Friday , December 4 2020
Breaking News
Home / Health / কিভাবে টেস্টটিউব বেবি হয় জানেন ? অবশ্যই জেনে রাখুন এই বিষয়টি, প্রত্যেকের জেনে রাখা দরকার

কিভাবে টেস্টটিউব বেবি হয় জানেন ? অবশ্যই জেনে রাখুন এই বিষয়টি, প্রত্যেকের জেনে রাখা দরকার

তিটা নারীই মা হতে চান। একজন নারীর তার স্বামীর কাছে সব থেকে বড় চাওয়া হল একটি শিশু। একটি শিশু দুজনের সম্পর্কটাকে আরও শক্ত ও মজবুত করে তোলে। কিন্তু সবার ভাগ্য সমান হয় না, একজন নারী কিংবা পু’রুষের শা’রিরীক সম’স্যার জন্য সেই সৌভাগ্য থেকে অনেক দম্পতিই বঞ্চিত হয়।এই সমস্যাকেই আমরা বন্ধ্যাত্ব বলে থাকি। আর টেস্টটিউব বেবি হচ্ছে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সর্বজনস্বীকৃত একটি পদ্ধতি।

ভারতবর্ষে টেস্টটিউব বেবি এখন আর কোন কল্পনার বিষয় নয়। উল্লেখ্য, পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্টটিউব বেবি ‘লুইস জয় ব্রাউনে’র জ’ন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ২৫শে জুলাই ইংল্যান্ডে। আর ঠিক কিছুদিন পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় এবং ভারতবর্ষের প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় ৩রা অক্টোবর কলকাতায়। তার নাম ছিল কানুপ্রিয় আগরওয়াল ওরফে ‘দূর্গা’

প্রায় চল্লিশ বছর আগে ডাক্তার সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের হাতে জন্ম হয় দেশের প্রথম টেস্টটিউব বেবি দূর্গা, আর জন্মের সঙ্গে এই শহর কলকাতায়ই বড় হয়ে ওঠা তার। কিন্তু ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবির সফল জন্মের পরেও তার স্বীকৃতি পাননি ডাক্তার বা সেই টেস্টটিউব বেবি নিজেও। আর এখন প্রায় চল্লিশ বছর পর অবশেষে স্বীকৃত আর সম্মান দুই পেয়ে ভারতের প্রথম টেস্টটিউব বেবি হিসাবে ‘স্রষ্টা’ তার নাম করেছে।

টেস্টটিউব বেবি নিয়ে আমাদের অনেকের মনেই রয়েছে নানা রকম কুসংস্কার ও ভুল ধারণা। ‘টেস্টটিউব বেবি’ – এই শব্দগুলো থেকেই অনেকের মনে ভুল ধারণার জন্ম হয়েছে। এই কারণে অনেকেই মনে করেন টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় টেস্টটিউবের মধ্যে। আবার কেউ কেউ মনে করেন টেস্টটিউব বেবি কৃত্রিম উপায়ে জন্ম দেওয়া কোন শিশু। কাজেই কৃ’ত্রিম উপায়ে এভাবে সন্তা’ন লাভে ধর্মীয় বাধা থাকতে পারে। কিন্তু টেস্টটিউব বেবির বিষয়টি মোটেই তা নয়।

টেস্টটিউব বেবি হচ্ছে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সর্বজনস্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিরও বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। এই কৌশলের একটি হচ্ছে আইভিএফ। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিকে সংক্ষেপে বলা হয় আইভিএফ। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডি’ম্বাণু ল্যাপারেস্কোপিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত সন্তর্পণে বের করে আনা হয়। তারপর সেটিকে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়।

একই সময়ে স্বামীর অসংখ্য শু’ক্রাণু সংগ্রহ করে তা থেকে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের একঝাঁক শু’ক্রাণু। তারপর অসংখ্য সজীব ও অতি ক্রিয়াশীল শু’ক্রাণুকে ছেড়ে দেওয়া হয় নিষিক্তকরণের লক্ষ্যে রাখা ‘ডিম্বাণুর পেট্রিডিশে। ডিম্বাণু ও শু’ক্রাণুর এই পে’ট্রিডিশটিকে তারপর সংরক্ষণ করা হয় মা’তৃ’গ’র্ভের পরিবেশ অনুরূপ একটি ইনকিউবিটরে।

ইনকিউবিটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যায় নি’ষিক্তকরণের পর ভ্রূণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। ভ্রূ’ণ’ সৃষ্টির পর সেটিকে একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরা’য়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। জ’রায়ুতে ভ্রূ’ণ সংস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পরই তা চূড়ান্তভাবে বিকাশ লাভের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে এবং সেখান থেকেই জন্ম নেয়। কোন টেস্টটিউবে এই শিশু বেড়ে ওঠে না।

স্বাভাবিক জন্ম নেওয়া প্রক্রিয়ায় জ’ন্ম নেওয়া শিশুর পুরোটাই সম্পন্ন হয় মা’য়ের ডি’ম্বনালি ও জ’রায়ুতে। আর টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামীর শু’ক্রাণু সংগ্রহ করে সেটি একটি বিশেষ পাত্রে রেখে বিশেষ যন্ত্রের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয় নিষিক্তকরণের জন্য।

নি’ষিক্তকরণের পর সৃষ্ট ভ্রূণ’কে স্ত্রী’র জ’রায়ুতে সংস্থাপন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। সূচনার এই সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়টাতে শিশু একদম স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই মাতৃগ’র্ভে বেড়ে ওঠে। একজন স্বাভাবিক গর্ভ’ধারিণীর জরা’য়ুতে বেড়ে ওঠা শিশুর জীবন প্রণালির সঙ্গে টেস্টটিউব বেবির জীবন প্রণালির কোন পার্থক্য নেই। এ নিয়ে অনাবশ্যক আগ্রহ সৃষ্টিরও কোন সুযোগ নেই। রো’গী রো’গের চিকিৎসা করাবেন, এটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং যারা ভাবছেন টেষ্টটিউব বেবি মানেই কৃত্তিম শিশু। টেষ্টটিউবেই জন্ম হয় তাদের। তারা নিজেরদের ধারনা পাল্টে ফেলুন, আর যারা সন্তানের মুখ দেখতে পারছেন না তাদের সাহায্য করুন বাবা কিংবা মা হতে।

About khan

Check Also

জেনে নিন কোন আপেল বেশি ভালো : লাল না সবুজ

আ’পেল মূলত তার মিষ্টি স্বাদের জ’ন্য জ’নপ্রিয়। ইংরেজীতে একটি প্র’বাদ আ’ছে—“An apple a day, keeps ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page