Tuesday , October 20 2020
Breaking News
Home / Religion / ম’রুভূ’মিতে আজো দাঁ’ড়িয়ে আছে নবীজী (সা.) কে ছায়াদান’কারী সেই গাছ

ম’রুভূ’মিতে আজো দাঁ’ড়িয়ে আছে নবীজী (সা.) কে ছায়াদান’কারী সেই গাছ

অবিশ্বস্য হলেও সত্যে। আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে যে গাছটির নিচে মহানবী (সা) বিশ্রাম নিয়েছিলেন জর্ডানের মূরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় সেই গাছটি আজো দাঁড়িয়ে আছে। ইংরেজিতে এ গাছকে বলা হয় The Blessed Tree. জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘো’ষণা দেন।

পৃথিবীতে এত পুরনো কোনো গাছ এখনো বেঁ’চে আছে তা বিশ্বা’সযোগ্য না হলেও সত্যি। মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জ’ন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো কিন্তু একসময় আল্লাহর হুকুমে গাছটি সবুজ পাতায় ভরে উঠে এবং আজ পর্যন্ত গাছটি সবুজ শ্যামল অব’স্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

অবিশ্বা’স্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাঈ এলাকায় দণ্ডায়মান। জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ সর্বপ্রথম এই স্থানটিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘো’ষণা দেন। ৫৮২ খ্রিস্টাব্দে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্ম’দ (সা.)-এর বয়স তখন ১২ বছর’ তিনি তার চাচা আবু তালিবের স’ঙ্গে বাণিজ্য উপলক্ষে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূ’রে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন। জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইলব্যাপী বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুকাময় এক মরুভূমি। মোহাম্ম’দ (সা.) এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে প’ড়েন। তখন তারা একটু বিশ্রামের জায়গা খুঁজছিলেন। কিন্তু আশপাশে তারা কোনো বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

চারদিকে যত দূ’র চোখ যায় কোনো বৃক্ষরাজির সন্ধান পাচ্ছিলেন না। কিন্তু দূ’রে একটি মৃ’তপ্রায় গাছ দে’খতে পেলেন তারা। উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে গাছটি ছিল লতাপাতাহীন শীর্ণ ও মৃ’তপ্রায়। উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তাপে শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন।

উল্লেখ্য’ রাসূল মোহাম্ম’দ (সা.) যখন পথ চলতেন তখন আল্লাহর নির্দে’শে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং বৃক্ষরাজি তার দিকে হেলে প’ড়ে ছায়া দিত। মোহাম্ম’দ (সা.) তার চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসেছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দে’শে মৃ’তপ্রায় গাছটি সজীব হয়ে উঠে এবং গাছটির সমস্ত ডালপালা সবুজ পাতায় ভরে যায়।

সেই গাছটিই বর্তমানে সাহাবি গাছ নামে পরিচিত। এ ঘ’টনা দূ’রে দাঁড়িয়ে জারজিস ওরফে বুহাইরা নামে একজন খ্রিস্টান পাদ্রি সবকিছু দেখছিলেন। আবু তালিব মোহাম্ম’দকে (সা.) নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে তিনি বলেন’ আমি কোনোদিন এই গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি। পাদ্রী বলেন’ গাছটিও ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি পাতায় পরিপূর্ণ।

এই ছেলেটির নাম কি? চাচা আবু তালিব উত্তর দিলেন মোহাম্ম’দ! পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন’ বাবার নাম কি? আব্দুল্লাহ!’ মাতার নাম? আমিনা! বালক মোহাম্মা’দকে (সা.) দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূ’রদৃষ্টি সম্পন্ন পাদ্রীর চিনতে আর বাকি রইল না যে’ এই সেই বহু প্রতীক্ষিত শে’ষ নবী মোহাম্ম’দ। চাচা আবু তালিবকে ডেকে পাদ্রী বললেন’ তোমা’র স’ঙ্গে বসা বালকটি সারা জগতের সর্দার’ সারা বিশ্বের নেতা এবং এই জগতের শে’ষ নবী।

তিনি বলেন’ আমি তার স’স্পর্কে বাইবেলে প’ড়েছি এবং আমি ঘো’ষণা দিচ্ছি’ এই বালকটিই শে’ষ নবী। চাচা আবু তালিব ও মহানবী (সা.) যেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি ১৫০০ বছর আগ যে অব’স্থায় ছিল আজো সেই অব’স্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে আছে।

গাছটি সবুজ লতা-পাতায় ভরা এবং সতেজ ও সবুজ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে’ গাছটি যেখানে অবস্থিত তেমন মরুদ্যানে কোনো গাছ বেঁ’চে থাকা সম্ভব নয়। গাছটির আশপাশের কয়েকশ’ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোনো গাছ নেই। গাছটির চারিদিকে দিগন্ত জোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি। উত্তপ্ত বালুকাময় মরুভূমির মাঝে গাছটি দাঁড়িয়ে থেকে আল্লাহর অসীম ক্ষ’মতার সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে।

About Dolon khan

Check Also

“মাত্র ১৩ বছর বয়সেই বাংলা’দেশী, হাফেজা মারইয়ামের ফলো’য়ার ১৫ লাখ।,

অন্য সব মায়ের মতো শিশু’ জন্ম দেওয়ার আগে আল্ট্রাসনো’গ্রাম করতে হয়েছিল শাকিলা ইমরোজকে। সেই রিপোর্ট ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x