Thursday , October 22 2020
Breaking News
Home / Education / জীবনে সফল হওয়ার জন্য দরকার যে ৯ গুন

জীবনে সফল হওয়ার জন্য দরকার যে ৯ গুন

জীবনে সফল হওয়ার জন্য দরকার যে ৯ গুন

নিজের বিশ্বাস , ধ্যান-ধারণা, ভাবনাচিন্তা, জীবনবোধের প্রতি গভীর আস্থাই আত্মবিশ্বাস। সাফল্য অর্জন আর জীবনকে আনন্দময় করতে আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিদিনের নানা ব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় অনেক সময় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি।

কাজ শেষ করার সময় সীমা , স্ট্রেস, টেনশন এই সব কিছুর সাথে তাল মেলাতে মেলাতে কখনো একটু পিছিয়ে পড়লে যেন অজান্তেই আমাদের আঁকড়ে ধরে হতাশা ও মন খারাপ করা এক অনুভূতি। এতে আত্মবিশ্বাস যেনো ধাক্কা খায়। মনে রাখতে হবে এই নেতিবাচক ভাবনাকে আমলে নিলেই জীবনের পথে অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হবে। আমাদের সবার সব সময় মনে রাখা উচিত, কাজ করলে ছোটখাটো ভুল-ভ্রান্তি হতেই পারে এবং সেই ভুল-ভ্রান্তি থেকেই পরবর্তী শিক্ষা নিয়ে জীবনের পথে এগিয়ে চলাটাই মূল লক্ষ্য। জীবনের প্রতি আগ্রহ একটা ইতিবাচক মনোভাব রাখাই হলো নিজের আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।

প্রতিদিন আমাদের জীবনে যা ঘটে তার বেশির ভাই আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না। এ কারণে সে সব পরিস্থিতি নিয়ে অযথা চিন্তা করারও কোনো মানে হয় না। তবে যে পরিস্থিতিটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ ভাবে পরিস্থিতি বিচার করার। অনেক সময়েই হতে পারে, যে কোনো একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে আপনি যে সিদ্ধান্তটা নিলেন পরে গিয়ে হয়তো দেখলেন, সেই সিদ্ধান্ত হয়তো পুরোপুরি সঠিক ছিল না। সে ক্ষেত্রেও কখনোই নিজের আত্মবিশ্বাস হারাবেন না।

প্রত্যেক মানুষ নিজের ভুল থেকেই শেখে। আর এই ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া হলো মূল উদ্দেশ্য। মনে রাখবেন, একবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই যে জীবনে আপনি কখনো কোনো ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না অথবা সব সিদ্ধান্তই নেয়ার জন্যই আপনাকে অন্য কারোর সাহায্য নিতে হবে এমন ধারণাও একেবারেই ভুল। কয়েকটি ছোটখাটো জিনিসের দিকে খেয়াল রাখলেই দেখবেন আপনার নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে।

৩.নিজের ত্রুটি বোঝার চেষ্টা করুন
আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপই হলো নিজের ত্রুটিগুলো বোঝার চেষ্টা করা। অন্য কেউ আপনার ভুল ধরিয়ে দেয়ার আগে আপনি নিজেই যদি ছোটখাটো ঘাটতি গুলো কাটিয়ে উঠতে পারেন, এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারে না। প্রথমেই বোঝার চেষ্টা করুন, আপনি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে অস্বস্তিবোধ করেন, কোনো কোনো মানুষের সাথে আপনি মানিয়ে চলতে পারেন না অথবা কেন হঠাৎ করেই আপনার মুড পরিবর্তন হয়। এসব লক্ষ রাখলেই দেখবেন, নিজেকে আরো ভালো করে বিশ্লেষণ করতে পারছেন। এর থেকেই গড়ে উঠবে আপনার আত্মবিশ্বাস। কারণ তখন আপনার কাছে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে উঠবে আপনার পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকগুলো।

৪.নিজের কিছু সমস্যা বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নিন
অনেক সময়েই আমরা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে এতটাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি যে, কোন সিদ্ধান্তটা ঠিক আর কোন সিদ্ধান্তটা ভুল সেটা বুঝে উঠতে পারি না। সে ক্ষেত্রে কোনো বন্ধু অথবা আত্মীয়ের মতামত নেয়া যেতেই পারে। এতে নানা রকমের চিন্তাভাবনার আদান প্রদান হয়। তবে আপনার কোনো সিদ্ধান্ত যেন অন্য কোনো ব্যক্তির মতামতের দ্বারা প্রভাবিত না হয় সে দিকেও লক্ষ রাখবেন।

৫.কেউই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়
আমরা মনে করি , কোনো কাজে সামান্য ত্রুটি থাকা মানেই আমাদের চিন্তাভাবনা অথবা কাজ করার পুরো ধরনটাই ভুলে ভরা। এই মানসিকতাই একেবারে ভুল। একটা কথা আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত যে পৃথিবীতে কোনো মানুষই পারফেক্ট বা ভুলত্রুটি ঊর্ধ্বে নন। সবার মধ্যেই কোনো না কোনো ভুল অথবা ত্রুটিবিচ্যুতি থাকে। তবে সেই ত্রুটিবিচ্যুতিকে অতিক্রম করে জীবনে এগিয়ে চলাকেই আত্মবিশ্বাস বলে।

৬.সব সময় পজিটিভ থাকার চেষ্টা করুন
কোনো বিষয়ে সমস্যায় পড়লে দিশেহারা না হয়ে সমস্যা নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বিচার করার চেষ্টা করুন। মনে করার চেষ্টা করুন, আপনার হাতে কী কী রিসোর্স আছে এবং কারা কারা আপনাকে সেই বিশেষ সমস্যায় সাহায্য করতে পারেন। সবসময় নিজের সাথে জরুরি ফোন নম্বর রাখুন, যাতে কোনো বিপদে বা দুর্ঘটনায় কারো সাহায্য পেতে অসুবিধে না হয়। যা ঘটে গেছে তাই নিয়ে অযথা চিন্তা করে সময় ব্যয় না করে কিভাবে সেই পরিস্থিতি সামলে উঠতে পারেন তাই নিয়ে ভাবুন। নিজের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে অন্যের দিকেও আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। সব সময়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করুন। কখনো সন্দেহ, হিংসা, অবজ্ঞার মতো নেতিবাচক অনুভূতিকে মনে জায়গা নিতে দেবেন না।
যা আছে তার জন্যে কৃতজ্ঞ থাকুন
আমার কাছে কী কী নেই তাই নিয়ে অনেকে আক্ষেপ করে সময় নষ্ট করে থাকেন কিংবা এক ধরনের দুঃখবোধ কাজ করে। কিন্তু আমরা যত মনে করব, আমাদের কাছে জিনিসপত্র, অর্থ, যশ কিংবা প্রতিপত্তি পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই, ততই একটা নেগেটিভ অনুভূতি বাড়বে। এর ফলে আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি পড়বে।

৭.অন্যের প্রশংসা করুন
অন্য কোনো ব্যক্তির কোনো ভালো গুণের প্রশংসা করাটাও আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তার লক্ষণ। কারণ যাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব আছে তাদের পক্ষে অন্য কারোর প্রশংসা করা কখনোই সম্ভব নয়। কখনো কারোর সমালোচনা করবেন না। সমালোচনা করাটা কখনোই চরিত্রের দৃঢ়তা প্রকাশ করে না।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন
কোনো পরিস্থিতিতেই অন্যায়কে মেনে নেবেন না। অন্যায় দেখে চুপ করে থাকাটাও পরোক্ষে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়াই হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ মানেই যে কারোর সাথে ঝগড়া করতে হবে এমন নয়। নিজের বক্তব্য যুক্তির সাথে অন্যকে বুঝিয়ে বলুন। নিজের মন ও মেজাজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ রেখে অন্যকে তার ভুলটা আপনি কিভাবে বুঝিয়ে বলতে পারবেন, তা থেকেই বোঝা যায় আপনার আত্মবিশ্বাস কতটা।

৮.ভালো বই পড়ুন, আপডেটেড থাকুন
চার পাশের পরিবেশ এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা যত বেশি জানব, আমাদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে তা তত বেশি সাহায্য করবে। তাই অযথা কাজে অথবা গল্প করে সময় নষ্ট না করে নানা রকমের বই পড়–ন। প্রতিদিন নিয়ম করে সংবাদপত্র পড়–ন। এর ফরে পৃথিবীর নানা বিষয় সম্পর্কে আপনার জ্ঞানও বাড়বে। আর এতে অন্য কারোর সাথে আলোচনা করার সময়ে আপনি আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগবেন না। অনেকের বই পড়ার অভ্যেস থাকে না। সে ক্ষেত্রে টিভিতে তো এখন চব্বিশ ঘণ্টা নানা রকমের নিউজ চ্যানেল আছে। টেলিভিশনের চলমান ঘটনা প্রবাহের ওপর নজর রাখুন।

৯.খেয়াল রাখুন নিজের দিকে
নিজেকে সুন্দর ও সুস্থ রাখুন। শরীর ভালো তো মনও ভালো। ভালো মনের মানুষ হবেন আত্মবিশ্বাস। নিজেকেই যদি আমরা ভালোবাসতে না পারি, তাহলে কিন্তু আমাদের চার পাশের মানুষকেও আমরা ভালোবাসতে পারব না। দিনের কেছুটা সময় আপনার ভালো লাগার কোনো কাজ করুন। বাগান করা, গান শোনা, সুইমিং অথবা বই পড়ার মতো কাজে কিছুটা সময় দিন।

About Dolon khan

Check Also

“হানিফ সংকেত” ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র ছিলেন

“হানিফ সংকেত” ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিকের স্টুডেন্ট ছিলেন।দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x