Tuesday , October 20 2020
Breaking News
Home / অবাক পৃথিবী / কঠিন চ্যালেঞ্জকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে 8 ঘণ্টা কাজ করেও UPSC পাস করলেন বাস কন্ডাক্টর…

কঠিন চ্যালেঞ্জকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে 8 ঘণ্টা কাজ করেও UPSC পাস করলেন বাস কন্ডাক্টর…

আজকে আপনাদের সামনে যে ব্যাক্তিটির নাম করবো তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে নিজেকে সফলতার দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছেন। তিনি সরকারি বাসে যাত্রীদের টিকিট কাটেন এবং তার সাথে সাথে UPSC সিভিল সার্ভিসের প্রস্তুতি চলছিল তাঁর। মাত্র পাঁচ ঘন্টার প্রস্তুতিতে মেইনস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সবাইকে অবাক করে দিলেন বেঙ্গালুরু সরকারি পরিবহনের কন্ডাক্টর মধু এনসি। এখন তার অপেক্ষা শুধু 25 মার্চ ইন্টারভিউয়ের।

জানুয়ারি মাসেই UPSC এর ফল প্রকাশিত হয়েছে। এরপর রোল নাম্বার মিলাতে গিয়ে একপ্রকার চমকে যান মধু এনসি। এমন অবস্থা হয়ে গিয়েছিল যে নিজের চোখকে পর্যন্ত তিনি যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। UPSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকা নিজের নাম থাকা মানে সেটা বিরাট সাফল্য। তাঁর পরিবারের প্রথম স্কুলে গিয়েছিলেন তিনি। ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-ও। গত বছরে অর্থাৎ 2019 সালের জুন মাসে UPSC প্রিলিমিনারিতে পরীক্ষা দিয়েছিলেন 29 বছর বয়সের এই বাস কন্ডাক্টর।

অক্টোবর মাসে সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয় এবং তাতে তিনি পাস করেন। এরপর তিনি মেইনস এর জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। মধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ভাষা, সাধারণ জ্ঞান অংক, রচনা লেখা ইত্যাদি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দেন তিনি। প্রিলিমসে তিনি কনাড়া ভাষায় পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া মিইনসে ইংরেজি ভাষায় পরীক্ষা দেন মধু। তিনি দিনের 8 ঘণ্টা কাটিয়ে দেন নিজের কাজে অর্থাৎ বাসে। সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের কাছ থেকে টিকিট কাটা তাঁর কাজ।

অতএব সবার মনে একটাই প্রশ্ন এতক্ষন কাজ করার পর কীভাবে তিনি UPSC এর প্রস্তুতি নিতেন? কাজ করে এসে বাড়িতে 5 ঘণ্টা প্রস্তুতি চলতো তার। এর পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে দু ঘন্টা তাকে সাহায্য করতো ব্যাঙ্গালোর মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আইএএস অফিসার সি সিক্ষা। মধু বলেছেন, “উনি আমাকে সব সময় সাহায্য করেছেন এবং বলে দিয়েছেন কিভাবে লিখতে হয়। বর্তমানে ইন্টারভিউ তে পাস করার জন্য তিনি আমাকে তৈরি করছেন।”

আপনাদের জানিয়ে দিই 2014 সালে কর্নাটকের প্রশাসনিক পরিষেবা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছিলেন এই মধু এনসি। কিন্তু সেখানে তিনি হাল ছেড়ে দেননি। বরং আরো উপরে উঠার জেদ বেড়ে গিয়েছিল তার। 2018 সালে ফের ইউপিএসসি পরীক্ষার সময় একবার হতাশ হতে হয় তাকে। কঠিন পরিশ্রম করলে একদিন না একদিন সফলতা ধরা দেবে তা হাতেনাতে প্রমাণ করে দিয়েছেন এই মধু এনসি। তিনি বলেন, ” জীবনে বড় কিছু করতে চেয়েছিলাম প্রথম থেকেই। সংসার চালানোর জন্য কম বয়স থেকেই কাজে ঢুকে গিয়েছিলাম। প্রতিদিন 5 ঘন্টা করে পড়াশোনা করতাম এবং সকালে ভোর চারটে উঠে পড়তাম।”

এক ছোট্ট শহরের বাসিন্দা মধু মাত্র 19 বছর বয়স থেকে বাস কন্ডাক্টর এর কাজে যোগ দিয়েছিলেন। একদিকে কাজ চালিয়ে গেছেন অন্যদিকে পড়াশোনা। মধু এনসি বলেন,” ইউ পি এস সি পরীক্ষার ব্যাপারে আমার মা-বাবা কিছু বোঝেন না। তবে আমার সাফল্য তে তারা খুশি। আমাদের পরিবারের মধ্যে আমি একমাত্র স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ছিলাম।”

About Dolon khan

Check Also

পাশে এসে দাঁড়ালেন ডিসি, আর আটাময়দা গোলা খেতে হবে না সাফিয়া-মারিয়াকে

অবশেষে এবার হাসি ফুটেছে যমজ শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার। এখন দুধ খেতে পারছে তারা। অভাবের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x