Thursday , September 23 2021
Breaking News

কোটিপতি ব্যবসায়ী, শুরুতে পুজি ছিল মাত্র ১৫০ টাকা!

রাজবাড়ী পৌরসভার নিয়ামুল হক স্বপন। বাবাকে হারান ২০০১ সালে। পকেটে তখন মাত্র দেড়শ টাকা। ওই স্বল্প পুঁজি নিয়েই শুরু করেন মাছ চাষ। ১৯ বছর আগের সেই দেড়শ টাকা স্বপনকে এনে দিয়েছে কোটি টাকা। তিনি এখন মাছের ঘের, ফল-সবজি বাগানের মালিক।

অহনা-অন্তর বহুমুখী কৃষি খামারের মালিক নিয়ামুল হক স্বপনের প্রতি মাসে আয় প্রায় দুই লাখ টাকা। খামারের পুকুর পাড়ে তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষ করেন। খামার পরিচর্যাকারীদের জন্য রয়েছে থাকার ব্যবস্থা, মাছ চাষিদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণের স্থান।

জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মাছ চাষে বেশ আগ্রহ ছিল স্বপনের। বাবা কোমর উদ্দিনের মৃত্যুর পর দেড়শ টাকা দিয়ে ৩০ শতাংশ জমিতে দেশীয় প্রজাতির মাছ আটকে রাখেন ও চাষের উদ্দেশ্যে কিছু কার্প জাতীয় মাছ ছাড়েন। কয়েক বছর মাছ চাষ করে বেশ সফলতা পান। পরবর্তীতে ওই জমিতে পুকুর কেটে আরো বড় পরিসরে মাছ চাষ করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। এখন খামার থেকে বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

সফল খামারি নিয়ামুল হক স্বপন জানান, বিলে চাষ করা মাছ বিক্রি করে ১২ বিঘা কৃষি জমি কিনেছেন তিনি। সেখানে শুকনো মৌসুমে ধান ও বর্ষা মৌসুমে মাছ চাষ করেন। এছাড়া পুকুর পাড়ে নানা ধরনের বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন। এখন চারটি পুকুরের আলাদা রেণু-পোনা রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্প জাতীয় মাছ চাষ ও পুকুরের এক পাশে দুটি শেডে প্রায় চার হাজার মুরগি পালন করছেন তিনি।

স্বপন বলেন, পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় বাবার মৃত্যুর পর সব চাপ এসে পড়ে আমার ওপর। কী করে সংসার চালাবো বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু পকেটে ছিল মাত্র দেড়শ টাকা আর বিলে ৩০ শতক জমি। নানা চিন্তা-ভাবনার পর শুরু করে দিলাম মাছ চাষ। আমার ভাই ও ছেলে আমাকে অনেক সাহায্য করছে। এখন আমার মাছের ঘের, সবজির বাগান, মুরগির খামার রয়েছে। কষ্টে গড়া খামার থেকে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা আয় করি।

তিনি আরো বলেন, আমাকে দেখে প্রতিবেশী অনেক বেকার যুবক এখন মাছের ঘের কিংবা খামারের মালিক। অনেকেই আমার কাছে এসে বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ নেয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এসব ব্যবসায় লোকসান নেই। যারা বেকার কিংবা গরিব, তারা ছোট পরিসরে এসব খামার করলে সফলতা পাবে। সরকারও মৎস্য চাষি ও খামারিদের অনেক সহযোগিতা করছে।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, নিয়ামুল হক স্বপন একজন সফল মৎস্য চাষি হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। করোনা মহামারির মধ্যেও প্রান্তিক পর্যায়ে তিনি মাছের উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। মৎস্য অধিদফতর থেকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। দক্ষতার কারণে তিনি এখন অনেক তরুণ খামারির আদর্শ।

About khan

Check Also

রাতে ৯ বার, সকালে না দেওয়ায় যুবকের কাণ্ড

সারা রাতভর অ’বৈধ মেলামেশার পর প’র’কীয়া প্রে’মিক দুই শেষ ফেলার উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশে ফে’লে দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *