Thursday , October 22 2020
Breaking News
Home / অবাক পৃথিবী / আসন ছেড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিজ হাতে খাওয়ালেন কনে

আসন ছেড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিজ হাতে খাওয়ালেন কনে

আসন ছেড়ে সুবিধাবঞ্চিত- বিয়েবাড়ি বা বিয়ের আয়োজন করা কমিউনিটি সেন্টারে খাবারের দিকে তাকিয়ে থাকেন অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু। সেখানে সচ্ছলরা আপ্যায়নের সুযোগ পেলেও বঞ্চিত থাকেন পথশিশুসহ তাকিয়ে থাকা ওই সুবিধাবঞ্চিতরা।

এমন করুন দৃশ্য মুনিরা নামের এক তরুণীর বিবেকে নাড়া দেয়। এরপর পর নিজের বিয়েতে সুবিধাবঞ্চিতদের ভালো পোশাকে পেটপুরে খাওয়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি।

শনিবার ঢাকার ইস্কাটনে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন মুনিরা। নিজের বিয়েতে সুবিধাবঞ্চিতদের নিজ হাতে খাবার বেড়ে খাইয়েছেন তিনি। আর এমন উদারতার সাক্ষী হয়েছেন অনেকে।

এরইমধ্যে শিশুদের খাওয়ানোর একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এতে তিনি প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন। আর উদারতার সাক্ষী বানিয়েছে গোটা ফেইসবুকে থাকা মানুষদের। মুনিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন গবেষক।

বিয়েতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, বিয়ের আসন থেকে মুনিরা উঠে এসে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের টেবিলে এগিয়ে যান। এরপর নিজ হাতে শিশুদের ভাত ও তরকারিসহ পছন্দের খাবার প্লেইটে তুলে দেন তিনি।

তারা জানান, সাধারণত বিয়েতে অবস্থাপন্ন ব্যক্তি ও মানুষরা দাওয়াত পান। তবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অংশ বরাবরই অংশ নিতে পারেন না। এর মধ্যের বড় অংশটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।

যারা ভালো ও সুস্বাদু খাবারের আশায় বিয়ের তোরণ বা কমিউনিটি সেন্টারের টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকে। বিয়েতে বাড়তি খাবার থাকলে কেউ কেউ কালেভদ্রে সুবিধাবঞ্চিতদের দেন। আবার অনেকে তাড়িয়ে দেন। কিন্তু মুনিরা সমাজের তথাকথিত আভিজাত্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাজটি সাহসিকতার সঙ্গে করেছেন।

মুনিরা জানান, অন্যদের বিয়ের গেইটের সামনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দাঁড়িয়ে থাকা দেখেছেন তিনি। তখনই সিদ্ধান্ত নেন, তার বিয়েতে ভালো পোশাকে, পেটপুরে সমাজের অবহেলিত শিশুদের খাওয়াবেন। তাই শিশুরা আসার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ের আসন থেকে স্বামীসহ শিশুদের টেবিলে চলে যান।

তাদের নিজ হাতে আপ্যায়ন করান তিনি। মুনীরার এ ইচ্ছাপূরণে এগিয়ে আসে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। যারা দীর্ঘদিন ধরে ‘এক টাকায় আহার’ কার্যক্রম চালিয়ে দেশব্যাপী বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

মুনিরার ভাইরাল হওয়া ছবিতে সামাজিক ও মানবিক দিক বেশ আলোচিত হয়েছে। অনেকে ‘দারুণ উদ্যোগ’, ‘সত্যিই অসাধারণ’, কেউবা ‘জয় হোক মানবতার’ লেখেন। আবার অনেকে বিপরীত মন্তব্য করেছেন। অনেকে লিখেছেন ‘যতসব শো অফ’, ‘লোক দেখানো কাজ কারবার’।

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নামের একজন স্বেচ্ছাসেবী লিখেছেন, ‘মুনীরার বিয়েতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেখে ও তাদের আপ্যায়নে মেতে ওঠার দৃশ্য দেখে অনেকে হয়ত বিরক্ত হয়েছেন। কিন্তু সাহসী স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে মুনীরা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা অনেককেই অনুপ্রাণিত করবে। ভাল থাকুক মানবদরদী এ দম্পতি।’

About Dolon khan

Check Also

পাশে এসে দাঁড়ালেন ডিসি, আর আটাময়দা গোলা খেতে হবে না সাফিয়া-মারিয়াকে

অবশেষে এবার হাসি ফুটেছে যমজ শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার। এখন দুধ খেতে পারছে তারা। অভাবের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x