Sunday , November 29 2020
Breaking News
Home / Entertainment / চার বিয়ে আর ১৬৭ কেজি ওজন কমানো আদনান সামির আজব জীবন

চার বিয়ে আর ১৬৭ কেজি ওজন কমানো আদনান সামির আজব জীবন

পিয়ানোতে সন্তুরের সুর বাজান তিনি। মার্কিন পত্রিকার বিচারে তিনিই দ্রুততম কিবোর্ড শিল্পী।

এই শিল্পীর জন্ম লন্ডনে। বাবা পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা এবং মা নৌরিন ছিলেন জম্মু কাশ্মীরের মেয়ে। তিনি আদনান সামি। তাকে বলা হয় সঙ্গীতের সুলতান।

১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট আদনানের জন্ম লন্ডনে। তার বড় হওয়া এবং পড়াশোনা ইংল্যান্ডে। তার বাবা আরশাদ সামি খান ছিলেন পাশতুন প্রজাতির। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর পাইলট আরশাদ পরে কূটনীতিক হন। ১৪টি দেশে তিনি পাকিস্তানের দূত হয়ে কাজ করেছেন।

আরশাদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন আফগানিস্তানের রাজ বংশীয়। আফগান সেনার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন তারা। আরশাদের দাদা আগা মেহফুজকে হত্যা করা হয় আফগানিস্তানে। তারপর তাদের পরিবার পাড়ি দেয় অবিভক্ত ভারতের পেশোয়ারে।

ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস-এর রাগবি স্কুল থেকে পড়াশোনা করে লন্ডনের কিংস কলেজে ভর্তি হন তিনি। এরপর লিঙ্কনস ইন থেকে আইনজীবী হিসেবে উত্তীর্ণ হন আদনান। পাঁচ বছর বয়স থেকেই পিয়ানো বাজাতেন তিনি। নয় বছর বয়সে প্রথম সুর রচনা করেন। ছুটিতে ভারতে গিয়ে তিনি পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার কাছে সন্তুর বাজানো শিখতেন।

তার প্রথম সিঙ্গল ‘রান ফর হুজ লাইফ’ ছিল ইংরেজিতে। সেটা মুক্তি পায় ১৯৮৬ সালে। মধ্যপ্রাচ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয় তার গান। ১৯৯৫ সালে সিনেমার গানে পথ চলা শুরু।

পাকিস্তানি সিনেমা ‘সরগম’-এ তিনি ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক এবং অভিনেতা। ওই সিনেমাতেই কেবল তিনি অভিনয় করেছেন। পাকিস্তানে বেস্ট সেলিং অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম ‘সরগম’।

২০০০ সালে আশা ভোঁসলের সঙ্গে আদনান সামির বিখ্যাত অ্যালবাম ‘কভি তো নজর মিলাও’। আদনানের সুরে এই ভিডিও ছিল ইন্ডিয়ায় চূড়ান্ত সফল ও জনপ্রিয়। অ্যালবামের সব চেয়ে বেশি হিট হয়েছিল ‘কভি তো নজর মিলাও’ এবং ‘লিফ্ট করা দে’।

এরপর বলিউডে গান ও অভিনয়, দু’দিকেই সুযোগ আসতে থাকে আদনানের কাছে। ‘আজনবি’, ‘চোর মচায়ে শোর’, ‘আওয়ারা পাগল দিওয়ানা’, ‘সাথিয়া’, ‘কোই মিল গয়া’, ‘জগার্স পার্ক’, ‘পেজ থ্রি’, ‘গরম মশালা’, ‘খোলসা কা ঘোসলা’, ‘ডার্লিং’, ‘ধামাল’-এর মতো সিনেমায় আদনান সামির গান শ্রোতাদের মনে দাগ কাটে। বলিউডে তার শেষ কাজ এখন পর্যন্ত ২০১৫ সালে, ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবিতে।

১৯৯৩ সালে পাকিস্তানি অভিনেত্রী জেবা বখতিয়ারকে বিয়ে করেন আদনান সামি। তাদের একমাত্র ছেলের নাম আজান সামি খান। বিয়ের তিন বছর পরে ভেঙে যায় এই দাম্পত্য। তাদের মধ্যে এখন বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বিয়ে হয়ে গেছে তাদের একমাত্র ছেলে আজানেরও।

২০০১ সালে দ্বিতীয় বিয়ে দুবাইয়ের ব্যবসায়ী সাবাহ গালাদরিকে। তাদের দু’জনেরই এটা ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। দেড় বছরের মাথায় ভেঙে যায় আদনানের দ্বিতীয় বিয়েও। ২০০৬ সালের জুন মাসে আদনান জানান, তার শরীরের ওজন ২৩০ কেজি।

চিকিৎসকরা জানান, ওইভাবে থাকলে তার আয়ুষ্কাল হবে মাত্র ৬ মাস। এরপর কঠোর ডায়েট ও শরীরচর্চায় তিনি ১৬ মাসে ১৬৭ কেজি ওজন কমান।

কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, আদনান সামি লাইপোসাকশন করিয়েছেন। কিন্তু এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে আদনান জানান, তার মতো বিশালদেহীর জন্য লাইপোসাকশন যথেষ্ট নয়। তিনি ওজন কমিয়েছেন লো কার্ব প্রোটিন ডায়েট এবং শরীরচর্চা করে।

২০০১ সালে থেকে সামি ভারতে থাকছিলেন পর্যটক ভিসায়। ২০০৮ সালে মুম্বাই এসে তাকে আবার বিয়ে করেন দ্বিতীয় স্ত্রী সাবাহ। কিন্তু এই পুনর্বিবাহও এক বছরের বেশি স্থায়ী হয়নি।

আট বছর পর চতুর্থবারের জন্য বিয়ের মঞ্চে বসেন আদনান সামি। ২০১০ সালে বিয়ে করেন রোয়া সামি খানকে। তাদের একমাত্র মেয়ে মেদিনা সামি খান।

২০১৫ সালে তিনি ভারত সরকারের কাছে আবেদন করেন ভারতীয় নাগরিকত্বের। ২০১৬ সালে তার আবেদন মঞ্জুর হয়।

About khan

Check Also

হানিমুনের পরই ‘ডিভোর্স’-এর ঘোষণা, মুখ খুললেন তমা মির্জা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নায়িকা তমা মির্জা। গেল বছর মে মাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী হিশাম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page