Saturday , September 25 2021
Breaking News

‘গ’রিবের হোটেল’, টাকা ছা’ড়াই মিলে খাবার!

নওগাঁ শহরের কোট চত্বরের সামনে ‘হাজী নজিপুর হোটেল অ্যান্ড বিরিয়ানি হাউজ’। ইতোমধ্যেই হোটেলটি নওগাঁবাসীর কাছে গরিবের হোটেল নামে পরিচিতি পেয়েছে।

প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর হলেই নানা জায়গা থেকে এই হোটেলে এসে বসে পড়েন ছি’ন্নমূল মানুষ। একবেলা ভালো পরিবেশে ভালো খাবার খেয়ে তৃ’প্তির ঢেঁ’কুর তোলেন তারা। দোয়া করেন দু’হাত তুলে হোটেল মালিকের জন্য।

হোটেল মালিক আলহাজ আলী আজগর হোসেন বলেন, ‘কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে না। নিজের অতীত ক’ষ্টের কথা ভেবে আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এমন উদ্যোগ।

যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিনই এমন কাজ করে যেতে চাই আমি।’আলহাজ আলী আজগর হোসেনের এমন উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে সব মহলে।

প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুরে শতাধিক দরিদ্র, অস’হায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ চেয়ার টেবিলে বসে অতিথিদের মতো একবেলা তৃপ্তির সহকারে বিনামূল্যে খান এই হোটেলে।

খাবার মেন্যুতে থাকে ডিম, মাছ, মাংস, ডাল ও সবজি। দেখে মনে হবে, কোনো আনন্দঘন অনুষ্ঠান। খাবারের জন্য নেই কোনো হু’ড়োহু’ড়ি বা কা’ড়াকা’ড়ি। যে যখন আসছেন বসে পড়ছেন খাবারের সারিতে। এভাবেই প্রতি বৃহস্পতিবার চলে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

যাদের ভা’গ্যে তিনবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না,তারা এমন খাবার পেয়ে বেজায় খুশি। এখানে বিনামূল্যে এমন ভালো খাবার খেয়ে তৃ’প্তির ঢেঁ’কুর তুলছেন ছি’ন্নমূল মানুষেরা।

খাবার খেতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, ভি’ক্ষাবৃ’ত্তি করে চলে জীবন। আমাদের ভা’গ্যে জোটে না ঠিকমতো খাবার। মাছ, মাংসতো বছরে একবারও কেনার সামর্থ নেই। আগে বছরে একবার কুরবানির ঈদে মাংস খাইতাম।

এখন নিয়মিত এ হোটেলে খেতে আসি। বৃহস্পতিবার অন্য কোনো এলাকায় না গিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভি’ক্ষা করে দুপুরে এসে কোনো দিন গোস্ত ও কোনো দিন মাছ দিয়ে পেট ভরে ভাত খাই।’

আব্বাস আলী বলেন, ‘জীবনের অনেক সময় পার করেছি। শেষ জীবনে এসে একা ও অস’হায় হয়ে পড়েছি। এখন ঠিকমতো চলা-ফেরাও করতে পারি না। আর ভালো-মন্দ খাবার আশা করাইতো দো’ষের।

About khan

Check Also

মাত্র ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দোতলা বাড়ি বানান

স্বল্প খরচে নতুন বাড়ি : ঘরে যেন এসির ঠাণ্ডা- কোথা থেকে ইট আসবে, কোথা থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *