Saturday , September 25 2021
Breaking News

সন্তান প্রতিব’ন্ধী হওয়ায় স্ত্রী’কে তালাক দিলেন স্বামী!

শারীরিক প্রতিব’ন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ায় পাবনার চাটমোহর দুলালী খাতুন নামে এক গৃহবধূকে তালাক দেওয়ার অ’ভিযোগ উঠেছে স্বামী আল আমিন হোসেনের বি’রুদ্ধে।

গত পাঁচ মাস আগে কাজী অফিসে গিয়ে তালাক দেওয়ার পর কাগজ নিজের কাছে গো’পন করে রাখে আল-আমিন। শনিবার ডাকযোগে আলামিন হোসেনের পাঠানো তালাক নোটিশ হাতে পান দুলালী। এমন অমানবিক আচরণে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। তারা আলামিনের বিচার দাবি করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজে’লার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কা’টাখালি গ্রামের মৃ’ত. আবুল হোসেনের মে’য়ে দুলালী। ছোটবেলায় বাবা হা’রানো দুলালীর মা খইচন বেওয়া মানুষের বাড়ি কাজ করে অনেক ক’ষ্টে একমাত্র মে’য়েকে বড় করেন। বছর পাঁচেক আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয়স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে একই এলাকার কান্দিপাড়া গ্রামের রব্বান হোসেনের ছে’লে দিনমজুর আল আমিন হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় দুলালীর। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেওয়া হয় নগদ ১০ হাজার টাকা ও একটি বাইসাইকেলসহ নানা উপহারসামগ্রী।

দুলালীর মা খইচন বেওয়া জানান, বিয়ের দুই বছর পর দুলালীর কোল আলো করে জন্ম নেয় ছে’লেসন্তান ‘দুর্জয়’। কিন্তু দুর্জয় শারীরিক প্রতিব’ন্ধী হওয়ায় দুলালীর জীবনে অ’ভিশাপ নেমে আসে। এর জন্য দুলালীকে দায়ী করে আলামিন, তার বাবা রব্বান হোসেন এবং শাশুড়ি ফরিদা খাতুন দুলালীকে মানসিক ও শারীরিক নি’র্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। মায়ের বাড়ি ফিরে ন্যায়বিচার চেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বরসহ গ্রাম প্রধানদের কাছে দুলালী বারবার ধর্ণা দিয়েও মেলেনি কোনো প্রতিকার।

এদিকে দেনমোহরের টাকা বুঝিয়ে না দিয়েই গত ৫ জুলাই চাটমোহর পৌর শহরের ম্যারেজ রেজিস্টার আবদুর রাজ্জাকের কাজী অফিসে এসে আল আমিন হোসেন তালাকনামায় স্বাক্ষর করে কাগজ নিজের কাছে গো’পন করে রাখেন। সম্প্রতি, আলামিন সেই তালাক নোটিশ ডাকযোগে দুলালীর কাছে পাঠায়। শনিবার সেই তালাক নোটিশ হাতে পান দুলালী।

সোমবার কা’টাখালি গ্রামে দুলালীর মায়ের বাড়িতে গিয়ে কথা হয়, দুলালী খাতুনের সঙ্গে। কা’ন্নাজ’ড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, প্রতিব’ন্ধী সন্তান জন্ম দেয়া কী’ আমা’র অ’প’রাধ? প্রতিব’ন্ধী সন্তান জন্ম দিয়েছি বলে স্বামী-শ্বশুর, শাশুড়ি মা’রধর করে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এখন স্বামী তালাক দিল! আমি স্বামীর সংসার করতে চাই। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।

জানতে চেয়ে আলামিন হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, প্রতিব’ন্ধী সন্তানের জন্য তালাক দেইনি। কার্যকলাপের কারণে তালাক দিয়েছি। ছে’লে আমা’র যেহেতু, সেহেতু দায়িত্বও আমা’র। তালাক নোটিশ গো’পন করলেন কেন- এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি ফোনের সংযোগ কে’টে দেন।

চাটমোহর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা সৈকত ইস’লামকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, স্বামী বা স্ত্রী’ যে কেউ তালাক দিতে পারেন। তবে প্রতিব’ন্ধী সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে যদি এমন ঘটনা ঘটে তবে বিষয়টি অমানবিক। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

About khan

Check Also

মাত্র ২ লক্ষ টাকা দিয়ে দোতলা বাড়ি বানান

স্বল্প খরচে নতুন বাড়ি : ঘরে যেন এসির ঠাণ্ডা- কোথা থেকে ইট আসবে, কোথা থেকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *