Tuesday , October 27 2020
Breaking News
Home / Tips / বাড়ির টবেই আলু চাষের সহজ ও কার্যকরী উপায়

বাড়ির টবেই আলু চাষের সহজ ও কার্যকরী উপায়

বাজারে আলু কিনতে গিয়ে তো হাতে আগুন লাগার জোগাড়। কোথাও চল্লিশ টাকা, আবার কোথাও পঞ্চাশ। কিন্তু আলু ছাড়া তো বাঙালির রান্নাই জমে না! তাহলে কি করা যায়? কেন, বাড়িতেই আলু চাষ করে ফেলুন না। খুব সহজ পদ্ধতি আর তেমন পরিশ্রম নেই। শুধু বেশি চিন্তা না করে এবার শুরু করে দিন নিজের বাড়িতেই আলুর চাষ।

আলু চাষের সময় আলু সারা বছরের সবজি হলেও সবচেয়ে ভাল আলু চাষ করার সময় হল নভেম্বর মাস। এই সময়ে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রীর কাছাকাছি থাকে। শীত পড়তে শুরু করে অল্প অল্প। সেই সময়ে আলু কিন্তু খুব ভাল হয়। তবে আপনারা চাইলে অক্টোবর মাসেও কিন্তু চাষ শুরু করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফলন পেয়ে যাবেন।

চাষের মাটি ঝুরঝুরে মাটি আলু চাষের জন্য উপযুক্ত হল দোআঁশ মাটি বা বেলে-দোআঁশ মাটি। এর মধ্যে অবশ্যই মেশাতে হবে উপযুক্ত পরিমাণে জৈব সার। আপনি যে কোনও ভাল নার্সারিতে জৈব সার পেয়ে যাবেন। এতে আলু খুব ভাল হয়। ৪০ শতাংশ জৈব সার আর ৬০ শতাংশ মাটি মিশিয়ে আলু চাষের উপযুক্ত মাটি তৈরি করতে হবে। মাটি কিন্তু ঝুরঝুরে থাকা আবশ্যক।

আলু কীভাবে রোপণ করবেন অনেক সময়ে আলুর থেকে মূল বেরিয়ে থাকে। সেই আলুগুলি আলাদা করে রেখে দেবেন আলু চাষের জন্য। একটা লম্বাটে বড় পাত্রে মাটি ভাল করে বিছিয়ে নিন। এবার লম্বা করে দুটো দাগ কেটে নিন আঙুল দিয়ে। ওই দাগ বরাবর আপনি রোপণ করবেন আলু। দুটি দাগের মধ্যে তিন ইঞ্চি মতো ফাঁক রাখবেন। এবার ওই দাগের মধ্যে মধ্যে আলু পুঁতে দিন। আলুর থেকে বেরোনো মূলটা উপরের দিকে রাখবেন।

একটা লাইনে পাঁচটা করে আলু বসাতে পারেন। এবার উপর দিয়ে মাটি দিয়ে দিন যাতে আলুগুলি চাপা পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই জল দেওয়ার দরকার নেই। রোদের থেকে দূরে ছায়ায় তিন দিনের জন্য রেখে দিন। তিন দিন পর অল্প স্প্রে করে দিন জল। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখবেন চারা গজাচ্ছে।

গাছে সার সার হল গাছের খাদ্য। নিয়ম করে মাসে একবার সার গাছে দিতেই হবে। আর বাজার থেকে না এনে বাড়িতেই জৈব সার বানালে কেমন হয়! তেমন কিন্তু কোনও খাটনি নেই। আপনার বাড়ির গাছের শুকনো পাতা সিমেন্টের বস্তার মধ্যে ভরে রেখে দিন। এমন জায়গায় রাখুন যেন বৃষ্টি পড়লে বস্তায় জল পড়ে।

গরমের সময় মাঝে মাঝে ওই বস্তায় জল দিন অল্প অল্প। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস পর দেখবেন পাতা পচে গেছে। এবার ওই পচা পাতা শুকিয়ে বালি চালার চালনিতে নিয়ে চেলে নিন। চালার সময়ে দেখবেন নিচে ঝুরঝুরে হয়ে পড়ছে।

এটিই হল আপনার সহজ পাতা সার। এর মধ্যে যদি কেঁচো তৈরি হয় তাহলে তো কথাই নেই। মাসে একবার করে এই সার আপনার আলুর টবের চারদিক দিয়ে দিয়ে দিন। আলু রোপণের মাটি করার সময়েও এই সার দেওয়া যায়।

জলের পরিমাণ আলুর চারায় জল দিতে হবে আলু চাষে খাটনি একবারই। রোপণ করার সময়ে। কিন্তু তার পর আর কোনও আলাদা খাটনি লাগে না। তবে নিয়ম করে জল দিতে হবে। জলের ক্ষেত্রে বলি, একদম কাদা কাদা করে জল দেবেন না। মাটি অল্প ভিজলেই হয়ে গেল। বেশি জল দিলে বা পাত্রে জল জমে থাকলে কিন্তু আলু পচে যাবে। আর বৃষ্টির সময়ে সরাসরি যেখানে বৃষ্টি পড়ে না সেখানে রাখুন আলু।

আলু তোলার সময় প্রায় দুই থেকে আড়াই মাসের পর আলু তোলা যায়। আপনারা দেখবেন এই সময়ে আলুর চারা একদম নুইয়ে গেছে। পাতা একদম শুকিয়ে গেছে। আর তার মধ্যে প্রাণ নেই বললেই চলে। এবার বুঝবেন আলু হয়ে গেছে আর তা বাইরে আসার জন্য তৈরি। তখন আলুর টব উলটে নিয়ে মাটি থেকে আলু বের করে নিন।

এইভাবে নিয়ম মেনে আলু চাষ করলে কিন্তু বাজারে আর আলু কিনতে যেতে হবে না। বাড়ির ছাদ থেকেই আলু নেবেন আর রান্নায় দেবেন।

About Dolon khan

Check Also

চাল ধোওয়া পানি অথবা ভাতের মাড় কখনো ফেলবেন না, কারণ তা অবিশ্বাস্য কাজের!

একবার ভাত হয়ে গেলে, ফ্যান বা মাড়টা কি কখনও রেখে দিয়েছেন? সুতির জামা-কাপড়ে মাড় দেওয়ার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x

You cannot copy content of this page