Tuesday , September 22 2020
Breaking News
Home / Education / পরিবারের অনুপ্রেরণায় বিসিএস ক্যাডার রাসেল

পরিবারের অনুপ্রেরণায় বিসিএস ক্যাডার রাসেল

মো. রাসেল হোসেন ৩৮তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বাবা মো. সাইফুল ইসলাম, মা দেলোয়ারা বেগম রাঙ্গা। তিনি ১৯৯৩ সালে নাটোরে জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর শের-ই-বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকা কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ছোটবেলা কেমন কেটেছে?

মো. রাসেল হোসেন: আমার ছেলেবেলা আর দশ জন সাধারণ ছেলে-মেয়ের মতই কেটেছে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা নাটোর শহরে। মায়ের কাছেই প্রথম হাতেখড়ি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে যথাক্রমে নাটোরের বড় হরিশপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শের-ই-বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ছোটবেলায় সময়মত স্কুলে গিয়েছি। বিকেলে খেলতে গিয়ে সন্ধ্যায় দেরি করে বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের বকা খেয়েছি। সন্ধ্যায় পড়তে বসেছি। ছোটবেলা থেকেই ক্লাসে রোল ১ অথবা ২ এর মধ্যে থেকেছে। সব মিলিয়ে ছোটবেলাকে খুবই উপভোগ করেছি। কখনো সুযোগ পেলে আবার ছোটবেলায় ফিরে যেতে চাইবো।

পড়াশোনায় কোন প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
মো. রাসেল হোসেন: শুধু গল্প বা কল্পনায়ই প্রতিবন্ধকতাহীন জীবনের দেখা মিলতে পারে। বাস্তবে প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কখনো জীবন হয় না। পড়ালেখার ক্ষেত্রে আমারও কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল এবং সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় সমান্তরালে সেগুলোর সমাধানও পেয়েছি। স্কুলে থাকাকালীন ভালো ফলাফলের দরুণ বরাবরই স্কলারশিপ পেয়ে পড়ালেখা করেছি। প্রথম আলোর ‘অদম্য মেধাবী’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঢাকা কমার্স কলেজে ফুল ফান্ডেড ফ্যাসিলিটিজ পেয়ে পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছি। সেখানকার শিক্ষকদের (বিশেষ করে আব্দুল কাইয়্যুম স্যারের) অকৃত্রিম আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা কখনো ভোলার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ও কিছু অকপট ভালো মানুষের দিক-নির্দেশনায় সময়টা আমার জন্য কঠিন হয়ে ওঠেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তির পর বিভাগ থেকেও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি। সব মিলিয়ে পড়ালেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও তা কখনোই প্রকট হয়ে ওঠেনি। এজন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।

বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
মো. রাসেল হোসেন: ডিপার্টমেন্ট ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে বিবিএ ফাইনাল ইয়ারের আগে আসলে চাকরির প্রস্তুতি শুরু করার বিষয়ে ভাবার সুযোগ পাইনি। যখন ভাবতে শুরু করলাম; তখন আমি ক্যারিয়ার হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসকেই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ আমার বরাবরই লক্ষ্য ছিল সরাসরি জনগণের সাথে মিশে জনগণের হয়ে কাজ করার। সুযোগটি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে অন্য যেকোনো পেশার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া যায়।

বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই—
মো. রাসেল হোসেন: ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় ২০১৭ সালের ২০ জুন। তখন আমি এমবিএর শিক্ষার্থী। বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম তারও মাস ছয়েক আগে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ফলাফল প্রকাশ হয় ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় একই বছর ৮-১৩ আগস্ট। লিখিত পরীক্ষা শেষ করার পর একটি বেসরকারি ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। প্রায় ১ বছর পর ২০১৯ সালের ১ জুলাই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। ২০১৯ সালে ১২ সেপ্টেম্বর পিএসসির বিজ্ঞ সদস্য প্রফেসর ডা. শাহ আব্দুল লতিফ স্যারের বোর্ডে ভাইভায় অংশ নেই। ভাইভাটি আমার মনমতো না হলেও বিজ্ঞ বোর্ডের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরই আত্মবিশ্বাসের সাথে দিয়েছি। না জানা প্রশ্নের উত্তরে বিনয়ের সাথে ‘জানা নেই’ বলেছি। সবশেষে ২০২০ সালের ৩০ জুন চূড়ান্ত ফলাফল প্রাপ্তির মধ্যদিয়ে ৩৮তম বিসিএস যাত্রার গল্পের সমাপ্তি ঘটে; যদিও গেজেট হওয়াটা এখনো বাকি।

কততম বিসিএসের কোন ক্যাডারে আছেন?
মো. রাসেল হোসেন: বর্তমানে আনসার ক্যাডারে ‘সহকারী পরিচালক/সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট/ব্যাটালিয়ন উপ-অধিনায়ক’ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি।

কারো কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কি?
মো. রাসেল হোসেন: যেকোনো ভালো কাজের অনুপ্রেরণা কিন্তু শুরুতে পরিবার থেকেই আসে। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। পাশাপাশি আমার প্রতি আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের যে প্রত্যাশা; সেটাও আমার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মো. রাসেল হোসেন: আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করতে পারাকেই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে দেখছি।

সাম্প্রতিক করোনা দুর্যোগে আপনার ভূমিকা কী?
মো. রাসেল হোসেন: করোনা দুর্যোগের সময় নিজে সচেতন থেকেছি। পাশাপাশি পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের এ বিষয়ে সচেতন করেছি। এখনো করছি। এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেককে আর্থিক-অনার্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। আশা করি খুব দ্রুতই করোনা মহামারী কেটে পৃথিবী আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।

About Dolon khan

Check Also

বিসিএস লিখিত পরীক্ষা: ইংরেজিতে ভালো করতে হলে

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষার নানা কলাকৌশল নিয়ে বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *