Tuesday , September 22 2020
Breaking News
Home / Education / ৯৬৮০ জন নারী-পুরুষ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে

৯৬৮০ জন নারী-পুরুষ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে

বাংলাদেশ পুলিশ এর কনস্টেবল পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশে মোট ৯৬৮০ জন (নারী-পুরুষ) কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী ২২ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিটি জেলায় বাছাই প্রক্রিয়া চলবে।

এখানে আপনাদের সামনে তুলে ধরব কিভাবে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের প্রস্তুতি নিবেন । পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা সাধারণ কয়েকটি ধাপে হয়ে থাকে প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীগণ নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে কনস্টেবল পদে নিয়োগ পাবে।

পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ জুন ২০১৯ তারিখে বয়স ১৮ হতে ২০ বছর (জন্ম তারিখ সর্বনিম্ন ২ জুন ২০০১ হতে সর্বোচ্চ ২ জুন ১৯৯৯ পর্যন্ত) হতে হবে। এসএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে (কমপক্ষে জিপিএ ২.৫/সমমান)। প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে এবং যে জেলার স্থায়ী বাসিন্দা সেই জেলাতেই ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়ােগের জন্য উপস্থিত হতে হবে। প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত/তালাকপ্রাপ্তা নয়)।

আরো পড়ুন- জেনে নিন কবে কোন জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পরীক্ষা

পরীক্ষা পদ্ধতি

সাধারণত তিনটি ধাপে কনস্টেবল নিয়োগ ভর্তি পরীক্ষা হয়ে থাকে। প্রথমে প্রার্থীদের শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হতে হয়। তারপর লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য সিলেকশন হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা চূড়ান্ত ভাবে নির্বাচিত হন।

শারীরিক পরীক্ষা: শারীরিক পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে দৌড়, রোপিং ও জাম্পিং ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা ও প্রার্থীদের প্রথমে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে বিধি মােতাবেক শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় (দৌড়, রােপিং ও জাম্পিং ইত্যাদি) অংশগ্রহণ করতে হবে। উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার প্রবেশপত্র ইস্যুকরণসহ লিখিত পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণপূর্বক প্রার্থীদের অবহিত করবেন। উল্লেখ্য, লিখিত, মনস্তাত্নিক ও মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীকে অবশ্যই মূল প্রবেশপত্র সঙ্গে আনতে হবে ।

লিখিত পরীক্ষা: শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেড় ঘণ্টার ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এতে ন্যূনতম ৪৫% মার্কপ্রাপ্তদের উত্তীর্ণ বলে গণ্য করা হবে। লিখিত পরীক্ষা ও শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত তারিখে ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট সময়ের ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। উক্ত পরীক্ষা নত ৪৫ নম্বর প্রান্ত প্রার্থীগণ লিখিত পরীক্ষায় উর্ণ বলে বিবেচিত হবেন।

মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা লিখিত পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে নির্ধারিত তারিখে ২০ নম্বরের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪৫% নম্বর প্রাপ্ত প্রার্থীগণ মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে বিবেচিত হবেন।

শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকালে প্রার্থীদের নিম্নবর্ণিত কাগজপত্রাদি সঙ্গে আনতে হবে

•শিক্ষাগত যােগ্যতার সনদপত্র/সময়িক সনদপত্রের মূল কপি ।
•সর্বশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত চারিত্রিক সনদপত্রের মূল কপি ।
•জেলার স্থায়ী বাসিন্দা/জাতীয়তার প্রমাণস্বরূপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার মেয়র/ওয়ার্ড কাউন্সিলর (যা প্রযােজ্য)-এর নিকট হতে স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূল কপি।
•প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি, যদি প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকে সে ক্ষেত্রে প্রার্থীর পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ।
•সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত ৩ (তিন) কপি সদ্য তােলা পাসপাের্ট সাইজের রঙিন ছবি ।
•“পরীক্ষার ফি ১০০/-(একশত) টাকা ১-২২১১-০০০০-২০৩১” অথবা “১২২০৪০১১০৫৯৫৪১৪২২৩২৬” নম্বর কোডে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমাপূর্বক চালানের মূল কপি ।

পরীক্ষার প্রস্তুতি

লিখিত পরীক্ষা: লিখিত পরীক্ষার জন্য বীজগণিত, পাটিগণিত, বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ, ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ, বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা রচনা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ ও সাম্প্রতিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিন। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের ওপর জোর দিন।

মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা: মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দিন। সাধারণ জ্ঞানের বই সংগ্রহ করুন ও পড়তে শুরু করুন। নিজ জেলা ও বিভাগ সম্পর্কে ধারণা রাখুন। পাশাপাশি চোখ রাখুন সমসাময়িক বিষয়াবলীর ওপর। মৌখিক পরীক্ষা দিতে পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি পোশাকে উপস্থিত হোন।

নিয়মিত চর্চা: লিখিত, মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে। আপনার একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে একটু অধ্যবসায় তো করতেই হবে। তাই আজ থেকে শুরু করুন নিয়মিত চর্চা। নিয়মিত চর্চা করলে অবশ্যই সুফল পাবেন।

নির্বাচন পদ্ধতি :

•প্রতি জেলায় নিয়ােগযােগ্য প্রকৃত শূন্য পদে কোটার অনুকূলে লিখিত, মনস্তাত্তিক ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হবে ।

•পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যােগ্য বিবেচিত হলে প্রার্থীকে প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে মনােনীত করা হবে। উল্লেখ্য, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে কোনাে তথ্য গােপন অথবা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হলে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণের জন্য মনােনয়ন প্রদান করা হবে না ।

•প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীগণকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে যােগদানের পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পুর্ণাছাই কমিটি কর্তৃক শারীরিক যােগ্যতাসহ অন্যান্য তথ্যাদি যাচাইয়ের পর চূড়ান্তভাবে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

About Dolon khan

Check Also

বিসিএস লিখিত পরীক্ষা: ইংরেজিতে ভালো করতে হলে

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষার নানা কলাকৌশল নিয়ে বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *