Friday , October 23 2020
Breaking News
Home / Education / ১২বার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার ব্যর্থ হয়ে এখন পুলিশ ক্যাডার

১২বার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ভাইভার ব্যর্থ হয়ে এখন পুলিশ ক্যাডার

৩৮তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে ২২তম স্থান অধিকার করেছেন সুবীর কুমার সাহা। তাঁর চাকরি পাওয়ার গল্প শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার তেলজুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৭৫ পেয়ে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোই। ফরিদপুরের সরকারি ইয়াসিন কলেজ থেকে জিপিএ-৪.৪০ পেয়ে এইচএসসি পাশ করি। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিষয় পদার্থবিজ্ঞান। নিম্নমধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারের সন্তান হওয়ায় উচ্চ মাধ্যমিক

পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি বাবা-কাকার স্বল্প আয় ও বড় ভাইয়ের টিউশনির টাকায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই নিজের খরচ নিজে চালিয়েছি টিউশনি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, টিউশনি ও চাকরির প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা করেছি পাশাপাশি। টিউশনির পড়াশোনা চাকরির প্রস্তুতিতে বেশ কাজে দিয়েছে। অনার্সে সিজিপিএ ৩.৮৫ নিয়ে বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করি। মাস্টার্সে সিজিপিএ ৩.৮৬ অর্জন করে বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করি। মাস্টার্সের থিসিস করেছি পরামাণু

শক্তি কমিশনে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার। তাই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেও বিসিএস বা অন্য চাকরির প্রস্তুতির পড়াশোনা করিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২টি শিক্ষক নিয়োগের ভাইভা দিয়েও চাকরি হয়নি। তখন প্রচণ্ড রকমের হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পরে বড় ভাইয়ের পরামর্শে বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। প্রস্তুতির শুরুতে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করি। কী কী পড়তে হবে আর কোন কোন বিষয় বাদ

দিতে হবে, প্রথমে সেগুলো বোঝার চেষ্টা করি। তারপর সে অনুযায়ী পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করি। প্রস্তুতির সময় নির্দিষ্ট একটি বই পড়ে শেষ করে তারপর অন্য বই পড়ার চেষ্টা করতাম। যদি কখনো একটি বই পড়তে ভালো না লাগত, তখন অন্য বই পড়তাম। একঘেয়েমি কাটাতে বিভিন্ন গল্প, উপন্যাসের বইও পড়েছি। টিউশনি আর প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাকি সময়টা পড়াশোনার মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছি। বিসিএসের সিলেবাস অনেক বড়। তাই শুধু মুখস্থ না করে প্রতিটি বিষয়ে বুঝে বুঝে

পড়ে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। নিজেকে সব সময় আপডেট রাখার চেষ্টা করেছি। নিয়মিত ইংরেজি ও বাংলা দৈনিক পত্রিকা পড়ার চেষ্টা করতাম। গুরুত্বপূর্ণ খবর, তথ্য-উপাত্ত নোট করে রাখতাম। একঘেয়েমি কাটাতে বিভিন্ন গল্প, উপন্যাসের বইও পড়েছি। টিউশনি আর প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাকি সময়টা পড়াশোনার মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছি। বিসিএসের সিলেবাস অনেক বড়। তাই শুধু মুখস্থ না করে প্রতিটি বিষয় বুঝে বুঝে পড়ে পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছি।

পত্রিকার সম্পাদকীয়, আন্তর্জাতিক ও অর্থনীতির পাতা বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পড়েছি। তাই বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির প্রস্তুতি নেওয়াটা সহজ হয়েছে। ফলে লিখিত পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ডাটা, কোটেশন ব্যবহার করতে পেরেছি। জিআরইয়ের প্রস্তুতি থাকায় চাকরির পরীক্ষায় ভোকাবুলারি ও অনুবাদে সুবিধা পেয়েছি। বাংলার জন্য প্রচলিত গাইড বইয়ের পাশাপাশি মুনীর চৌধুরীর লিখিত নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটা পড়েছি। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা নির্ভর করে মূলত

ব্যক্তির গণিতের মৌলিক দক্ষতার ওপর। গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির গণিত বই বুঝে বুঝে অনুশীলন করেছি। তবে যাঁরা নিয়মিত টিউশনি করেন, তাঁরা এ ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন। আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়ায় এবং নিয়মিত টিউশনি করায় গণিত ও বিজ্ঞান নিয়ে তেমন সমস্যা হয়নি। ইংরেজিতে কিছুটা দুর্বল ছিলাম, তবে জিআরই প্রস্তুতি ইংলিশের প্রস্তুতিতে সাহায্য করেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে না পারলেও ৩৮তম বিসিএসে

পুলিশ ক্যাডারে (২২তম স্থান অধিকার করেছি) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। পুলিশ ক্যাডার আমার প্রথম পছন্দ ছিল। এর আগে ৩৬তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে সরকারি হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক (দ্বিতীয় শ্রেণি) ও ৩৭তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে টেলিভিশন প্রকৌশলী (প্রথম শ্রেণি) হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। তবে নন-ক্যাডারে যোগদান করা হয়নি। এ ছাড়া সোনালি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদেও চাকরি পেয়েছি। তথ্যসূত্রঃ কালের কন্ঠ , লেখকঃ এম মুজাহিদ উদ্দীন

About Dolon khan

Check Also

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে অনির্দিষ্ট সংখ্যক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | Primary Assistant Teacher Job Circular 2020 Deadline: 24 November ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x

You cannot copy content of this page