Thursday , September 16 2021
Breaking News

দুটি পা ও একটি হাত নে’ই, তারপরও শত বা’ধা পে’রিয়ে স্বা’বলম্বী শাহিদা

৬ ছেলে মেয়েদের মধ্যে শুধুমাত্র শাহিদাই ছিল প্রতিব’দ্ধি। অথচ এই শাহিদাই সকলকে ছাপিয়ে গেছে। যশোরের এমএম কলেজ থেকে মাষ্টার্স শেষ করেছে শাহিদা। তার এই সাফল্যের পিছনে অবদান রয়েছে তার পিতা-মাতা এবং ভাইবোনদের।

শাহিদা খাতুনের দুটি পা ও একটি হাত নেই। সচল একটি মাত্র হাত। সেই হাতের আঙুল সচল তিনটি। ছোট বেলা যখন স্কুলে ভর্তি হয়েছে তথন ক্লাসের স্যারেরা ভয় পেয়ে গিয়েছিল এই ভেবে যে সে কিভাবে ক্লাস করবে।

শোরের ঝিকরগাছা উপজে’লার শিমুলিয়া গ্রামের মুদি দোকানি মো. রফিউদ্দিনের ছয় সন্তানের মধ্যে ৪র্থ শাহিদা। ১৯৯১ সালে শাহিদার জন্ম হলে গোটা পরিবারে যেন আঁধার নেমে আসে।

কারণ মেয়েটির একটি হাত ও দুটি পা নেই। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে অশ্রম্নসিক্ত হয়ে পড়েন শাহিদার মা জোহরা বেগম। ৬বললেন, ‘পাড়া-প্রতিবেশীরা বলত, পাপ করেছি, তারই ফল পেয়েছি।

ঘিন্নায় মানুষ কথা বলত না।’ শাহিদাকে বলতা, ‘তুই কি করতি হইছিস্‌? তোরে দিয়ে তো কিছ্‌ছু হবে না। আমাগের হলি তো মাইরে ফেলতাম!’ এই ছিল শাহিদার শৈশব!

কখনো মা-বাবা, কখনো ভাইবোনের কোলে চড়ে স্কুলে যাতায়াত শুরু হয় শাহিদার। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কোনো কিছুই তাকে স্কুল থেকে দূরে রাখতে পারেনি। পড়াশোনার প্রতি আন্তরিক ও অদম্য আগ্রহের কারণে শিক্ষকরাও পরে তার প্রতি সহানুভূ’ত িশীল হয়ে ওঠেন। এভাবেই সেন্টলুইস হাইস্কুল থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও ২০০৯ এ শিমুলিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

শাহিদা জানান, এরপর বাড়ি থেকে ৮ কিলোমিটার দূরের শহিদ মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হন। প্রতিদিন একশ টাকায় একটি ভ্যান ভাড়া করে দেন বাবা। সেই ভ্যানে কলেজে যাতায়াত করে বিএ পাস করেন।

এরপর যশোর এমএম কলেজ থেকে ২০১৬ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন।শাহিদার স্বপ্ন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স’ঙ্গে দেখা করে একজন প্রতিব’ন্ধী র কষ্ট ও সংগ্রামের গল্প তাঁকে শোনাবেন।’

About khan

Check Also

সৃজিতের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই: অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন

আজমেরী হক বাঁধন। যাকে নিয়ে নানা সময় নানান গুঞ্জন শোনা গেছে। তবে এবার দীর্ঘদিনের নানা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *