Tuesday , December 1 2020
Breaking News
Home / Education / শেষ সময়ে কিছু প্রয়োজনীয় কথা যারা ৪০তম রিটেন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন।।

শেষ সময়ে কিছু প্রয়োজনীয় কথা যারা ৪০তম রিটেন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন।।

শেষ সময়ে কিছু প্রয়োজনীয় কথা যারা ৪০তম রিটেন পরীক্ষা দিতে যাচ্ছেন।।

১। যেকোনো পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পরীক্ষার হলে সময়ের সঠিক ব্যবহার করা অর্থাৎ সঠিক টাইম ম্যানেজমেন্ট।

যেমন

অাপনি একটি প্রশ্ন খুব ভাল পারেন। এবং এটার জন্য মার্ক হচ্ছে ৫ /১০।
অাপনি যদি এই ৫/ ১০ মার্কের জন্য অধিক সময় ব্যয় করেন পরবর্তীতে দেখা যাবে অাপনি সময়ের অভাবে ৩০/৪০ মার্ক উত্তর করতে পারেন নাই বা করেছেন এমনভাবে পরীক্ষক অাপনার লেখা বুঝতে পারছে না। অাপনি যদি ৩০/৪০ নাম্বার উত্তর না করে বাকী ১৭০/৮০ যতই ভাল লিখুন না কেন কখনো যে সময় মেইনটেইন করে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে ২০০ মার্ক উত্তর করেছে তার চেয়ে বেশি নাম্বার পাবেন না এটা নিশ্চিত ।

তাই পরীক্ষার হলে টাইম মেইনটেইন করতে চাইলে শুরুতেই সচেতন ভাবে সময়কে যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। একটি ১০ মার্কের প্রশ্নের জন্য ১২ মিনিটে যতটুকু সময় লিখতে পারবেন লিখবেন। পেইজ বিষয় না অাপনি যদি প্রতি ৪ মিনিটে ১ পেইজ লিখতে পারেন তাহলে ১২ মিনিটে ৩ পেইজ লিখতে পারবেন অর্থাৎ ১০ মার্কের জন্য ৩ পেইজ । এটা নির্ভর করবে অাপনার হাতের লেখার উপর । কখনোই ১২ মিনিটের জায়গায় ২০ মিনিট সময় নিয়ে লিখতে যাবেন না। ১২ মিনিটের জায়গায় বড়জোর ১৪ মিনিট এর বেশি না। ১২মিনিট হলেই পরবর্তী প্রশ্নে চলে যাবেন৷

২। অান্তর্জাতিক বিষয়াবলি জন্য সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন অর্থাৎ একটি ৪ মার্কের প্রশ্নের জন্য ৭.২ মিনিট সময়ে যতটুকু লিখতে পারবেন লিখবেন অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত ৪০ মার্ক ৭২ মিনিটে লেখে শেষ করতে হবে। প্রতিটি ১৫ মার্কের প্রশ্নের জন্য ২৭ মিনিট করে লিখতে পারবেন। এই ২৭ মিনিটে যত পেইজ লিখতে পারেন লিখবেন।

৩। বিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। তাই শুরু থেকেই টাইমকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ কম্পিউটারের ২৫ মার্কের জন্য ৪৫ মিনিট অার ইলেকট্রনিকস ৬ টি প্রশ্নের জন্য ২৭ মিনিট সময় পাবেন। অার বাকী সময় ১০৮ মিনিট বিজ্ঞান লেখার জন্য বরাদ্দ রাখবেন৷ অনেকেই সময়ের অভাবে বিজ্ঞানে ১০০ উত্তর করতে পারে না। এটা মাথায় রাখবেন যে কোন মূল্যে ১০০ লিখতে হবে।

৪। সরাসরি উত্তর না লিখে সংক্ষিপ্তভাবে তিন /চার লাইনের একটা ভূমিকা লিখতে চেষ্টা করবেন এবং শেষেও তিন/চার লাইনের উপসংহার দিতে চেষ্টা করবেন।
যেমন ধরেন, অাসলো সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ এর নাম লিখুন?

তখন অাপনি সরাসরি নাম লেখার অাগে এভাবে লিখতে পারেন,
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাদেরকে পরবর্তীতে বিভিন্ন খেতাবে ভূষিত করেছেন সরকার। তার মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সর্বোচ্চ খেতাব।

নিম্নে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ এর নাম দেওয়া হল,
এইভাবে প্রত্যেকটা প্রশ্নে লেখার চেষ্টা করবেন।

৫। পরীক্ষার সময় নীল কালি ব্যবহার করে অাপনি গুরুত্বপূর্ণ লাইন বা তথ্য নীল কালিতে অান্ডার লাইন না করে সরাসরি নীল কালি দিয়ে লিখে দিবেন এতে সময় লাগবে কম এবং পরীক্ষক সহজেই অাপনার খাতার মূল বিষয় পড়তে সহজ হবে।

৬। পরীক্ষার সময় এইদিক ওইদিক তাকাবেন না অর্থাৎ কে কি লিখছে তা দেখতে যাবেন না। অনেক সময় দেখা যাবে পাশের জন অনেক বেশি লিখতেছে এতে মনে হবে অাপনি কিছুই পারেন না বা অাত্মবিশ্বাস কমে যাবে তাই এই ওইদিক তাকাবেন না।

৭। যেকোনো মূল্যে গনিত ও মানসিক দক্ষতা ছাড়া বাকী বিষয়গুলো কমন না পড়লেও চিন্তা করে বানিয়ে বানিয়ে সব লিখে দিয়ে অাসবেন অর্থাৎ কোন কিছু বাদ দেওয়া যাবে না ।

৮। কোন পরীক্ষা খারাপ হলেই বাকী পরীক্ষা না দেওয়ার মত বোকামির কাজ করবেন না। সবগুলো পরীক্ষা দিবেন।

৯। বেশি লিখলেই বেশি নাম্বার পাবেন এটা কিন্তু ঠিক না বরং সঠিকভাবে কম লিখেও অধিক নাম্বার পাবেন। তাই যথাসম্ভব দ্রুত সঠিক ও প্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন।

১০। পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়ে সাথে সাথে লেখা শুরু করার পূর্বে এক/দুইবার ভালভাবে প্রশ্নটা পড়ে নিবেন অাসলে কী চাচ্ছে প্রশ্নে সেটা বুঝার জন্য। অনেক সময় দেখা যাবে পরীক্ষায় অাসছে দুইটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক কি কিন্তু অাপনি ভাল করে না পড়ে দুইটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য লিখেছেন এইরকম ভুল যেন না হয়।

১১। পরীক্ষার খাতায় নিজের রুল ও বিষয় কোড ও নিজের নাম ও সাক্ষর সুন্দর ভাবে লিখবেন এবং হাজিরা খাতায় সেইম সাক্ষর করবেন। পরীক্ষার মেইন খাতায় ২০ টা পৃষ্ঠা থাকে। লেখা শুরু করার অাগে দেখে নিবেন ভিতরে কোন পাতা ছেড়া অাছে কি না বা কম অাছে কি না। অতিরিক্ত পেইজ নিলে OMR এ অবশ্যই বৃও বরাট করবেন৷

১২। পরীক্ষার সময় সবগুলো রিভিশন দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই এইটা পড়ি নাই ওটা পড়ি নাই এগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পেলে অাপনার সহজেই মনে অাসবে ইনশাআল্লাহ।

সবার জন্য শুভ কামনা রইল।

এস.এম.অালাউদ্দিন মাহমুদ
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ( সুপারিশপ্রাপ্ত)

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page