Friday , September 24 2021
Breaking News

বিসিএস প্রস্তুতি নির্দেশনা!

বাংলাদেশ বিষয়গুলোয় বাংলাদেশের ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, পরিবেশ, সমাজ-সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতি থেকে প্রশ্ন আসবে। প্রশ্নের মানবণ্টন সম্পর্কে নতুন সিলেবাসে কিছু বলা নেই, তাই ধরে নিচ্ছি ওটা আগের মতোই থাকবে। কিছু টিপস দিচ্ছি। এগুলো পড়ে নিজের মতো করে কাজে লাগাবেন।
. অন্তত তিন-চার সেট গাইড বই কিনে ফেলুন। বিভিন্ন রেফারেন্স বই, যেমন মোজাম্মেল হকের উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশের সংবিধানের ব্যাখ্যাসংবলিত বই, মুক্তিযুদ্ধের ওপর বই, নীহাররঞ্জনের ছোটদের রাজনীতি, আকবর আলী খানের পরার্থপরতার অর্থনীতি ইত্যাদি বই পড়ে ফেলুন। বিসিএস পরীক্ষার জন্য যেকোনো বিষয়ের রেফারেন্স পড়ার একটা ভালো কৌশল হচ্ছে জ্ঞান অর্জনের জন্য না পড়ে, নম্বর পাওয়ার জন্য পড়া৷ এটা করার জন্য বিভিন্ন বছরের প্রশ্ন দেখে ভালোভাবে জেনে নেবেন, কোন ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে না। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে, এরপর রেফারেন্স বই থেকে ‘বাদ দিয়ে, বাদ দিয়ে’ পড়ুন৷

. চার ঘণ্টা না বুঝে পড়ার চেয়ে এক ঘণ্টা প্রশ্ন দেখে-বুঝে পড়া অনেক ভালো। তাহলে চার ঘণ্টার পড়া দুই ঘণ্টায় সম্ভব। বেশি বেশি প্রশ্নের ধরন দেখুন, কীভাবে অপ্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দিয়ে পড়া যায়, সেটা শিখতে পারবেন। এটা প্রস্তুতি শুরু করার প্রাথমিক ধাপ। এর জন্য যথেষ্ট সময় দিন। অন্যরা যা যা পড়ছে, আমাকেও তা-ই পড়তে হবে—এই ধারণা ঝেড়ে ফেলুন। সবকিছু পড়ার সহজাত লোভ সামলান। একটি অপ্রয়োজনীয় বিষয় একবার পড়ার চেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বারবার পড়ুন৷

. অনলাইনে চার-পাঁচটা পত্রিকা পড়বেন। পত্রিকা পড়ার সময় খুব দ্রুত পড়বেন। পুরো পত্রিকা না পড়ে বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শুধু পড়বেন। একটা পেপারে এ ধরনের দরকারি লেখা থাকে খুব বেশি হলে দুই-তিনটা। প্রয়োজনে সেগুলোকে ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করে রাখুন, পরে পড়ুন।
. পত্রিকা পড়ার সময় কলাম বা নিবন্ধ পড়ে বুঝে নেবেন, কোন কোন টপিক থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন হতে পারে। বাংলাদেশ বিষয়গুলোয় সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা অনুসারে প্রশ্নের ধরন বদলাতে পারে। বিভিন্ন কলাম পড়ার সময় কোন কলামিস্ট কোন বিষয় নিয়ে লেখেন, কোন স্টাইলে লেখেন, সেটা ভালো করে খেয়াল করুন এবং নোটবুকে কলামিস্টের নাম, এরিয়া অব ইন্টারেস্ট, স্টাইল লিখে রাখুন। পরীক্ষার খাতায় উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় এটা খুব কাজে লাগবে।
. প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র ও ম্যাপ আঁকুন৷ যথাস্থানে বিভিন্ন ডেটা, টেবিল, চার্ট, রেফারেন্স দিন৷

পেপার থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় উদ্ধৃতির নিচে সোর্স ও তারিখ উল্লেখ করবেন। পরীক্ষার খাতায় এমন কিছু দেখান, যেটা আপনার খাতাকে আলাদা করে তোলে। যেমন ধরুন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সোর্সসহ রেফারেন্স দিতে পারেন। উইকিপিডিয়া কিংবা বাংলাপিডিয়া থেকে উদ্ধৃত করতে পারেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে কে কী বললেন, সেটা প্রাসঙ্গিকভাবে লিখতে পারেন। পেপারের সম্পাদকীয় থেকে ফরমাল উপস্থাপনার স্টাইল শিখতে পারেন।
. নোট করে পড়ার বিশেষ কোনো প্রয়োজন নেই৷ এতটা সময় পাবেন না৷ বরং কোন প্রশ্ন কোন সোর্স থেকে পড়ছেন, সেটা লিখে রাখুন৷ রিভিশন দেওয়ার সময় কাজে লাগবে৷ বাংলাদেশের সংবিধানের ব্যাখ্যা, বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল, কিছু আন্তর্জাতিক পত্রিকা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখুন৷ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে রাখুন৷ প্রয়োজনমতো পরীক্ষার খাতায় রেফারেন্স উল্লেখ করুন৷

. বিভিন্ন রেফারেন্স, টেক্সট ও প্রামাণ্য বই অবশ্যই পড়তে হবে৷ বিসিএস পরীক্ষায় অনেক প্রশ্নই কমন পড়ে না৷ এসব বই পড়া থাকলে উত্তর করাটা সহজ হয়৷ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বিভিন্ন লেখকের রচনা, পত্রিকার কলাম ও সম্পাদকীয়, ইন্টারনেট, বিভিন্ন সংস্থার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারা, বিভিন্ন রেফারেন্স থেকে উদ্ধৃতি দিলে নম্বর বাড়বে৷ এই অংশগুলো লিখতে নীল কালি ব্যবহার করলে সহজে পরীক্ষকের চোখে পড়বে৷ চেষ্টা করবেন, প্রতি পেজে অন্তত একটা কোটেশন, ডেটা, টেবিল, চার্ট কিংবা রেফারেন্স, কিছু না কিছু দিতে। ভালো কথা, পুরো সংবিধান মুখস্থ করার কোনো দরকারই নেই। যেসব ধারা থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, সেগুলোর ব্যাখ্যা খুব ভালোভাবে বুঝে বুঝে পড়ুন। সংবিধানের ধারাগুলো হুবহু উদ্ধৃত করতে হয় না।
. লেখা সুন্দর হলে ভালো, না হলেও সমস্যা নেই৷ লিখিত পরীক্ষায় অনেক বেশি দ্রুত লিখতে হয়৷ তাই প্রতি তিন-পাঁচ মিনিটে এক পৃষ্ঠা লেখার প্র্যাকটিস করুন৷ খেয়াল রাখবেন, যাতে লেখা পড়া যায়৷ সুন্দর উপস্থাপনা মার্কস বাড়ায়৷

. কোনো প্রশ্ন ছেড়ে আসবেন না৷ উত্তর জানা না থাকলে ধারণা থেকে অন্তত কিছু লিখে আসুন৷ ধারণা না থাকলে, কল্পনা থেকে লিখুন। কল্পনায় কিছু না এলে প্রয়োজনে জোর করে কল্পনা করুন! আপনি প্রশ্ন ছেড়ে আসছেন, এটা কোনো সমস্যা নয়৷ সমস্যা হলো, কেউ না কেউ সেটার উত্তর দিয়েছে৷
. মাঝেমধ্যে বিভিন্ন টপিক নিয়ে ননস্টপ লেখার প্র্যাকটিস করুন৷ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার অভ্যাস বাড়ান৷ এতে আপনার লেখা মানসম্মত হবে৷ কোনো উত্তরই মুখস্থ করার দরকার নেই৷ বরং বারবার পড়ুন, বিভিন্ন সোর্স থেকে৷ ধারণা থেকে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন৷ কেউই সবকিছু ঠিকঠাক লিখে ক্যাডার হয় না। লিখিত পরীক্ষায় সবাই-ই বানিয়ে লেখে। এটা কোনো ব্যাপার নয়! বরং ঠিকভাবে বানিয়ে লেখাটাও একটা আর্ট।

———
শেয়ার করুন

About khan

Check Also

চাকরি ছেড়ে আচার বিক্রি করে ৮ লক্ষ টাকা আয় সামিরার; ৭দেশে রপ্তানি

বগুড়ার মেয়ে সামিরা সামছাদ। বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *