Tuesday , December 1 2020
Breaking News
Home / Education / বিসিএস দিয়েই কি সব গ্রাজুয়েট দের স্বপ্ন পূরণ হয়

বিসিএস দিয়েই কি সব গ্রাজুয়েট দের স্বপ্ন পূরণ হয়

এটা স্বয়ং বিসিএস ক্যাডাররাও স্বীকার করেন, সবার বিসিএস দেওয়ার দরকার নেই। এবং সব গ্রাজুয়েট রা কখনোই বিসিএস ক্যাডার হতে পারবেনা।বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) শিক্ষার্থী বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং আর মেডিকেল থেকে পাশ করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে মিনিমাম সাড়ে তিন লাখ ( ৩৫০০০০)। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আরও প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৯৫ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন সংখ্যা ৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৩ টি। এর মধ্যে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮ হাজার ৩৪৩ টি। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ লাখ ৮৯ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয় অধীভুক্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪ লাখ। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি কোর্স রয়েছে।
এই ৬-৭ লাখ শিক্ষার্থী প্রতিবছর গ্রাজুয়েশন শেষ করে বের হয়।

৩৮ তম বিসিএসে আবেদন করেছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার প্রার্থী! প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশের গ্রাজুয়েটদের সংখ্যা বেশি ! বিশ্বের প্রায় এমন ৪০ টি দেশ আছে, যাদের জনসংখ্যা বাংলাদেশে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে আবেদনকারীর সংখ্যার চেয়েও কম!! শুধু অস্ট্রেলিয়া আর ওশেনিয়াতেই আছে এমন ১৩ টি রাষ্ট্র!!!
অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ! তাহলে আমরা পিছিয়ে কেন?

বিসিএসে সাধারণত ক্যাডার নিয়োগ হয় ২০০০ এর কম বা বেশি।৫৫% কোটা বাদ দিলে থাকে, প্রায় ৮০০-৯০০। অর্থাত, পড়াশোনা করে ক্যাডার হবে ৮০০-৯০০, বাকিরা কম পড়াশোনায়ই কোটার যোগ্যতায় হতে পারবে। তার মাঝে আবার, প্রফেশনাল ক্যাডারে সবাই পরীক্ষা দিতে পারবেনা। প্রায় ১৩-১৪ টি ক্যাডার প্রফেশনালদের হাতে। সব মিলিয়ে ৪০০ এর মত আসন পাওয়া যায়, যেখানে সবাই আবেদন করতে পারে। তাহলে, এই সাড়ে ৩ লাখের মধ্যে মূলত প্রতিযোগিতা হবে ৪০০-৫০০ টি আসনের জন্য। ১ জনের ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা ০.১১%, অর্থাত হিসেব করলে দেখা যায়, প্রতি প্রায় ১০০০ জনে ১ জন ক্যাডার হবে। ভবিষ্যতে প্রতিযোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে।৩৬ তম বিসিএসে আবেদন করেছিল ২ লাখেরও বেশি। ৩৭ তম বিসিএসে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার। আর ৩৮ তম বিসিএসে ৩ লাখ ৮৯ হাজার।

এই হারে বাড়তে থাকলে আগামী এক দশকে এই সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে। আমরা যদি সাড়ে ৩ লক্ষ বাদ দিয়ে প্রতিযোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ধরেও হিসেব করি ( কারণ সব প্রার্থী ভাল প্রস্তুতি না নিলেও বিভিন্ন কলেজ ভার্সিটির অন্তত ৫০ হাজার প্রার্থী ক্যাডার পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দেয়), তাহলে ১ জনের ক্যাডার হওয়ার সম্ভাবনা হয় ০.৮%, অর্থাত প্রতি ১২৫ জনে ১ জন ক্যাডার হবে।

বাকি সবাই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই। ওদের কি হবে?
পরীক্ষা যদি ১০ হাজার দেয়, তাহলে মোট ২ হাজার ক্যাডার হবে, আবার পরীক্ষা যদি ১০ লাখও দেয়, এদের মাঝে ১ লাখও যদি খুব ভাল প্রস্তুতি নেয়, তবুও ক্যাডার হবে ২ হাজার ই। আমরা শুধু একটা জায়গায় চাপ বাড়াচ্ছি। অথচ উচিত ছিল, যে যেই ব্যাপারে আগ্রহী এবং দক্ষ, সে সেই কাজে যুক্ত হওয়া। তাহলে কাজে স্বতঃস্ফূর্ততা থাকত।

কিন্তু বাংলাদেশে স্বতঃস্ফূর্ত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।
২০ হাজার ছাত্র যদি অনার্সের পর দৈনিক ৮ ঘন্টা করে ৪ বছর বিসিএস পড়ে, তাহলে ২০০০০ x ৩৬৫ দিন x ৪ বছর x ৮ ঘন্টা = ২৩৩৬০০০০০ ঘন্টা ব্যয় হয় বিসিএস পড়ার পিছনে। প্রায় ২৩ কোটিরও বেশি! অথচ, এই সময়টাতেও সবাই সফল হবেনা, ৪ বছরে ২ টা বিসিএসে হয়ত সর্বোচ্চ ১ হাজার সফল হবে। বাকিরা কি করবে? শিক্ষিত যুবকদের ২৩ কোটি ঘন্টা সময় উৎপাদনশীল কাজে লাগালে, উচ্চশিক্ষায় ব্যয় করলে অথবা গবেষণায় ব্যয় করলে বাংলাদেশ ২০ বছর এগিয়ে যেত ১ বছরের মাঝেই।
♦♦উচ্চশিক্ষা এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা কোথায় কাজে লাগে?

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page