Saturday , October 24 2020
Breaking News
Home / Education / প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা টিউশনি করার পর প্রস্তুতি নিয়েছি

প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা টিউশনি করার পর প্রস্তুতি নিয়েছি

নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচও আমাকে বহন করতে হতো। অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিত বিষয়টিই মূলত পড়াতাম। তাই চাকরির জন্য গণিতের প্রস্তুতির অনেকটাই টিউশনি করে হয়ে গেল। যতগুলো চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি, প্রায় সবগুলোতেই গণিতে ভালো করেছি। টিউশনি করে বাসায় ফিরে রুটিন করে চার-পাঁচ ঘণ্টা করে চাকরির পড়াশোনা করতাম। প্রথম দিকে বিসিএস নিয়ে বেশি পড়াশোনা করেছি। পরবর্তী সময়ে শুধু ব্যাংকের জন্য পড়াশোনা করি।

পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা টিউশনি করে পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতি নিয়েছেন মো. শাহীন। তিনি এখন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার জেনারেল অফিসার। নিজের চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন’কে

২০০৪ সালে খুলনার পল্লীমঙ্গল স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৬ সালে খুলনা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আযম খান সরকারি কমার্স কলেজে ভর্তি হই। মার্কেটিং বিষয়ে অনার্সে সারা দেশে প্রথম শ্রেণিতে চতুর্থ হই। পরে এই কলেজ থেকে মাস্টার্স করি। অনার্স পড়ার সময়ই সাধারণ জ্ঞান বাড়ানোর জন্য পত্রপত্রিকা ও বই পড়তাম। অনার্স শেষ করার পরপরই চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে আমাকে প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা টিউশনি করতে হতো।

সপ্তাহে কোন দিন কোন বিষয় পড়ব, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতাম। এ ছাড়া সপ্তাহে তিন দিন গ্রুপ স্টাডি করতাম। এখানে সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকের প্রশ্ন নিজেরা বসে সমাধান করতাম। আমি ভোরে পড়াশোনাটাকে বেশি গুরুত্ব দিতাম। তখন বেশি মনোযোগ পেতাম, সহজেই পড়া মুখস্থ হয়ে যেত। একই বিষয়ের জন্য একাধিক প্রকাশনীর বই পড়েছি। একই বিষয়ে বিভিন্ন বই পড়তাম।

প্রতিটি বিষয়ে বিভিন্ন বইয়ের লেখার মধ্যে তুলনা করে পড়তে পারতাম। প্রতিদিনই পত্রিকা পড়তাম, বিশেষ করে সম্পাদকীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি। পত্রিকা থেকে সাধারণ জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নোট করে রাখতাম। ইংরেজি বিষয়ের দুর্বলতা কাটানোর জন্য ইংরেজিতে বেশি সময় নিতাম। ইংরেজির গুরুত্বপূর্ণ শব্দ, বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ, প্রবাদ-প্রবচন মুখস্থ করার পর খাতায় লিখতাম। কিছুদিন পর পর রিভিশন দিতাম। ইংরেজিতে দুর্বলতা কাটানোর জন্য কয়েক মাস ইংরেজি পত্রিকা পড়েছি।

বিভিন্ন বিষয়ের শর্টকাট পদ্ধতি মুখস্থ রাখতাম। প্রায় প্রতি মাসে পরীক্ষা দিতে খুলনা থেকে ঢাকায় যেতে হতো। কোনো কোনো মাসে চারবারও ঢাকা যেতে হয়েছে। আমার তোতলামির সমস্যা ছিল। যার জন্য প্রায় প্রতিটি ভাইভায় জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, (এ অবস্থায়) ‘আপনি কিভাবে গ্রাহকদের সেবা দেবেন?’ যদিও শেষ পর্যন্ত এর জন্য চাকরি আটকে থাকেনি।

আমি পাঁচটি চাকরির ভাইভায় অংশ নিয়েছি, সব কটিই ছিল ব্যাংকের। আমার ইচ্ছা ছিল হয় সরকারি কলেজের প্রভাষক হব, নয়তো বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করব। দুইবার বিসিএস লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার পর আর এ নিয়ে আগাইনি। জনতা ব্যাংকের ভাইভা ছিল জীবনের তৃতীয় চাকরির ভাইভা, ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (টেলর)’ পদে। চাকরি পাওয়ার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য পড়াশোনা করি।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬-৭টা পর্যন্ত অফিস করে রাতে বাসায় ফিরতাম। তখন সকালে দুই-তিন ঘণ্টা পড়াশোনার সুযোগ পেতাম। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘অফিসার (জেনারেল)’ এবং কৃষি ব্যাংকের ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে ভাইভায় অংশ নিই। ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি হয়ে যায়।

চাকরিপ্রার্থীদের বলব, কোথায় পড়াশোনা করেছেন এসব নিয়ে ভেবে হতাশ না হয়ে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রেখে পরিকল্পনা সাজান। আর সেভাবেই প্রস্তুতি নিন।

-দৈনিক কালের কণ্ঠ

About Dolon khan

Check Also

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে অনির্দিষ্ট সংখ্যক জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | Primary Assistant Teacher Job Circular 2020 Deadline: 24 November ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x

You cannot copy content of this page