Tuesday , December 1 2020
Breaking News
Home / Education / জেনে নিন বিসিএস প্রস্তুতির এ টু জেড

জেনে নিন বিসিএস প্রস্তুতির এ টু জেড

যারা অনার্স প্রথম বর্ষে পড়েন কিংবা দ্বিতীয় বর্ষে অথবা তৃতীয়, চতুর্থ বর্ষে পড়েন কিন্তু জানেন না কিভাবে বিসিএস প্রিপারেশন শুরু করবেন। অথবা অনেকই এমন আছেন যে, অনার্স মাস্টার্স শেষ, বিসিএস ক্যাডার হওয়া স্বপ্ন; কিন্তু কিভাবে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করবেন না জানার কারণে। এমনও হয়েছে যে, অনেকের কাছে এই বিষয়ে জানার জন্য কিংবা গাইডলাইন পাওয়ার জন্য গিয়েছেন কিন্তু পাননি অথবা পেলেও তা মন:পূত হয়নি।
আজ আমি চেষ্টা করবো সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পেতে সাহায্য করতে।

প্রথমে আপনি নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি কোন বিষয়ে দুর্বল। আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন যে বিষয়টা/বিষয়গুলো মনে হয় সেই বিষয় দিয়ে শুরু করুন।

আমি দেখেছি বাংলাদেশের অধিকাংশ চাকরি প্রত্যাশী English এবং Math এ দুর্বল । আবার এর পরের স্থানে আছে বাংলা কিংবা বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলো।

আপনি যদি গণিতে দুর্বল হন আগে গণিতের একটা চার্ট কিনে বেসিক সূত্রগুলো মুখস্থ করে ফেলুন প্রতিদিন ২/৩ টা করে। দৈনিক ২-৩ টার বেশি সূত্র পড়বেন না। কারণ একসাথে বেশি সূত্র পড়লে মনে থাকবে না ভালো করে। যদি এইভাবে পড়েন নিয়মিত, দেখবেন আপনার সব সূত্র মুখস্থ হয়ে গেছে ১-২ মাসের মধ্যে। এর পাশাপাশি দৈনিক রুটিনে ক্লাস ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত টেক্সবুকের অংকগুলো করে ফেলুন। যদি কারো হাতে এতো সময় না থাকে আমি বলবো আপনি অন্তত ৮ম শ্রেণি ও ৯ম-১০ম শ্রেণির গণিত বই ২টি শেষ করেন। আর যদি এই ২টি বইও শেষ করার মতো হাতে যথেষ্ট সময় না থাকে তাহলে আপনাকে ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইটি অবশ্যই শেষ করতে হবে। গণিতে ভালো করার জন্য প্র‍্যাক্টিসের কোনো বিকল্প নেই। তারপর বিসিএস প্রিলিতে আসা বিগত সালের গণিতে প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন। এরপর George’s MP3 Math বইটি বুঝে বুঝে করে ফেলুন, দেখবেন আপনার গণিতে ভয় কেটে গেছে। (প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের সাহায্য নিন কিংবা গ্রুপ স্টাডি করুন) আবারো বলছি গণিতে ভালো করতে নিয়মিত ও বেশি বেশি প্র‍্যাক্টিসের কোনো বিকল্প নেই। এই ভাবে পড়লে বিসিএস রিটেনের ম্যাথের জন্যও আপনাকে বেশি ভাবতে হবে না।

এবার আসা যাক স্টুডেন্টদের জাতীয় সমস্যা ইংলিশের বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। ইংলিশের জন্য আমি আগে বলবো আপনি একটা বেসিক ইংলিশ বই শেষ করুন (যেমন Advance Learners’ Functional English by Chowdhur & Hossain , Applied English Grammar and Composition – by P C Das বইগুলো শেষ করুন বিসিএস প্রিলি সিলেবাস অনুযায়ী। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে ২টি গণিত সূত্র মুখস্থ করার সাথে সাথে Saifur’s Vocabulary থেকে ৫-৬ টি শব্দ মুখস্থ করুন। Vocabulary পড়ার সময় একটু শব্দ করে পড়বেন এবং খাতায় বার বার লিখবেন তাহলে মনে থাকবে বেশি দিন।
অনেকে আবার বলতে পারেন, Vocabulary পড়ি কিন্তু মনে থাকে না, কি করব?

তাদের বলবো, আপনি যখন প্রথমবার Word Meaning পড়েন তখন মনে করবেন প্রথম কিছু মনে থাকবে না, তারপর পড়ুন কিছু মনে থাকবে, আবার পড়ুন ক্রমান্বয়ে মনে থাকার পরিমাণ বাড়বে। Vocabulary বইয়ের মধ্যকার শুধু বড় বড় শব্দগুলো পড়বেন বাংলা অর্থসহ, তারপর সাথে Synonym পড়বেন, তৃতীয়বার মূল শব্দের সাথে Antonym পড়বেন। চতুর্থবার মুল শব্দের সাথে Synonym এবং Antonym মিলেয়ে পড়বেন। এইভাবে পড়লে Effective হবে।

এরপর বেসিক পড়া শেষ হলে “English For Competitive” বইটি কিনে প্র‍্যাক্টিস করা শুরু করে দিন।
মনে রাখবেন আগে বেসিক English Grammar শেষ করতে হবে তারপর প্র‍্যাক্টিস বুক কিনবেন এবং পড়বেন। আগে বেসিক না জেনে পড়লে ভালো করতে পারবেন না ইংলিশে!

তাছাড়া, আপনার হাতে যদি সময় থাকে দৈনিক Daily Star পেপারটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলুন। Daily English Newspaper পড়লে এটা বিসিএস রিটেনেও ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং ও ট্রান্সলেশনে কাজে দিবে।

এরপর আসি বিজ্ঞানের কথায়। যারা সাধারণ স্টুডেন্ট, অর্থাৎ SSC /HSC বিজ্ঞান বিভাগে পড়েননি, তাদের মনে বিসিএস প্রিলির বিজ্ঞান নিয়ে কিছুটা ভয় কাজ করে। আমি বলবো এই নিয়ে আতংকিত বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমিও SSC ও HSC দুটিতেই মানবিক বিভাগে ছিলাম। বিজ্ঞান নিয়ে আমার সমস্যা হয়নি, আপনারও হবে ইনশাল্লাহ। আপনি বিগত সালের বিজ্ঞানের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়লে ১৫ এর মাঝে ১০-১২ এমনিতে পাবেন। আর যদি আনকমন প্রশ্ন আসে সে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, কারণ আনকমন প্রশ্ন আসলে আপনি না পড়লে যারা সাইন্স গ্রুপের স্টুডেন্ট তারাও এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। যেমনটা আমরা ৩৮তম বিসিএস প্রিলির বেলায় দেখেছি, এই ক্ষেত্রে George’s MP3 বিজ্ঞান বইটি আপনাকে সাপোর্ট দিবে।
কম্পিউটার ও ICT তে ভালো করতে Easy Computer বইটি + একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান লিখিত বইটি পড়ে ফেললে কম্পিউটার ও ICT নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
আর অন্যান্য বিষয়ে একটু মনোযোগ দিয়ে পড়লেই ভালো করা যায়।

বি.দ্র: আপনি যেসব বিষয়ে দুর্বল তা দিয়ে শুরু করার পর আপনি যখন দেখবেন যে-আপনি আর কোনো বিষয়ে দুর্বল নয়, তখন আপনার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যাবে। আর মনে রাখবেন বিসিএস হলো মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা, যার মনোবল ও আত্মবিশ্বাস যত বেশি সে তত দ্রুতই সফল হবে ইনশাআল্লাহ!
এগুলো শেষ কারর পর, এরপর বিসিএসের বিগত সালে আসা প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ বুঝে বুঝে ভালোভাবে সমাধান করুন। তারপর আপনি বিষয়ভিত্তিক বিষয়গুলোর উপর পর্যায়ক্রমে প্রস্তুতি নিন।

এই ক্ষেত্রে আপনার ২ ধরনের লাভ হবে:
১. বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা পাবেন
২. বিসিএসে বিগত সাল থেকে হুবহু অনেক প্রশ্ন আসে, অতএব আপনি অনেক প্রশ্ন কমন পাবেন(বিশেষ করে বিজ্ঞান ও ICT অংশে)।
তবে আপনি যখন প্রশ্ন সমাধান করবে বিশেষভাবে জোর দিবেন ৩৫তম-৩৮তম বিসিএস প্রশ্নের উপর, কেননা এগুলো নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন আর এখন এই নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্ন হয়।

বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানের জন্য আপনি প্রফেসর’স প্রশ্নব্যাংক/ওরাকল প্রিলির প্রশ্নব্যাংক ফলো করতে পারেন। আমার লিখিত “BCS Preliminary Analysis” বইয়ে আপনারা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নগুলোর অর্থাৎ ৩৫তম-৩৮তম বিসিএস প্রিলির প্রশ্নের সমাধান পাবেন ব্যাখ্যাসহ সুন্দরভাবে ; এর সাথে সাজেশন ও টেকনিকসহ তো সকল সাবজেক্টের উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থাকছেই।
আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মাসে আপডেট থাকার জন্য “মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স” পড়তে হবে।

আর যাদের হাতে সময় কম বা এত বেশি বই পড়তে পারেন না তারা একটু ধৈর্য ধারণ করে “BCS Preliminary Analysis” বইটির জন্য অপেক্ষা করার জন্য বিশেষ অনুরোধ রইল।

শুধু “BCS Preliminary Analysis” বইটি পড়লেই ইনশাল্লাহ বিসিএস প্রিলি পাশ করতে পারবেন। কিন্তু বেশি বেশি জানার জন্য বেশি বেশি পড়ার বিকল্প নেই।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন এবং জীবনে পরিশ্রম করলে যেন সফল হোন সেই শুভ কামনা রইল। আর হতাশ হওয়ার কিছু নেই; কখনো হতাশ হবেন না। সব সময় আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আল্লাহ সব সময় পরিশ্রমীদের সাথেই আছেন। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে একনিষ্ঠ ও সৎ উদ্দেশ্যে পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না।

আমি নিজেই অনার্স পরীক্ষার পর রেজাল্ট বের হয়নি তখনো, এপিয়ার্ড দিয়ে জীবনের প্রথম বিসিএস ৩৪তম বিসিএসে প্রিলি. রিটেন, ভাইভা পাশ করার পরও পিএসসি আমাকে কোনো ক্যাডার দেয়নি, সেইবার আমি নন-ক্যাডার জব পেয়েছিলাম যদিও সেই জবে আমি জয়েন করিনি। কারণ এরই মাঝে আমি পূবালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে জব পেয়ে গেলাম। তারপর ৩৫তম বিসিএস দিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে ও সকলের দোয়ায় ৩৫তম বিসিএসে এসে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত “বিসিএস ক্যাডার” টাইটেল পেয়ে গেলাম এবং পূবালী ব্যাংকের জবটা ছেড়ে দিলাম। তারপর ৩৬তম বিসিএস দিলাম এডমিন ক্যাডার হওয়ার মনসে কিন্তু পিএসসি দিল না! আবার গত ০২/০১/২০১৮ তে ৩৭তম বিসিএস ভাইভা দিয়ে আসলাম, জানি না আল্লাহ কপালে কী রেখেছেন।
তাই বলছি পরিশ্রম করুন আল্লাহ কখনো খালি হাতে ফেরত দিবেন না, কিছু না কিছু দিবেনই।

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page