Saturday , September 19 2020
Breaking News
Home / Education / আমার ৪ বিসিএস লিখিত অভিজ্ঞতা

আমার ৪ বিসিএস লিখিত অভিজ্ঞতা

বিসিএস যুদ্ধের সবচেয়ে সহজ ধাপ বিসিএস লিখিত পরীক্ষা, যেখানে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলেই ভাইভাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন (যদিও এই দরিদ্র নম্বর দিয়ে কোন ক্যাডার পাবেন না)। মনে অজানা শঙ্কা নিয়ে যেসকল পরিক্ষার্থী প্রথমবারের মত অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন, আপনাদের সাথে আমার বিসিএস রিটেন এর অনুভূতি শেয়ার করছি। আপনি আমার অভিজ্ঞতা থেকে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন, আর পুরান পাপীরা হয়তো আমার মাঝে নিজেকে খুঁজে পাবেন।

#৩৫তম বিসিএস: প্রথম বিসিএস হিসেবে ৩৫তম বিসিএস এর প্রিলি উত্তীর্ণ হওয়ার পর রিটেন এর সিলেবাস আর এত্ত এত্ত পড়া দেখে কোন কূলকিনারা খুঁজে পেতাম না। বিসিএস ক্যাডার এবং লিখিত পরীক্ষার অভিজ্ঞদের প্রতিদিন ফোন করে হতাশার কথা বলতাম। উনারা সবসময় বলতো, ‘একদিক থেকে পড়া শুরু করো, দেখবে এক্সামের আগেই মোটামুটি একটা ফিনিশিং হয়ে গেছে।’

ঘটনা অনেকটা সেরকমই ঘটলো। এক্সামের আগে মোটামুটি সব টপিক কমপ্লিট করে ফেললাম। তবে, এর জন্য জীবনের সেরা পড়াটাই পড়তে হয়েছিল আমাকে। সম্ভবত, আমার সারাজীবন এর অর্ধেক পড়াই পড়েছিলাম ৩৫ রিটেনের আগে। সপ্তাহজুড়ে টানা এক্সাম দিলাম। রিটেন পরীক্ষার প্রিপারেশনের চেয়েও কঠিন হলো, টানা সকাল বিকাল রিটেন এক্সামের মধ্যে সুস্থভাবে বেচে থাকাটা।

মাইগ্রেন নিয়ে অনেক কষ্ট হলেও সেটা ভালভাবেই পেরেছিলাম। কোচিং এ টুকটাক কয়েকটা মডেল টেস্ট দিয়েছিলাম, ভালো প্রিপারেশন নিয়েছিলাম, প্রতি এক্সামে টাইম ম্যানেজমেন্টও করেছিলাম। কিন্তু নতুন ধাচের প্রশ্ন (যেটা ৩৫ থেকে শুরু হয়েছিল) আর অনভিজ্ঞ আমি এক্সামের খাতাটাতে উত্তরগুলো সুন্দরভাবে কমপ্লিট করা আর টাইম ম্যানেজমেন্ট টা যেন মিলাতে পারছিলাম না। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিষয়াবলী এবং রচনা দুইটাতে প্রচন্ড হাত ব্যাথা হচ্ছিল, কিন্তু লেখা কমপ্লিট হচ্ছিলো না। তবে মোটামুটি সুন্দর হ্যান্ড-রাইটিং নিয়ে এক্সাম দিয়ে প্রেজেন্টেশন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম।

#৩৬তম বিসিএস: ৩৫ বিসিএস এ প্রত্যাশিত ক্যাডার পেয়ে যাচ্ছি আশায়, ৩৬ বিসিএস এর জন্য পড়াটা যেন শুরুই হচ্ছিল না। তবুও এক মাস পূর্বে এক্সামের ডেট দিলে একমাসের প্রিপারেশন নিয়েই ৩৬ বিসিএস এটেন্ড করি। ৩৬ রিটেন এ আগের সব কিছু পড়া থাকার কারণে ডেটা, চার্ট, গ্রাফ, কোটসহ নাইস প্রেজেন্টেশন এবং প্রতিটা টপিক যেন টাইমলি ম্যানেজড করা যায়, সেই দিকে লক্ষ্য রেখেছিলাম এবং সফল হয়েছিলাম।

বিলিভ মি, ৩৫ রিটেন পাঁচ মাস পড়ে যা দিয়েছিলাম, ৩৬ রিটেন এক মাস পড়ে তার চেয়ে তিনগুন ভালো এক্সাম দিয়েছি (একদম মনের মতো বলতে পারেন)। তখন বুঝেছিলাম, আমরা প্রথম বিসিএস এ যতই পড়িনা কেন, অভিজ্ঞতা একটা বিশাল বিষয় যা হাজার পড়েও পাওয়া সম্ভব না। তবে প্রথম বিসিএস লিখিত দিয়েই পছন্দের ক্যাডারের মেধাক্রমে অবস্থানকারীদের সংখ্যাও কম নয়। তাই এক্সপেরিয়েন্সড সিনিয়ররা আছে বলে, আপনি পিছিয়ে আছেন। ভাববেন না কখনো (যারা প্রথমবার অংশগ্রহণ করছেন)।

#৩৭তম বিসিএস: অভিজ্ঞতার ভান্ডারে ৩৫ এবং ৩৬ লিখিত থাকলেও ৩৬ এর মতো তেমন ভাল এক্সাম হয়নি। এই এক্সাম দিয়ে বুঝেছি, আপনার পারফরমেন্স খারাপ থেকে ভালো হতে হতে একসময় আবার খারাপ হতে হতে একসময় আপনি মার্কেট আউট হয়ে যাবেন। সো, যা করার ফার্স্ট বা সেকেন্ড বিসিএস এই করে ফেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে একদিন হয়ে যাবে, এটা ভুল ধারণা (এক্সেপশাল দুই একজন আছেন, যারা ৪/৫ বার এক্সাম দিয়ে শেষবারে সফল হোন)।

#৩৮তম বিসিএস: ৩৭ বিসিএস এর প্রিপারেশন দিয়েই বিফোর নাইট প্রিপারেশন না নিয়েও ৩৮ রিটেন এক্সামে এটেন করি, এবং রিটেনে টিকেও যাই। এতেই প্রমাণ হয়, মাথায় তথ্য থাকলে না পড়েও রিটেন টেকা যায়।

তবে শেষ কথা হলো, খুব ভাল রিটেন না দিতে পারলে প্রতিবার ভাইভা দিতে পারবেন, কিন্তু স্বপ্নকে কোনদিন ধরতে পারবেন না (ভাইভাতে এক্সট্রা অর্ডিনারী মার্কস না পেলে)।

#দ্রষ্টব্যঃ পরবর্তী লেখায় বিসিএস লিখিত এর ছয়টি বিষয়ে আলাদা আলাদা করে, প্রতি বিষয়ের ফাঁদ এবং কোন সেক্টরে কিভাবে ভাল করা যেতে পারে, সেটা নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো।

About Dolon khan

Check Also

লাক্স সুন্দরী স্বামীসহ যেভাবে হলেন বিসিএস ক্যাডার

তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া। ২০১০ সালে চ্যানেল আই লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সেরা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *