Saturday , September 25 2021
Breaking News

ভি’ডিও ক’লে প্রবাসী স্বা’মীকে দেখিয়ে প্রে’মিককে নি’য়ে ঘরে ঢু’কেন স্ত্রী!

স্ত্রী’র প’রকী’য়ার জেরে সৌদি প্রবাসী আব্দুর রহমান গাজীর (৪৬) জীবন বি’ষিয়ে উঠেছিল। প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই প’রকীয়া প্রে’ম শুরু করেছিল স্ত্রী মুর্শিদা সুলতানা। প’রকীয়ার দৃশ্য ভি’ডিও ক’লের মাধ্যমে স’রাসরি দে’খাতো স্বা’মীকে।

বিদেশের মাটিতে স্ত্রীর প’রকী’য়াসহ নানা অ’পক’র্মের খবরে ম’রণ য’ন্ত্রণায় দিন কা’টাচ্ছিল আব্দুর রহমান। অবশে’ষে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় সৌদি আরবের কনফুদা এলাকায় গ’লায় ফাঁ’স দিয়ে আ’ত্মহ’ত্যা করেন। আ’ত্মহ’ত্যার খবরটি সাথে সাথে সামাজিক মাধ্যমে ছ’ড়িয়ে পড়ে।

পারিবার ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, প’রকীয়ার বলি আব্দুর রহমান গাজীর বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজে’লার আন্দুলিয়া গ্রামে। পেশায় ছিল একজন রাজমিস্ত্রি। তবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধ’রে সৌদি আরবে শ্র’মিকের কাজ করতেন।

১০ বছর আগে দ্বিতীয় বি’য়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন তিনি। ২ পুত্র স’ন্তান জ’ন্মের পর আব্দুর রহমান গাজী প্রথম স্ত্রী’কে তালাক দেন। প্রথম স্ত্রীর মা’মলায় আব্দুর রহমান কা’রাভোগ করেছেন।

পরবর্তীতে প্রে’মের সূত্র ধ’রে আব্দুর রহমান খুলনার বটিয়াঘাটা উপজে’লার গাওঘরা গ্রামের হেকমত আলী বিশ্বাসের একাধিক স্বা’মী পরিত্য’ক্তা মে’য়ে মুর্শিদা সুলতানাকে (৩০) বিয়ে করেন। দা’ম্পত্য জী’বনে মিম নামে তাদের একটি কন্যা স’ন্তান জ’ন্ম নেয়। মিমের বর্তমান ব’য়স ৫ বছর। স’ন্তান জ’ন্মের পর কিছুদিন তাদের দা’ম্পত্য জীবন সু’খেই ছিল।

আব্দুর রহমান গাজী লেখাপড়া না জানলেও দ্বিতীয় স্ত্রী মুর্শিদা সুলতানাকে লেখাপড়া করিয়ে এমএ পাশ করান। বিয়ের পর মুর্শিদা সাতক্ষীরায় ব্র্যাকে (এনজিও) চাকুরি করতেন। আব্দুর রহমান গাজীও বাসা নিয়ে সেখানে অবস্থান করতেন।

কিন্তু সেখানে ব্র্যাকের এক কর্মক’র্তার ন’জরে পড়েন মুর্শিদা। নি’রুপায় হয়ে চাকুরি ছেড়ে আব্দুর রহমান তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। বাড়ি এসে আবারো পুরোনো পেশা রাজমিস্ত্রি কাজ শুরু করেন তিনি। আব্দুর রহমান গাজী বসবাসের ভিটেটুকু ছাড়া সকল জমিজমা সম্পদ বিক্রি করে সর্বশান্ত হন।

ধা’রদেনা করে বড় ছেলে সাগরকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন। ছোট ছেলে আকাশ তার মায়ের সাথে মামার বাড়ি অবস্থান করে পড়ালেখা করে। শে’ষ সম্বল বাড়িটাও অবশেষে স্ত্রীর চা’পে ৭ শতক জমিসহ মুর্শিদার নামে লিখে দেয়। হাতের পাঁচ হা’রিয়ে রহমান গাজী হয়ে পড়ে অ’সহায়।

স্ত্রী মুর্শিদা বিদেশ যাবার জন্য আব্দুর রহমানকে আবারো চা’প প্র’য়োগ করতে থাকে। আব্দুর রহমান স্ত্রীর কথামত বিভিন্ন এনজিও, সমিতি ও ব্যক্তির নিকট থেকে ঋ’ণ নিয়ে ৩ মাস আগে সৌদি আরবে চলে যান। ১৫ লক্ষাধিক টাকার মত ঋ’ণগ্রস্থ হয়ে পড়েন আব্দুর রহমান গাজী।

নিঃস’ঙ্গ জীবনকে আয়েশী করতে মুর্শিদা আন্দুলিয়া গ্রামের আঃ রহমান বিশ্বাস ওরফে কুদার ছেলে শাহ বিএম কিবরিয়ার সাথে প’রকী’য়ায় জ’ড়িয়ে পড়ে। বিএম কিবরিয়া শাহপুর বাজারের পশ্চিম মাথায় রয়েছে টিনের ব্যবসা। অনেকটা স্বা’মী-স্ত্রীর মতই ছিল কিবরিয়া ও মুর্শীদার মে’লামে’শা। কিবরিয়ার অ’বাধে যাতায়াত চলে মুর্শিদার ঘরে।

পাশের বাড়ির ইজিবাইক চালক মোঃ রাশেদ আকুঞ্জী জানায়, কিবরিয়া বিভিন্ন সময়ে খাবারসহ জিনিসপত্র নিয়ে প্রায়ই মুর্শিদার ঘরে প্রবেশ করতো। যা সবার নজরে ছিল। আব্দুর রহমান গাজীর সৎ মা রহিমা বেগম (৬৭) জানায়, বৃহস্পতিবার আ’ত্মহ’ত্যার আগে রহমান তার স্ত্রীর কাছে ফোন দেয়।

কিন্তু তার স্ত্রী ফোন রিসিভ না করায় আমাকে ফোনে বি’ষয়টা জানায়। পরে আমি মুর্শিদাকে ডেকে দিলে উত্তরে সে বলে আমার ফোন চার্জে আছে। পরে আমার কথামত মুর্শিদা আব্দুর রহমানের ফোন রিসিভ করে এবং আমাকে সরে যেতে বলে। পরে পাশে থাকা লোক মারফত জানতে পারি আব্দুর রহমান তার স্ত্রী’কে কিবরিয়ার পথ থেকে সরে আসতে অ’নুরোধ করে।

কিন্তু মুর্শিদা তার স্বা’মীর অ’নুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আমি কিবরিয়াকে প্রয়োজনে বি’য়ে করবো। তোমার মত স্বা’মী আমার কোন প্রয়োজন নেই। কল কে’টে দিয়ে কিছুক্ষণ পর মুর্শিদা তার স্বা’মীর ফোনে কয়েকবার রিং দিলে তা আর রিসিভ করেননি।

পরবর্তীতে সৌদি প্রবাসি ওলিয়ারের স্ত্রীর মাধ্যমে ওলিয়ারের ফোনে মুর্শিদা রিং করিয়ে তার স্বা’মীর অবস্থান সম্প’র্কে জানতে চায়। তখন তাদের কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে মরুভূমির মধ্যে একটি ঘরে আব্দুর রহমানের ঝু’লান্ত লা’শ দেখতে পায়।

আব্দুর রহমান গাজী বৃহস্পতিবার আ’ত্মহ’ত্যার দিন সকালে স্বজনদের অনেকের সাথে মোবাইলে তার পারিবারিক ক’ষ্টের কথা জানায়। এমনকি সৌদি আরবে সহকর্মীদেরও পারিবারিক ক’ষ্ট আর য’ন্ত্রণায় আ’ত্মহ’ত্যা করবে বলেও জানায়।

আব্দুর রহমানের সৎ মা রহিমা বেগম আরো জানায়, আ’ত্মহ’ত্যার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টায় আমাকে ফোন দিয়ে রহমান মুর্শিদার ঘরে যেতে বলে। আব্দুর রহমান আমাকে বলেছিল ঘরে লোক ঢুকেছে, আমাকে সে ভিডিও কলের মাধ্যমে লোকটাকে দেখিয়েছে। তখন আমি বউমাকে ডাকলে দরজা না খোলায় আমি ফিরে আসি।

আ’ত্মহ’ত্যার আগে মুর্শিদার প’রকীয়া বি’ষয় নিয়ে আব্দুর রহমান তার বোন সালমা, ভাগ্নি সোনিয়া পপিসহ অনেকের সাথে কথা বলেন। ভাষ্যমতে আব্দুর রহমান অতি ক’ষ্টে তাদের জানায়; আমার সু’খ নেই। সবই আমার কপাল। আমি মুর্শিদাকে ফেসবুক আইডি ব’ন্ধ করতে বলেছি কিন্তু সে বলেছে এটা সম্ভব না। সে নাকি কিবরিয়াকে বিয়ে করেছে। এ সমস্ত কথা আমাকে বলছে।

কর্মস্থলে সহকর্মীরা আব্দুর রহমানের অবস্থান না থাকায় তাকে খুঁ’জতে থাকে। একপর্যায়ে মরুভূমির মাঝে একটি ঘরে ঝু’লান্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানের লা’শ উ’দ্ধার করেন প্রবাসী চাচাতো ভাই এম’দাদুল হক ও ওলিয়ার রহমান। লা’শ স্থানান্তর করার অ’পরাধে তাদের ২ জনকে আ’টক করে সৌদি পু’লিশ।

লা’শ নামানোর সময় তারা আব্দুর রহমানের মোবাইল সেটটি আ’ত্মহ’ত্যা করা ঘরের চালে স্থাপন করা ছিল। ধারণামতে আ’ত্মহ’ত্যার দৃশ্য তার স্ত্রী’কে প্রদর্শন করছিল। এদিকে আব্দুর রহমানের লা’শ ফেরত আনার ব্যাপারে তার বড় ছেলে ও চাচাতো ভাইয়েরা প্রচে’ষ্টা চা’লিয়ে যাচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আব্দুর রহমানের আ’ত্মহ’ত্যার নেপথ্য কা’হিনী উদঘা’টন ও ৩ স’ন্তানের ভবি’ষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আন্দুলিয়া গ্রামের ঐ বাড়িতে শো’কাহত পরিবেশে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এক আলোচনায় বসেন। বৈঠকে মুর্শিদা সুলতানা তার প’রকীয়া প্রেমের উপাখ্যান অ’কপটে স্বীকার করেন এবং আব্দুর রহমানের ৩ স’ন্তানের ভবি’ষ্যতের জন্য নিজের নামের বসবাসের ভিটে তাদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার ঘোষণা দেয় এবং মুর্শিদা শেষমেশ তার প’রকীয়া প্রে’মিক কিবরিয়ার ঘরে উঠিয়ে দেয়ার জন্য তাদের কাছে দা’বি জানান।

বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয়দের নিকট মুর্শিদা সুলতানা জানায়, আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে কিবরিয়ার স্ত্রীর মোবাইলে ম্যাসেস দিত। তখন আমি আমার স্বা’মীকে বলেছিলাম আমিও কিবরিয়ার সাথে প’রকীয়া প্রেম করবো। কিন্তু মুর্শিদা বৈঠকে তার কোন প্র’মাণ দেখাতে পারেননি। যা এলাকাবাসী অ’যৌক্তিক ও ভিত্তিহী’ন বলে দা’বি করেন।

সৌদি প্রবাসি শফিকুল ই’সলাম তার ফেসবুকে বি’চার দা’বি করে বলেন, শাহপুর বাজারের দোকানদার শাহ বিএম কিবরিয়ার সাথে রহমান ভাইয়ের বউ খা’রাপ থাকায় রহমান ভাই গ’লায় রশি দিয়ে মা’রা গেলেন। আমরা এর বি’চার চাই।

About khan

Check Also

মাত্র ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দোতলা বাড়ি বানান

স্বল্প খরচে নতুন বাড়ি : ঘরে যেন এসির ঠাণ্ডা- কোথা থেকে ইট আসবে, কোথা থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *