Wednesday , November 25 2020
Breaking News
Home / Education / বিসিএস সিলেবাস ও বাস্তবতা

বিসিএস সিলেবাস ও বাস্তবতা

বিসিএস এর মত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডারদের মেধা যাচাই হবে সেটাই প্রত্যাশিত। এই মেধা যাচাই প্রক্রিয়া হতে হবে যুগোপযোগী ও বাস্তবতার নিরিখে। টেকনিক্যাল ক্যাডারদের মধ্যে ডাক্তারদের জন্য ৩৯ তম বিসিএস অনেক বড় একটি সুযোগ। সেজন্য পিএসসি এই বিসিএস এর জন্য আলাদা সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। এধরনের পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এর আগে ৩৩ তম বিসিএস-এ অনেক ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলেও মেডিকেল সায়েন্স সিলেবাসটি ছিল গতানুগতিক।

এবার ৩৯ তম বিসিএস -এর সিলেবাসের অর্ধেক সাধারন শিক্ষা এবং বাকি অর্ধেক মেডিকেল সায়েন্স (মোট ২০০ মার্ক). সাধারণ শিক্ষার সিলেবাস নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন নেই। পিএসসি মেধা যাচাইয়ের জন্য যেভাবে চাইছেন সেভাবেই নেবেন। কিন্তু মেডিকেল সায়েন্সের সিলেবাসের সাথে আমাদের মাঠ পর্যায়ের প্রায়োগিক দিক দিয়ে ব্যাপক পার্থক্য আছে বলে মনে হয়েছে। মেডিকেল সায়েন্সে সিলেবাস দেয়া হয়েছে – ANATOMY. PHYSIOLOGY. PATHOLOGY. MEDICINE. উল্লেখিত ৪ ক্যাটাগরিতে জ্ঞানার্জন করা স্বাস্থ্য ক্যাডারদের অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু এসব জ্ঞান আমাদের উপজেলা. জেলা লেভেলে ক্যাডার অফিসারদের কতটা সহায়ক হবে সেটাও প্রশ্নবোধক। সিভিল সার্ভিসে ডাক্তারদের কাজের জন্য প্রশাসনিক জ্ঞান (স্বাস্থ্য প্রশাসন) এবং কর্মমুখী জ্ঞান বেশি প্রয়োজন। Anatomy. Physiology, pathology জ্ঞান বেশি প্রয়োজন চিকিৎসকদের পোস্ট গ্রেজুয়েশন পরীক্ষার জন্য, সিভিল সার্ভিস পরিচালনার জন্য নয়। অথবা এই বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তরূপে দিয়ে সিলেবাসে আরো বাস্তবমুখী টপিক আনা যেতে পারতো।

গত সাড়ে তিন বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।। উপজেলায় চাকুরিকালীন সময়ে একাধারে Medical officer. MODC. RMO এবং UH&FPO এর মত দায়িত্বও পালন করতে হয়েছিল। সাড়ে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি Medicine এর জ্ঞান ছাড়া আপাতত এই সিলেবাস থেকে তেমন কিছু কাজে লাগবে না স্বাস্থ্য ক্যাডার অফিসারদের্। তাই সিলেবাস প্রণয়নে নিম্নোক্ত কিছু বিষয় থাকা দরকার ছিল বলে মনে করছি।

১. উপজেলায় নারী-পুরুষ নির্বিচারে যেকোন ডাক্তারকে প্রসূতি/লেবার বিষয়ক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। management of PPH. Normal delivery সহ আরো কিছু প্রাথমিক অবস্ট্রেট্রক্স এবং নিওনেটাল কম্পলিকেশন বিষয়ক জ্ঞান অবশ্যই থাকা লাগবে। অন্যথায় নার্সদের উপর নির্ভর করে সেবা দেয়া ছাড়া উপায় নাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ডাক্তারদের এসব বিষয়ে জানা থাকে বা প্রশিক্ষণ পেয়ে যায়। ।
অথচ সিলেবাসে গাইনী/শিশু পার্ট নাই।

২. মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পাবলিক হেলথ নিয়ে ব্যাপক নলেজ থাকতে হবে। উপজেলায় কাজ অনেকটাই প্রিভেন্টিভ টাইপ আর মাঠকর্মী নির্ভর হয়। সেক্ষেত্রে তাদের ম্যানেজ করার জন্য কমিউনিটি মেডিসিন বা পাবলিক হেলথের বেসিক বিষয়বস্তু, বিশেষত আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে করনীয় সম্পর্কে মৌলিক শিক্ষা জরুরী ছিল।
পাবলিক হেলথ বিষয়ে এই সিলেবাসে টপিক দেয়া নাই।

৩. উপজেলা লেভেলে হাসপাতালে আগত রোগীদের বিরাট অংশ মারামারি করে আসা (assault). তাদের ম্যানেজ করার জন্য অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরী।
এই বিষয়ে নলেজ না থাকলে ডাক্তার নিজেই এসল্টেড হতে পারে। অথচ মেডিকেল জুরিস্প্রুডেন্স নিয়ে সিলেবাসে কিছুই নাই। মেডিসিন এর এক পার্টের নিচের অংশে Ethical behavior আর Medical Certificate টপিক আকারে দেয়া আছে। অথচ ফরেনসিক মেডিসনের পূর্ণ জ্ঞান লাগবে উপজেলা বা জেলার হাসপাতালগুলোতে টিকে থাকতে হলে। identification, police case management. Simple or Grievous hurt বিষয়ে বিস্তারিত জানা থাকা লাগবেই। সার্টিফিকেট ইস্যু সংক্রান্ত যাবতীয় জ্ঞান আমরা শিখেছি ঠেকে ঠেকে। এবার বিসিএস এ জুরিস্প্রুডেন্স থাকলে চিকিৎসক ও রোগী উভয়েরই উপকার হতো।

৪. প্রত্যেক ডাক্তারই বেসিক সার্জিক্যাল বিষয়গুলো জানেন। মাইনর সার্জারী করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সাধারণত সব উপজেলাতেই আছে। এসব সার্জারীর জন্য নূন্যতম জ্ঞান থাকলেও চলে। কিন্তু সিলেবাসে সার্জারীর ব্যাপারে কোন টপিকই রাখা হয় নাই।

এনাটমি, ফিজিওলজি সাবজেক্টে বেসিক কমিয়ে মেটার্নাল মেডিসিন/অবস্ট্রেক্টক্স এবং পাবলিক হেলথ, জুরিসপ্রুডেন্স এর মত বিষয়গুলো নিয়ে আসা প্রয়োজন ছিল। তবে একথা মানতেই হবে এই সিলেবাসে মেডিসিন পার্টটি অবশ্যই এক্সিলেন্ট হয়েছে। বিশেষ করে ইমার্জেন্সি টপিকগুলোর সবগুলোই উপজেলা লেভেলে প্রতিনিয়তই পাওয়া যাবে।

এবারই যেহেতু ডাক্তারদের স্পেশাল বিসিএস হচ্ছে তাই এই সিলেবাস হওয়া দরকার ছিল আমাদের ডাক্তারদের জন্য আরো বাস্তবমুখী।

About khan

Check Also

৫০০মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেল রেকর্ড করলেন উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী স্রোতশ্রী

পাঁচশ নম্বরের মধ্যে পেয়েছেন ৪৯৯ নম্বর। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে স্রোতশ্রী রায় নামে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page