Friday , December 4 2020
Breaking News
Home / Education / মায়ের কানের দুল বিক্রির টাকায় ভাইভা, বিসিএস ক্যাডার!

মায়ের কানের দুল বিক্রির টাকায় ভাইভা, বিসিএস ক্যাডার!

আমার মা রেস্টুরেন্ট (Restaurant) কথাটি উচ্চারণ করতে পারেন না। এমনকি রেস্টুরেন্টে যেতেও বিব্রত বোধ করেন। চাকরি পাওয়ার পর অনেকবার চেষ্টা করেছি, একবার পেরেছি নিতে, তাও আমার ছেলের অনুষ্ঠানে। এমনকি তিনি ছবিও তুলতে চান না। এটাই মায়ের সঙ্গে আমার ফেসবুকে প্রথম ছবি।

ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আমার মায়ের কথা বলব। আমি শাকিল আল আমিন, নেত্রকোনার সদর উপজেলার কংশ নদীর তীরে মশুয়া গ্রামে কোন এক কাক ডাকা ভোরে মায়ের কোল জুড়ে এসেছিলাম। আম্মা আমাকে আবু বলে ডাকেন। সম্ভবত গ্রামের ৯০% মা-ই এই নামে ডাকেন। আমি আজ যতটুকুই পারি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি মানুষের দোয়া আর বাবার সাপোর্টে। কিন্তু আমাদের টানাপোড়েনের সংসারে যিনি শক্ত হাতে হাল ধরে বসে আছেন তিনি আমার মা। আমি জানি এটা বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেক মায়ের গল্প।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে আমি বেকার ঘুরছি, টিউশন ছেড়ে বিসিএস নামক ব্ল্যাক হোলে ডুবে আছি। তবুও মা বলেছেন কিছু একটা হবে, হয়েছে। আম্মা বিসিএস কি, ক্যাডার কি বুঝেন না, এখন বলেন প্রফেসর। সবাই মাকে যখন প্রফেসরের (গ্রামে লেকচারার কেউ বুঝে না, কলেজের শিক্ষক অথবা প্রফেসর) মা বলে সম্বোধন করেন, তিনি তখন দেখি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। আমার পরীক্ষা থাকলেই তিনি জায়নামাজে বসে দীর্ঘক্ষণ প্রার্থনা করতেন। একদিনের ঘটনা, ৩৬তম বিসিএসের ভাইভা দিয়ে বাড়িতে গেলাম, খেয়াল করে দেখলাম আম্মার কানের দুল কানে নেই, দেখতে খালি খালি লাগছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম আম্মা কানের দুল কই? আম্মা থতমত খেয়ে বললেন, গোসল করতে গিয়ে একটা হারিয়ে ফেলেছে তাই আরেকটা খুলে রেখেছেন। পরে দাদির কাছে ঘটনা শুনে আমার চোখের জল সামলাতে পারিনি। আম্মার কাছে ভাইভা দেওয়ার জন্য জুতা ড্রেস কিনতে হবে বলে কিছু টাকা চেয়েছিলাম, তিনি দিয়েছিলেন, দুল বিক্রি করে।

এমন অনেক অনেক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে আমাদের লেখাপড়া করাতে, তা এখন আস্তে আস্তে জানছি। পৃথিবীতে এমন কেউ কি আছেন? মায়ের মতো। পৃথিবীতে কোন খারাপ মা নেই। নিস্বার্থ, নির্ভেজাল, নিখাদ ভালবাসা হলো মা। প্রত্যেক সন্তানের জন্য মা এক অপরিসীম অনুপ্রেরণা। সকল দুঃসময়ের বটছায়া। মায়ের জন্য অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে। চাকরি পাওয়ার পর, আশ্বর্য হলাম আম্মা আমার কাছে কিছু চায়না, চায় আমি যেন ভাল থাকি। যাদের মা নেই, তাদের কিছু কি আছে?

আমার মা এখন আর্থ্রাইটিসের রোগী, জানি কুলুর বলদের মতো সংসারের জন্য খেটে তার এই অবস্থা হয়েছে। দূর থেকে মাকে শুধু মিস করি। খুব মিস করি। বলি আল্লাহ আমার মাকে তুমি অনেক অনেক ভালো রেখো। আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দান করুক। আমি গর্বিত এমন একজন দুখিনী মায়ের সন্তান হতে পেরে। পৃথিবীর সকল মায়ের জন্য দোয়া ও ভালবাসা। মা ভালো থাকবে সবসমই। লেখক : শাকিল আল-আমিন, লেকচারার, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার, ৩৬তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত

About khan

Check Also

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগঃ (Corona virus) নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন উত্তর

Corona virus)সাম্প্রতিক প্রশ্ন (#collected) ১) করোনা ভাইরাস কত সালে আবিষ্কার হয়? উঃ ১৯৬০ ২) কোভিড-১৯ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page