Tuesday , October 27 2020
Breaking News
Home / Exception / বিয়ের দাওয়াতে এসে ১৫ বছর পর মায়ের সন্ধান

বিয়ের দাওয়াতে এসে ১৫ বছর পর মায়ের সন্ধান

বর কনে নিয়ে বিয়ে বাড়িতে চলছে আনন্দ উৎসব। চলছে শিশুদের দৌঁড়ঝাপ, কোলাহল। আত্মীয়তার সুবাদে বিয়ের অনুষ্ঠানে আসেন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার জিরোধারাবাজি এলাকার ঘরখোল গ্রামের আল আমিন। তবে তার এই অনন্দের মাঝেও অনুসন্ধানী চোখ দুটো কি যেন খুঁজছিল।

খুঁজতে খুঁজতে যান পার্শ্ববর্তী বাজারে। সেখানে গিয়ে লোকমুখে শুনতে পান বাজারে থাকেন এক ‘পরহেজগার পাগলী’। সারাদিন ইবাদত করেন। পথচারীরা দয়া করে যা দেন তাই খেয়ে চলেন। আল আমিনের ১৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মাও পরহেজগার ছিলেন। তাই কৌতুহল নিয়ে যান দেখা করতে।

দূর থেকে দেখে এগিয়ে যান দ্রুত। সামনে এসে কেউ কারো পরিচয় দিতে হয়নি। মায়ের চোখ চিনে নিয়েছে ১৫ বছর আগের সন্তানকে। সন্তানও চিনে ফেলেছে মাকে। স্নেহমাখা হাতে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে নাম ধরেই ডাকলের বাজারে থাকা ‘পরহেজগার পাগলি’ মা। ১৫ বছর পর হারিয়ে যাওয়া মাকে খুঁজে পেয়ে আল আমিন হাউ মাউ করে কেঁদে উঠলেন।

আজ শুক্রবার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা বাজারে এমন ঘটনা ঘটে। মা সন্তানের এমন মিলন দেখে নিজেদের অজান্তেই চোখ মোছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আল আমিন জানান, তারা চার ভাই ও দুই বোন। তাদের মা গত ১৫ বছর আগে ব্রেনের সমস্যা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সব কিছু মনে রাখতে পারেন না। ঝড় বৃষ্টির এক রাতে তাদের মা আবেদা বেগম (৬৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এলাকায় মাইকিং, থানায় জিডি, পত্র পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশসহ বহু স্থানে মাকে খোঁজা হয়। মাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বাস ছিলো মা মরেনি। তাই কোথাও গেলে সব কাজের ফাঁকে মাকে একটু খুঁজে দেখাটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার দুপুরে সে তার প্রতিবেশীর সাথে এক আত্মীয়ের বিয়েতে গাবুবায় আসেন। সেখানে জানাতে পারে গত দুই বছর ধরে বাজারে এক নামাজি পাগলী থাকে। তার ঠিকানা কেউ জানে না। বিষয়টি শুনেই তার বিকেলে বিয়ে বাড়ির কোলাহল ছেড়ে তিনি বাজারে যান। বাজারে খোঁজাখুজির পর গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি দোকান ঘরের চালের নিচে বসে থাকা অবস্থায় ১৫ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মাকে সনাক্ত করেন।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, পথ ভুলে এলাকায় আসা পাগলীকে তার সন্তানেরা খুঁজে পেয়েছে। সন্তানদের কাছে পেয়ে মাও যেমন খুশি তেমনি গাবুরাবাসীও খুশি। প্রিয় সন্তানের সাথে মাকে তার নিজ ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

About Dolon khan

Check Also

মুরগীর ডিমের কুসুম সবুজ রং হওয়ার গো’পন রহস্য

মুরগীর ডিমের কুসুম সবুজ রং হওয়ার গো’পন রহস্য – শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তালিকার শীর্ষে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x

You cannot copy content of this page