” “আছে স্যার। আমি ম্যানেজ করতে পারব। রিটার্ন টিকেট কেটে ফেলব।” “কয়টার মধ্যে আসতে পারবে?” “স্যার, আপনি বলেন।” “তোমার একজাম শেষ হবে ১টায়। হুম……. ওকে, তাহলে তুমি ৩টার বোর্ডটাতে আসতে পারবে?” “জ্বি স্যার, আমি ৩টায় আসতে পারব।” “তুমি কি জানো ওইসময়ে ফ্লাইট আছে?” “জানি না, স্যার। জেনে নেবো।” “৩টার দিকে একটা ফ্লাইট আছে বোধ হয়।” “কয়টায় আসতে পারবে?” “৪টায়, স্যার?” “বোকা ছেলে! তোমার মাথা কাজ করছে না। চট্টগ্রাম থেকে ৩টায় প্লেনে উঠে ৪টায় কীভাবে এয়ারপোর্ট থেকে আইবিএ’তে আসবে? ঢাকা শহর সম্পর্কে তোমার কোনও ধারণাই নাই। ওকে, তুমি ঠিক সোয়া ৫টার মধ্যে চলে আসবে। You will be last person in that board. এরপরে আসলে কিন্তু কিছুই করা যাবে না। সন্ধ্যার বোর্ডটা এক্জিকিউটিভ এমবিএ’র। ওখানে তোমার ভাইভা নেয়া সম্ভব নয়। ওকে?” “থ্যাংকয়্যু, স্যার।” “Youngman, you have decided to play with your life! Best of luck!” “প্রার্থনা করবেন, স্যার। আমি পারব!” আমার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিল। বুঝলাম, এই মানুষটার বাইরেরটা অনেক কঠিন হলেও ভেতরটা অনেক নরোম। স্যারের জন্য অনেক প্রার্থনা করে আইবিএ থেকে চলে এলাম। আজিজে গিয়ে কিছু বই কিনলাম। এরপর ফকিরাপুল গিয়ে রাত ১০টার দিকে ইউনিকের ননএসি বাসে সকালে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছলাম।

আমি এর আগে কখনওই প্লেনে চড়িনি। আমি ভেবেছিলাম, যেখানেই যাই না কেন, প্লেনে চড়লেই বুঝি পাসপোর্ট লাগে। বড় ভাই পাসপোর্টের কাজ করে এমন এক বন্ধুকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, ঢাকায় যাওয়ার ইমার্জেন্সি পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? ও তো হেসেই খুন! বলল, “দোস্তো, পাসপোর্ট দিয়ে কী করবি? প্লেন আর বাস একই জিনিস। একটা আকাশে ওড়ে, আরেকটা রাস্তায় দৌড়ায়। এই আরকি! তুই জাস্ট একটা টিকেট কিনে ফেল। ব্যস! কোনটা ভাল? জিএমজি’তে যেতে পারিস। ওটা ভালই।” আমি জানতাম না যে প্লেনের টিকেট কাটতে এয়ারপোর্টে ছুটতেই হয় না।

টিকেটের দাম জানতাম না। সকালে বাস থেকে নেমেই ডাচবাংলা ব্যাংকের বুথে গিয়ে ১০ হাজার টাকা তুললাম। এরপর একটা সিএনজি’তে চেপে এয়ারপোর্টে ছুটলাম। জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাউন্টার থেকে ১৭ তারিখ সোমবারের ৩:২০টার ফ্লাইটের একটা টিকেট কিনলাম। দুপুরে ওটাই চট্টগ্রাম-ঢাকা’র প্রথম ফ্লাইট। রিটার্ন টিকেট করলাম একই দিনের রাত পৌনে আটটার ফ্লাইটে। মনে হচ্ছিল, চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, আমি আইবিএ’তে ক্লাস করছি! অদ্ভুত একটা দৃশ্যকল্প! অনেকটা যুদ্ধজয়ের আনন্দে হাসিমুখে বাসায় ফিরলাম। যেন আমি আইবিএ’তে চান্স পেয়েই গেছি! রাতে আইবিএ’র ভাইভা’তে কী কী জিজ্ঞেস করতে পারে, সে সম্পর্কে বিভিন্ন গাইড আর ইন্টারনেট থেকে প্রিপারেশন নেয়ার চেষ্টা করলাম। ৪-৫ ঘণ্টা ওটাই পড়লাম। একই সময়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম: How much time does it take to reach Dhaka University from Dhaka International Airport? Is it possible to reach in 40 minutes? Friends, any suggestion, please? সত্যিই খুবই সরল ধরনের মানুষ ছিলাম সেসময়। পৃথিবীটাকে খুব সহজভাবে দেখতাম।

ঢাকা শহরে খুব একটা আসা হয়নি বলে ২০১১ সালে এয়ারপোর্ট থেকে শাহবাগে যে ৪০ মিনিটে পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেটা জানতাম না। সবাই বলছিল, এয়ারপোর্ট থেকে ভার্সিটি ক্যাম্পাসে পৌঁছতে বিকেলে মিনিমাম ২ ঘণ্টা সময় লাগবে। স্ট্যাটাসের রিপ্লাইয়ে বিচিত্র ধরনের সব কমেন্ট এসেছিল। অনেকেই আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করা শুরু করে দিল। বন্ধুদের কিছু-কিছু সাজেশন শেয়ার করছি: “দৌড়ালে সম্ভব।” “খুব ভাল হয়, যদি তুমি জগিং করে করে ভার্সিটিতে যাও। বিকেলের ব্যায়ামটাও হয়ে যাবে!” “খামাকা প্লেনের টিকেট করলে! ওই টাকা দিয়ে আমাদেরকে একটা পার্টি দিয়ে দিলে আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করতাম আর তোমার বিসিএস’টা হয়ে যেত! হাহাহাহা…..” “ইয়াংম্যান! তোমার বয়স কম, প্লেন থেকে নেমেই একটা দৌড় দিয়ো! দেখবে, সময়ের আগেই পৌঁছে গেছ!” “শোনো, অমুক বাস অমুক-অমুক রুটে চলে।

তুমি ঝুলতে-ঝুলতে ঘুমাতে-ঘুমাতে ঠিকই আইবিএ’তে পৌঁছে যাবে!” এরকম অনেক উদ্ভট সব কমেন্ট পেলাম। আমি তখন ঢাকার একেবারে কিছুই চিনি না। কাদায় পড়েছি, সবাই একটু লাথি না মারলে হয় নাকি? মনে হতে লাগল, জীবনটা এমনই! লোকে টেনে তুলতে হাত বাড়াতে পারে না, লাথি মেরে ফেলে দিতে পা ঠিকই বাড়াতে পারে! কারওর কোনও কথাতেই বিন্দুমাত্রও হতাশ না হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম, কেউ ভাল কোনও বুদ্ধি দেয় কি না দেখার জন্য। কারওর কোন রিপ্লাইয়েই বিন্দুমাত্রও রিঅ্যাক্ট করিনি সেদিন। মানুষ বিপদে পড়লে কেমন অসহায় শান্ত হয়ে যায়।

আমি শুধু এইটুকুই জানতাম, “আমি ১৭ তারিখ আইবিএ’তে ইন্টারভিউ দিচ্ছি।” একজন লিখল, “আপনি বাইকে যেতে পারেন। এর চাইতে দ্রুত কোনওভাবেই ভার্সিটি ক্যাম্পাসে পৌঁছানো সম্ভব নয়।” কেউ-কেউ সেই বুদ্ধিটাকে সাপোর্টও করল। দুএকজন ট্যাক্সি ক্যাবের কথা বলল। বাইকের পক্ষেই সমর্থন বেশি ছিল। আমি এর আগ পর্যন্ত লাইফে বাইকে চড়েছিলাম গুনেগুনে বড়োজোর ২-৩ বার। ঢাকায় থাকে, বাইক আছে, এমন কাউকেও তেমন একটা চিনি না, কিংবা চিনলেও তখন মাথা একটুও কাজ করছিল না। এখন মাঝেমাঝে ভাবি, হায়!

একটা বাইক ম্যানেজ করার মতো সাধ্যও আমার সেসময় ছিল না। লিখলাম, “My flight is scheduled to land at Dhaka Airport at 4.10 pm on 17 January. I must reach Dhaka University at or before 5.15 pm. I’ve an interview at IBA at that time. . . . Can’t I do it? Is it not possible? I need to do it at any cost. As I don’t know about the routes of Dhaka City, I’m asking for your help. Dhaka City is an unknown city to me. Can a taxi cab help me reach there in 1 hour? I can’t be late, otherwise I’ll miss the interview schedule. I’ve managed that schedule today through an application. . . Can a bike be a better solution? Or, something else? I’m in great trouble. . . . ” এটা দেয়ার পর আবারও লোকজনের ঠাট্টা, হাসি-তামাশা শুরু হল। যে বিখ্যাত ভদ্রলোক (উনি বাংলাদেশের শীর্ষ সফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন) আমাকে জগিং করে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, তাকে রিপ্লাই দিলাম,

“Thank you Sir for you ‘jogging’ suggestion. I was also seriously thinking of this option. Yes, I’ll surely manage to reach in time by vehicles, on foot, again by vehicles, again on foot . . . . And, I’ll go. I’ll be there in time by any means.” একজন বললেন, “শিডিউলটা আরও একবার বদলাও।” আমি লিখলাম, “The schedule can’t be changed! Hopefully, there will happen some miracle and I’ll manage to avail the schedule in time.” এক ছোটভাই লিখল, “দাদা, আপনি ট্যাক্সিক্যাবেই যান। তবুও একবার বাসে ট্রাই করতে পারেন। ঢাকার বাস ভালই দৌড়ায়!” উত্তর দিলাম, “Brother, I’m not surely making any attempt of getting on a bus! That’ll be horrible, you know.

I was just seeking for a suggestion as I don’t know about the route. Thanks for the suggestion. I think a CNG powered taxi can help me in this regard. A taxi-cab is prone to getting stuck up in the congestion forever. A bike could be a better solution. But, I can’t manage it.”

About khan

Check Also

৫০০মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেল রেকর্ড করলেন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী স্রোতশ্রী

পাঁচশ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৪৯৯ নম্বর। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে স্রোতশ্রী রায় নামে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page