Tuesday , December 1 2020
Breaking News
Home / Education / বিসিএস আবেদন নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা + উত্তর

বিসিএস আবেদন নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা + উত্তর

৪১তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণ প্রক্রিয়া অনলাইনে (bpsc . teletalk . com . bd) এরই মধ্যে শুরু হয়েছে, চলবে ৪ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত। বিসিএসের প্রথম চ্যালেঞ্জ ‘প্রিলি’ হলেও ফরম পূরণ নিয়ে প্রার্থীদের দুশ্চিন্তা কম না। প্রার্থীদের সচরাচর জিজ্ঞাসা, সমস্যা ও কমন সব কনফিউশন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জবাব দিচ্ছেন ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে কর্মরত (প্রভাষক, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ) রবিউল আলম লুইপা।

বিসিএস আবেদন প্রক্রিয়া ও ফরম পূরণ নিয়ে প্রার্থীদের কমন কিছু জিজ্ঞাসা থাকে, এখানে কয়েকটি জিজ্ঞাসা ও তার জবাব তুলে ধরা হয়েছে—

বিসিএস প্রিলি ফরম পূরণে কিছু জায়গায় ভুল করেছি। এখন আমি কী করতে পারি?

—যদি আবেদন ফি জমা না দেন, তাহলে ৭২ ঘণ্টা পর এটি বাতিল হয়ে যাবে। তখন নতুন করে ফরম পূরণ করলে নতুন ইউজার আইডি পাবেন। নতুন ইউজার আইডি ব্যবহার করে টাকা জমা দেবেন। আর যদি এরই মধ্যে টাকা জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে সাবমিট করা ফরমের ভুল আপনি সংশোধন করতে পারবেন না, শুধু সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) করতে পারবে। ঢাকার আগারগাঁও পিএসসি ভবনের নিচতলায় হেল্প ডেস্ক আছে, সেখানে সংশোধনের জন্য আবেদন করুন।

তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস কোর্স) করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?

—বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা আছে, এইচএসসি পাসের পর চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি (স্নাতক) থাকতে হবে। এ অবস্থায় আপনার উপায় হচ্ছে, ডিগ্রি পাস কোর্সের পর মাস্টার্স সম্পন্ন করা।

অনার্সের চতুর্থ বর্ষ ফাইনাল যে বছর হওয়ার কথা ছিল, সেশনজটের কারণে এর এক বছর পর পরীক্ষা হয়েছে। আর ফলাফল পরের বছর। এখন যে বছর পরীক্ষা হয়েছে ‘পাসের সাল’ সে বছর দেব, নাকি যে বছর ফলাফল প্রকাশ হয়েছে সেটা দেব?

—আপনার অনার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বা ফলাফল প্রকাশের সাল যা-ই হোক না কেন, আপনার অনার্স যে সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং পরীক্ষার প্রশ্নে যে সাল উল্লেখ আছে, সেটিই আপনার পাসের বছর বলে বিবেচিত হবে। প্রকাশিত ফলাফলেও বছর উল্লেখ থাকে।

আমি যদি শুধু টেকনিক্যাল ক্যাডার ফরম পূরণ করি, তাহলে কি আমি বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারের চাকরি পাব?

—আপনি জেনারেল/বোথ/টেকনিক্যাল—যে ক্যাডারেই আবেদন করুন না কেন, নন-ক্যাডার চাকরি পাবেন। যে নন-ক্যাডারে সুপারিশ করা হবে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আপনার রিকয়ারমেন্ট মিলতে হবে। যেমন—নন-ক্যাডারের থাকা সব প্রার্থী থেকে এনবিআরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হওয়া যাবে; কিন্তু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ধারী হতে হবে।

টেকনিক্যাল ক্যাডার ৩/৪-এর দিকে দেওয়া যায়?

—আপনি কোন সেক্টরে যেতে চান এবং আপনার ব্যক্তিত্ব, স্কিল, পঠিত বিষয় যে ক্যাডারের সঙ্গে মেলে, তার ওপর ভিত্তি করে ইচ্ছামতো ক্যাডার চয়েজ দিতে পারবেন। তবে টেকনিক্যাল বা জেনারেলের যে ক্যাডারগুলোতে প্রতিযোগিতা কম হয় তা আগে দিলে এবং বেশি প্রতিযোগিতা হয় এমন ক্যাডার পরে দিলে—পরেরটা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে টেকনিক্যাল ক্যাডার ভালো লাগলে এটা পছন্দক্রমের যেকোনো জায়গায় দিতে পারেন। যেমন—ব্যক্তিগতভাবে অনেক জেনারেল ক্যাডারের চেয়ে শিক্ষা ক্যাডারকে আমার বেশি ভালো লাগে। ভালো লাগাটা অনেকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তাই বলব—আপনার নিজের চাওয়াকে গুরুত্ব দিন।

আমার সিজিপিএ খুব একটা ভালো না। আমি কি ‘শিক্ষা ক্যাডার’ চয়েজ দিতে পারব?

—সিজিপিএ ভালো হলে মৌখিক পরীক্ষায় বোর্ড প্রার্থীকে ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করতেই পারে; কিন্তু তাই বলে এটা যে খুব বেশি প্রভাব ফেলে তা না। অনেকেই কম সিজিপিএ নিয়ে জেনারেল ক্যাডার বা শিক্ষা ক্যাডারে চাকরি করছেন।

আমি বিবিএ করেছি; কিন্তু বিসিএসের ফরমের গ্র্যাজুয়েশন অংশে বিবিএ নেই। অনার্স সিলেক্ট করে ফরম পূরণ করলে কী কোনো সমস্যা হবে? নাকি others সিলেক্ট করে বিবিএ উল্লেখ করে দিতে হবে?

—অনার্স সিলেক্ট করলে আপনার সংশ্লিষ্ট সাবজেক্ট শিক্ষা ক্যাডার হিসেবে আসবে। others সিলেক্ট করে বিবিএ দিলে শিক্ষা ক্যাডারের সাবজেক্ট পাবেন না। বিবিএ কিন্তু চার বছর মেয়াদি অনার্স ডিগ্রি।

এসএসসিতে আমার মায়ের নামের বানান ভুল এসেছে। তবে এইচএসসি, অনার্স, মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের বানান ঠিক আছে। আমি কী এখন এ অবস্থায় আবেদন করতে পারব? নাকি আগে বানান ঠিক করাতে হবে?

—আপনি আবেদন করতে পারবেন। বিসিএস প্রিলির আবেদনে যেসব তথ্য দেবেন, পরবর্তী সময়ে লিখিত অথবা মৌখিক পরীক্ষার আগে ডকুমেন্টস চাওয়া হবে এবং আবেদনের তথ্যের সঙ্গে ডকুমেন্টসের তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। ডকুমেন্টস দেওয়ার আগেই ভুলগুলো সংশোধন করে ফেলতে হবে।

আমার জাতীয় পরিচয়পত্রে মা-বাবার নাম এক রকম, কিন্তু বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম অন্য রকম। এতে কি সমস্যা হবে?

—বিসিএস আবেদনের সময় শুধু আপনার তথ্য লাগলেও মৌখিক পরীক্ষার আগে বিপিএসসি-৩ ফরমে এবং সুপারিশ পাওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। তাই সবার তথ্য দ্রুত সংশোধন করে ফেলুন।

আমার একটি রোগ আছে। আমি কী মেডিক্যাল টেস্টে বাদ পড়ব?

—বিসিএসের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বুকের এক্স-পর, দৃষ্টিশক্তি ও ইউরিন পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে খারাপ কিছু না এলে এবং দৃশ্যত কোনো সমস্যা না থাকলে আপনার বাদ পড়ার কথা না। আর বিসিএস এমন একটি প্রক্রিয়া—যদি আপনার মেডিক্যাল কিংবা পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে খারাপও কিছু আসে এবং পরে যদি নিজের অবস্থা স্বাভাবিক বা শুধরে নেওয়া যায়, তাহলে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে।

১) প্রার্থীর নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ—এসএসসিতে যেভাবে আছে সেভাবেই লিখতে হবে।

সার্টিফিকেটে মা-বাবা মৃত থাকলে মৃত লিখতে হবে, না থাকলে মৃত লেখার দরকার নেই। জন্ম তারিখ লিখতে ভুল করলে আপনার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।

২) উচ্চতা ইঞ্চিতে কনভার্ট করে দেবেন। ওজন আনুমানিক হলেই হবে (২-৪ কেজি কমবেশি হতে পারে)। মৌখিক পরীক্ষার আগে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক থেকে ওজন ও উচ্চতার প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ক্যাডারের ওজন ও উচ্চতার আবশ্যিক শর্তের সঙ্গে আপনার ওজন-উচ্চতা না মিললে সেই ক্যাডার পছন্দক্রমে রাখা ঠিক হবে না।

৩) বেকার হলে Not Employment, রাজস্ব খাতের সরকারি চাকরি হলে Regular Basis under Revenue Budget, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হলে Autonomous or Semi-autonomous Organization, বেসরকারি হলে Private Organization সিলেক্ট করুন। চাকরির ক্ষেত্রে যা-ই উল্লেখ করেন, এর জন্য ভাইভার সময় বিভাগীয় ছাড়পত্র, পুলিশ ভেরিফিকেশনের ফরমে তথ্য পূরণসহ বাড়তি কিছু ফর্মালিটিজ আছে।

৪) সম্ভব হলে বর্তমান আর স্থায়ী ঠিকানা একই দেওয়া ভালো।

পরে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে ওই এক জায়গায়ই আপনার পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। যে ঠিকানা দিলে এলাকার মানুষজন আপনাকে চিনবে, সেটা হলে আরো ভালো হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে বাবার ঠিকানা ব্যবহার করা উচিত।

৫) পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে যেটি দেবেন, সেখানেই পরবর্তী সময়ে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে (তবে মৌখিক পরীক্ষা ঢাকার আগারগাঁওয়ে কর্মকমিশন কার্যালয়ে হবে)। পরে কেন্দ্র পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।

৬) প্রিলিমিনারি প্রশ্ন ইংরেজিতে পেতে চাইলে ইংরেজি ভার্সনে টিক চিহ্ন দেবেন। তবে লিখিত পরীক্ষা আপনি ইচ্ছামতো ভার্সনে দিতে পারবেন, এর জন্য টিক মার্ক দিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষায় এক বিষয়ের পুরো খাতা যেকোনো এক (বাংলা/ইংরেজি) ভার্সনে লিখতে হবে।

৭) ডিগ্রি বা সাবজেক্ট অপশনে আপনার ডিগ্রি বা বিষয়ের নাম না থাকলে আদারসে গিয়ে লিখুন। তবে ডিগ্রি তালিকা থেকে অনার্স সিলেক্ট করাই ভালো (তা না হলে অনেক সময় বিষয়ের সঙ্গে মিল থাকার পরও প্রফেশনাল ক্যাডার দেখাবে না)। যাঁরা অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করবেন, তাঁরা পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখুন। এ ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার সময় আবেদনের সময়ের শেষ তারিখের মধ্যে আপনার সব পরীক্ষা শেষ হয়েছিল মর্মে বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে।

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page