Friday , September 18 2020
Breaking News
Home / দেশ-বিদেশ / সন্তানরা তাড়িয়ে দিলেও নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী ৭০ বছরের ‘ডিম দাদি’ রাবেয়া

সন্তানরা তাড়িয়ে দিলেও নিজের চেষ্টায় স্বাবলম্বী ৭০ বছরের ‘ডিম দাদি’ রাবেয়া

বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনকে সবাই ‘ডিম দাদি’ নামেই চেনেন। বয়স তার ৭০ বছর। সব সন্তানরা এ বয়সে মাকে দেখে শুনে রাখে। কিন্তু রাবেয়ার সেই আশা পূরণ হয়নি । ছেলে বিয়ে করে মাকে ফেলে ঢাকা শহরে স্ত্রীকে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন। খোঁজ রাখেন না মায়ের!

যে সন্তানকে তিলে তিলে বড় করে তুলেছেন, সেই সন্তানের কাছে ঠাঁই না পেয়ে বাধ্য হয়ে আবারও নেমে পড়েন রাস্তায়। গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে দেশি হাঁস-মুরগির ডিম বিক্রি করেন। সবাই তাকে ‘ডিম দাদি’ নামেই চেনেন।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের পৈলানপুন গ্রামে সংগ্রামী রাবেয়ার বাস।

জানা যায়, খুব ছোটবেলায় রাবেয়া খাতুনের বিয়ে দিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। স্বামী আলিমুদ্দিন কৃষিকাজ করে যা উপার্জন করতেন, তাই দিয়ে সুখেই কাটছিল দিন। বিয়ের বছর খানেকের মাথায় রাবেয়া খাতুন জন্ম দেন কন্যাসন্তানের। নাম রাখেন আজিরন খাতুন।

এর কিছু দিন পর আবারও গর্ভবর্তী হন তিনি। সংসারে অভাব থাকলেও সুখের কমতি ছিল না তাদের। তবে সেই সুখ বেশি দিন টেকেনি রাবেয়া খাতুনের কপালে!

মতের অমিল হওয়ায় স্বামী আলিমুদ্দিন তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এর পর ভূমিষ্ঠ হয় ছেলেসন্তান। নাম রাখেন ফরহাদ হোসেন। দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে দিশেহারা হয়ে পড়েন রাবেয়া। গ্রামে ঘুরে ঘুরে শুরু করেন পাউরুটি বিক্রি। অনেক কষ্টে ছেলেমেয়েকে বড় করে তোলার পর বিয়ে দেন।

ভেবেছিলেন শেষ বয়সে একমাত্র ছেলে তাকে দেখে শুনে রাখবে। কিন্তু সেই আশাও পূরণ হয়নি তার। ছেলে বিয়ে করে ঢাকা শহরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। খোঁজ রাখেন না মায়ের!

স্থানীয়রা জানান, হাসিনুর রহমান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাবেয়া খাতুনকে ১০০ টাকা ধার দেন। সেই ধারের টাকা দিয়ে গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে দেশি হাঁস-মুরগির ডিম কিনে শহরে বিক্রি করা শুরু করেন।

দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে পায়ে হেঁটে পৌর শহরের অলিগুলি ঘুরে ঘুরে ডিম বিক্রি করে আসছেন রাবেয়া। ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ৫ শতক জমি কিনেছেন। কয়েক শতক জমিও লিজ রেখেছেন।

রোববার সকালে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় কোলে একটা ঝুড়ির মধ্যে বেশ কিছু দেশি হাঁস ও মুরগির ডিম নিয়ে পায়ে হেঁটে শহরে বিক্রি করতে আসছিলেন জীবন-সংগ্রামে হার না মানা এই বৃদ্ধা। সপ্তাহে চার দিন বিভিন্ন গ্রাম থেকে ডিম কেনেন। বাকি দিনগুলো শহরে এসে ডিম বিক্রি করেন।

৩৫ টাকা হালি ডিম কিনে বিক্রি করেন ৪০ টাকা দরে। গড়ে একদিনে প্রায় ৫০০ হালি ডিম বিক্রি করেন তিনি। মাঝে মধ্যে ডিম ফেটে গেলে বা পচা বের হলে লোকসান গুনতে হয় তাকে।

তবে আক্ষেপ একটিই– ছেলের কাছে ঠাঁই হয়নি তার; খোঁজ রাখেন না মেয়েও; তাই জীবনের শেষ দিনও যেন কর্মের মধ্য দিয়ে শেষ হয়-এমনটিই আশা রাবেয়া খাতুনের।

গুনাইগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, রাবেয়া খাতুনের মতো নারী বর্তমান সমাজে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি একজন সংগ্রামী নারী। পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে একটা ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। তবে এমন মায়ের জন্য গর্ব করা উচিত সন্তানদের।

আরও পড়ুন…

‘ফজরের নামাজ কখনো ক্বাজা করি নাই, ১১৯ বছরেও আমি সুস্থ্য আছি, খালি চোখেই বই পড়ি’

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১৯বছরে পা দিলেও এক ব্যক্তি চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্বাভাবিকভাবে পত্রিকা পড়াসহ সব ধরনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

যে বয়সে তার শেষ সম্বল লাঠি হাতে নিয়ে চলা ফেরা করার কথা ঠিক সেই সময়ে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করায় এলাকায় মানুষের কাছে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

বার্ধক্য তাকে হার মানাতে পারেনি। বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি তার কাজকর্মে।

তিনি কোন কাজে মনো নিবেশ করলেই আশ-পাশের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় শুরু করে দেন।

এমই এই সাদা মনের মানুষটির নাম মোঃ জোবেদ আলী। তার জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্ম তারিখ ১৯০০ সালের ২৫ অক্টোবর হলেও তার বয়স হয়তো আারো বেশী হবে।

তিনি উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী তেলীপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর পুত্র।

তাঁর স্ত্রী ফয়জুন নেছা(৮৭), ৩পুত্র ও ৪কন্যা সহ নাতি-নাতিনী সহ বহু বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহী রয়েছে।

৯জানুয়ারী বুধবার দুপুরে তাঁর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোর ঠিক বয়স মনে নেই, তবে আইডি কাডত যা আছে তার চেয়ে বেশী হবে। ছোট বেলা থেকে যুবক বয়সে তিনি নিজের দিঘীর মাছ, মাংস, দুধ,

ডিম, আবাদি বিতরী ধানের ভাত, খাঁটি ঘি, সরিষার তৈল, রাসায়নিক সার বিহীন শাক-সবজি নিয়মিত খেতেন। এই বয়সে তাঁর ছোট খাট জ্ব্বর-সর্দি ছাড়া বড় ধরনের কোন রোগ ব্যধি হয় নাই।

শরীর এখনও তাঁর ভাল আছে। তিনি একশ বছর আগে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তাই তিনি নিয়মিত পবিত্র কুরআন-মাজিদ, পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন।

রাতে তিনি কুপি জ্বালিয়ে পবিত্র কুরআন-মাজিদ পড়েন।

তিনি আরো বলেন, কোনদিন ফজরের নামাজ আমি ক্বাজা করি নাই এবং ফজরের নামাজের পর কুরআন তেলোয়াত করি। তাই হয়তো আল্লাহ্ পাক আমাকে সুস্থ্য রেখেছেন। এজন্য আল্লাহ্র কাছে লাখো শুকরিয়া।

এ ছাড়া পত্রিকা পড়াই তার এখন প্রধান নেশা বলে জানান। এ বিষয়ে রাজারহাট ইউপি সদস্য শমশের আলী বলেন,

আমি ছোট বেলা থেকেই জোবেদ জ্যাঠোকে এই অবস্থায় দেখে আসছি। এখনো তিনি আগের মতোই চলাফেরা করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

About Dolon khan

Check Also

মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন থা’নার ওসি

সাধারন মানুষের কল্যানে সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থা’নার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি মাহবুবুর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *