Friday , September 18 2020
Breaking News
Home / Education / এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে part 1

এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে part 1

এই লেখাটি লিখব-লিখব করছি অন্তত গত ৪ বছর ধরে। স্বভাবসুলভ আলস্যবশত আমার হারিয়ে-থাকা লেখাগুলির ভিড়ে এটিও এতদিন ছিল। এটাকে হারিয়ে যেতে দিতে পারিনি বলে আজ এই সংকল্প করে লিখতে শুরু করলাম যে, যত কষ্টই হোক, এটা শেষ না করে চেয়ার ছাড়ছি না।

লেখা সময়মত লিখতে না পারার বিপত্তি হচ্ছে, সেসময়ের আবেগ এবং উৎসাহটা হারিয়ে যায়, এবং লেখাটা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে না অনেকসময়ই। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে প্রচুর। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় ভাই সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে অপূর্ব সুন্দর বিজন বনএলাকা পালামৌতে বেশ কিছুকাল কাজ করেছিলেন। এর বহু বছর পর তিনি তাঁর স্মৃতিতর্পণমূলক লেখা ‘পালামৌ’ লেখেন। যারা এখনও ‘পালামৌ’ পড়েননি, তাদেরকে লেখাটি কেমন, সেটা বোঝানোর জন্য একটা কথাই বলব: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রকাশনা কাজ যখন শুরু হয়, তখন বিশ্বসাহিত্যের এত-এত সেরা বইয়ের মধ্যে কোনটা প্রথমেই ছাপানো যায়, এটা নিয়ে কেন্দ্রের সবাই ভাবনায় পড়ে গিয়েছিলেন।

তখন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার সিদ্ধান্ত নিলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত প্রথম বই হবে ‘পালামৌ’। যা-ই হোক, যে কথায় ছিলাম। কেন লিখি-লিখি করেও লেখা হয়ে ওঠে না, সে কথা নিয়ে বলতে গেলে নিজের এবং অন্যদের প্রতি অনেক অবিচার করা হবে। তাই সে আলোচনায় যাচ্ছি না। তবে এই লেখার ক্ষেত্রে শুধু এইটুকুই বলব, জীবনের অন্যতম অবিশ্বাস্য ঘটনাটির বর্ণনা লিখতে উত্তেজনায় হাত কাঁপে, স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসে, সমস্ত শরীরমনে এই ভয় এসে ভর করে—-সেদিনের সবকিছু অন্যরকমভাবে ঘটলে আজকের দিনটা কেমন হত? মনে হতে থাকে, আজকের এই দিনটা কিছুতেই আজকের মতো হত না। আজ আমি থাকতাম অন্যকেউ।

আশেপাশের সবকিছুকেই মনে হত অন্যরকমের অন্যকিছু। আসলে আমরা জীবনটা যেভাবে যাবে ভাবি, সেভাবে যায় না। জীবন যায় জীবনের মতোই। জীবনের রঙ কল্পনাতে একভাবে ধরা দেয়, কিন্তু আসল রঙটা অন্যরকম। জীবনটাকে নিয়ে খেলতে খেলতেই জীবনটা পার করে দেবো, এটা ভাবলেই যে ওরকম ভাবেই জীবনটা কেটে যাবে, তেমনও নয়। কী হবে, কী হবে না, এর সবকিছুই আগে থেকেই ঠিকঠাক করা। আমাদের কাজ শুধু এই রঙ্গমঞ্চে নিজের মতো করে চমৎকার অভিনয় করে যাওয়া। যার অভিনয় যত নিপুণ, সে তত ঘনিষ্ঠভাবে জীবনের স্বাদ পায়।

২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৩ জানুয়ারি ৩০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছিল। ১২ তারিখ বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র ওয়েবসাইটে দেখলাম, যারা-যারা ৪৫ ব্যাচের এমবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় রিটেনে পাস করেছে, আমিও তাদের মধ্যে আছি। কয়েকটা গ্রুপে ভাগ করে রিটেনে পাস-করা ক্যান্ডিডেটদের ইন্টারভিউ নেয়া হবে এবং আমি যে গ্রুপের, সেটির ইন্টারভিউর সময়সূচী ১৭ তারিখ সোমবার সকাল ১০টায় আইবিএ’তে। আমি বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছি চট্টগ্রাম থেকে। চট্টগ্রামের ক্যান্ডিডেটদের জন্য পিএসসি নির্ধারিত পরীক্ষার সেন্টার হল ওমর গনি এমইএস কলেজ। আইবিএ’র ইন্টারভিউর দিনেই আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকেই।

একইসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেয়াটা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। আইবিএ’তে কেউ অতো চান্সটান্স পায় না বলেই জানতাম। সেখানে চান্স পেয়ে যাওয়ার পর সেটাকে মিস করব, নিজেকে এতটা বেকুব আর উদার মনের ভাবতে পারিনি কখনওই। পরেরদিনের বাংলাদেশ বিষয়াবলী ১ম পত্রের পড়াশোনা না করে আইবিএ’তে পড়াশোনা করে কিংবা করেছে, এরকম পরিচিত সবাইকে ফোন করা শুরু করলাম। সেসময়ের প্রবল উত্তেজনার কথা এখনও মনে পড়ে। এমনকিছু যা আপনি খুব করে চাইছেন নিজের করে পেতে, ওটা হাতের কাছে এসেও গেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে, ওটা আপনাকে ছেড়ে দিতে হবে, এরকম একটা মুহূর্তে স্থির থাকাটা কঠিন।

ফোনে যাদের সাথেই কথা বললাম, সবাই একটা কথাই বলল, “তুমি একই সাথে দুটো ভাল জিনিস পাবে না। যেকোনও একটার মায়া ছাড়তে হবে। দুই নৌকায় পা দিলে কোনটাই হবে না। তাছাড়া তুমি বিসিএস পরীক্ষা যেমন আরও দিতে পারবে, আইবিএ’তে ভর্তি পরীক্ষাও আরও দিতে পারবে। যেকোনও একটাকে ছেড়ে দাও।” যাদের কাছে কর্পোরেট সেক্টর অনেক বড় কিছু, তারা বলছিল, বিসিএস ছেড়ে দাও।

যাদের কাছে সিভিল সেক্টর অনেক বড় কিছু, তারা বলছিল, আইবিএ’তে পরে পড়ো। কারও কাছ থেকেই কোন বুদ্ধিতে দুটোকেই ম্যানেজ করা যায়, তা পাইনি। ওই মুহূর্তে আমার কাছে কোনওটাই বড় কিংবা ছোট, এমন কিছুই ছিল না, মাথা পুরোপুরি ব্ল্যাংক হয়ে গিয়েছিল, আর মনে হচ্ছিল, লাইফ আমাকে নিয়ে সাপলুডু খেলছে এই মুহূর্তে। লুডুর গুটিতে এমনই সংখ্যামান আসবে যে আমি সাপের পেটেই যাব, এমনটা তো নাও হতে পারে। এমনও তো হয়, যে সংখ্যামান এল, তাতে আমি মই বেয়ে অনেক উপরে উঠে গেলাম। লাইফের সাপলুডুর বোর্ডে তো শুধু সাপই থাকে না, মইও থাকে! এই মুহূর্তের দানে ওই মইয়ে ওঠার সংখ্যাটি আসবে না, এটা কে বলল? লাইফটা সাপলুডুর মতোই, সর্বোচ্চ মানেই সবচাইতে ভাল, এমনটা নাও হতে পারে। হয়তো দুই দুইবার ৬, এরপর ৫ পড়ল, মোট ১৭, অর্থাৎ আমি লুডুখেলায় সবচাইতে বেশিটাই পেলাম, অথচ চলে গেলাম ইয়া লম্বা এক সাপের পেটে, এমনও তো হয়! আবার এমনও তো হয়, কোনও এক দানে সবচাইতে কমটি, মানে ১ পড়ল, আর আমি মই বেয়ে তরতর করে উঠে গেলাম অনেক উঁচুতে।

কমের খেলা বোঝাটাই সবচাইতে কঠিন! সবচাইতে বেশিটাই সবচাইতে ভাল, এমনটা নাও হতে পারে। দেখতে হবে, সেটা আদৌ কতটুকু দরকার! অনেক আয়, অনেক নরকযন্ত্রণা; তবে সেই বড় সংখ্যামানের আয়ের কী দরকার? জীবনের সাথে মিলিয়ে ঠিক সংখ্যাটি বেছে নিতে জানাটা অনেক বড় একটি আর্ট!

About Dolon khan

Check Also

টিউশনির পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতিতে ‘গ্রুপ স্টাডি’ বেশি কাজে দিয়েছে

২০০৬ সালে শরীয়তপুরের আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *