Thursday , September 23 2021
Breaking News

সন্তান পরিবার সামলেও ১ম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডার (বিসিএস অসাধারন অনুপ্রেরণা)

মনোযোগ সহকারে, রুটিন করে পরিকল্পিতভাবে পড়াশোনা করলে একসাথে অনেক কাজ সামলেও পাওয়া যায় সর্বোচ্চ সফলতা।জীবনের বাস্তবতাকে সমস্যা হিসেবে অভিযোগ না করে সম্ভাবনায় রুপান্তর করে ধরা যায় সফলতার সোনার হরিণ।তেমনি স্বামী, সন্তান পরিবার সামলে পুনম জীবনের প্রথম ৩৬তম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডারে হয়েছেন দশম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও মাস্টার্স শেষ করা এই সফল শিক্ষার্থীর পুরো নাম হুমাইরা চৌধুরী পুনম।স্নাতক ও মাস্টার্সে যথাক্রমে সিজিপিএ ৩.৬৫ ও ৩.৬৫ নিয়ে করেছেন ভালো ফলাফল।এর জন্য তার সারাদিন রাত পড়তে হয়নি। অল্প সময় পড়েছেন কিন্তু পূর্ণ মনোযোগ সহকারে।

এতো অল্প পড়েও ভালো ফলাফল করায় সহপাঠি শিক্ষকরা তাকে বলতেন ‘গড গিফটেড ব্রেইন’।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করতেন সমান তালে। ভলিবল, হ্যান্ডবল, থ্রোয়িং, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রয়েছে তার অসংখ্য পুরুষ্কার, পেয়েছেন ৫০টিরও অধিক সার্টিফিকেট ও বই।

পুনম স্নাতক পরীক্ষার শেষ হবার সাথে সাথেই বিয়ে হয়ে যায়।বিয়ের পর স্বামী ও সংসার এর দায়িত্বে পড়াশোনা বাদ না দিয়ে বরং স্বামী মো. সফিক মজুমদার সুমনের উৎসাহ ও দিক নির্দেশনায় পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হন।এরপর মাস্টার্সে রেজাল্টের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন যথাযথ।

হুমাইরা মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েই বিসিএসের প্রস্ততি নেয়া শুরু করেন।তার এই বিসিএস জার্নিতে ছায়ার মত পাশে থাকেন তার স্বামী।হুমাইরা বলেন প্রতিদিন রাতে আমি যেন তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে না পড়ি, সে জন্য সেও আমার সাথে জেগে থাকতো।পরীক্ষার সময় আমাকে কাজ করতে দিতেন না।

সে নিজে সব করে দিতেন।প্রতিদিন অফিসে যাওয়র সময় পড়া দিয়ে যেতেন এবং অফিস থেকে এসে আবার সারাদিনের পড়া ধরতেন।এভাবে প্রিলি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দ্বিগুণ উদ্যমে লিখিত পরীক্ষার প্রস্ততি নেয়া শুরু করেন।যেহেতু ভালো ক্যাডার পাওয়া মূলত লিখিত পরীক্ষার উপর নির্ভর করে তাই লিখিত এর জন্য তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রস্তুতি নেন।

বিভিন্ন সিরিজের বই এর পাশাপাশি নিয়মিত পত্রিকা পড়তেন ও খবর শুনতেন।প্রচুর মডেল টেস্ট দিয়ে জ্বালিয়ে নিতেন নিজের প্রস্ততি।এভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্ততি নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।লিখিত প্রতিটি পরীক্ষাই তার আশানুরুপ হয়। এরপর ভাইবার জন্যও পড়াশোনা করেন টুকিটাকি।পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বের হলে পররষ্ট্র ক্যাডারে ১০ম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।পুনমের গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলায়।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে তিনি নিয়মিত প্রথম হতেন।শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশ করেন।উভয় পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ফাইব পেয়ে উত্তীর্ণ হন।পরিবারে তিন ভাইবোনের মধ্যে ‍পুনম সবার বড়।ছোটবেলা থেকে এইচএসসি পর্যন্ত তিনি তার মায়ের তত্ত্বাবধায়নে পড়াশোনা করেন।

বাবা আওলাদ হোসাইন চৌধুরী, মোটর পার্টস ব্যবসায়ী। মা মোর্শেদা নাসরীন গৃহিণী। মাই তাকে সবসময় স্বপ্ন দেখাতেন জীবনে অনেক বড় হতে হবে।আর সেই স্বপ্নের সাথী হিসেবে পেয়েছেন তার স্বামীকে।হুমাইরার মতে বিসিএস এর মত দীর্ঘ প্রস্ততিতে ধৈর্য ও অদম্য পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের সাহায্য খুব প্রয়োজন। পুনমের এখন পরিকল্পনা নিজেকে একজন দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে গড়ে তুলে দেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।

About khan

Check Also

চাকরি ছেড়ে আচার বিক্রি করে ৮ লক্ষ টাকা আয় সামিরার; ৭দেশে রপ্তানি

বগুড়ার মেয়ে সামিরা সামছাদ। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *