Tuesday , September 22 2020
Breaking News
Home / Education / উচ্চশিক্ষা এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা কোথায় কাজে লাগে

উচ্চশিক্ষা এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা কোথায় কাজে লাগে

উচ্চশিক্ষার অধিকাংশই বাংলাদেশে কাজে লাগানোর সুযোগ কম। সম্প্রতি পাবনার মাহমুদা নাসার বর্ষসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। নবম শ্রেণীতে উঠার পরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন, সেখানেই কেমব্রিজে পড়াশোনা করেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই নাসার বর্ষসেরা বিজ্ঞানী!

বাংলাদেশে থাকলে মাহমুদার সে সুযোগ হতো কিনা কে জানে? হয়ত নাসার বিজ্ঞানী হওয়ার মত মেধা নিয়েও তাকে লাইব্রেরিতে বসে চাকরির পড়া পড়তে পড়তে মারা যাওয়া লাগত। এরকম আরও মাহমুদারা যে অসাধারণ মেধা লুকিয়ে রেখে লাইব্রেরিতে বসে চাকরির পড়া পড়তে পড়তে মারা যাচ্ছে না, তার নিশ্চয়তা কি? হয়ত তারা তাদের মেধা আবিষ্কার করার সুযোগই পায়নি।
এভাবেই অনেক মেধাবীকে আমরা হারিয়ে ফেলতেছি।

জেনেটিক্সে পড়াশোনা করে ব্যাংকে চাকরি করলে বা সরকারি মেডিকেল কলেজে M.B.B.S. পড়ে বিসিএস দিয়ে সরকারি ডাক্তার না হয়ে পুলিশ হলে এই জেনেটিক্স এর জ্ঞান, ডাক্তারি মূল্যবান শিক্ষা অব্যবহৃতই থেকে যায়। সরকার একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর পেছনে ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করে বলে শুনেছিলাম।

সরকারের ৩৭ লাখ টাকা অপচয় না করে সরকারি কলেজে পড়ে বিসিএস দিলেই পারত, এত টাকা বেঁচে যেত, অথবা এই টাকা দিয়ে অন্য কেউ ডাক্তার হতে পারত। অথবা ৩৭ লাখ টাকা দিয়ে আরও ১০-১৫ জন গরীব মেধাবীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেত।

কারণ, বিসিএস দিয়ে পুলিশ অফিসার হতে গেলে যেকোনো বিষয়ে শুধু অনার্স ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণী থাকলেই চলে, লাখ টাকার ডাক্তারি ডিগ্রি এখানে অপচয় করে লাভ কি?
মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী একজন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র, অথবা রোবট তৈরি করতে আগ্রহী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে যদি ইন্সুরেন্স কোম্পানির জিএম বানানো হয়, তাহলে রোবট বানাবে কে? অনেক ছাত্র এজন্য বৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশের বিজ্ঞানী জাপানে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে, আর পুরো জাপানে ১০ বছরেও কয়েক মুহূর্তের জন্য লোড শেডিং হয়না। বাংলাদেশের ডক্টর আতাউল করিম যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উড়ন্ত রেলের নকশা করে, আর আমরা যানজটে বসে থাকি ঘন্টার পর ঘন্টা। এভাবেই আমরা আমাদের মেধাকে বিক্রি করে দিচ্ছি গতানুগতিক চাকরির পদতলে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সেক্টরে উন্নত গবেষণার জন্য অন্তত ১০০ জন বিজ্ঞানীর পেছনে যদি বিভিন্নভাবে অপচয় হয়ে যাওয়া টাকা থেকে বাঁচিয়ে ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হতো, আর তাদের গবেষণার জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো, তাহলে ৫ বছরের মধ্যেই ১০০ জন বিজ্ঞানী ১০০ রকম আবিষ্কার করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিত।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১ লাখ টাকা খরচ করে রোবট বানাতে পারে, সেদিন ইউটিউবে দেখলাম মাত্র ২৫ হাজার টাকা খরচ করে কয়েকজন ছাত্র রোবট বানিয়েছে, এদের উন্নত গবেষণার জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে আমরাও সোফিয়ার চেয়ে উন্নত কোনো রোবট বানাতে পারতাম।
সেদিন কবে আসবে?

About Dolon khan

Check Also

বিসিএস লিখিত পরীক্ষা: ইংরেজিতে ভালো করতে হলে

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষার নানা কলাকৌশল নিয়ে বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *