Friday , January 15 2021
Breaking News
Home / Education / যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই ম্যাট্রিকে ফেল করতে হবে!

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই ম্যাট্রিকে ফেল করতে হবে!

ম্যাট্রিকে ফেল করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হবে। আর পাস করলে সুযোগ হাতছা’ড়া। শুধু বর্তমান যুগ নয়, অতীতের যে কোনো সময়ের সাথেই বিষয়টা বেশ বেমানান। তবে অবাক হওয়ার বিষয় হলেও এমনই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ভারতে। আর আশ্চ’র্যের বিষয় হলো ম্যাট্রিকে ফেল করা সেই শিক্ষার্থীরা দক্ষ’তা আর আবিষ্কারে ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের অনেক নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়কেও।

এবার বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা থ্রি ইডিয়টসে আমির খানের আসল নাম থাকে ফুংসুখ ওয়াংরু। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই চরিত্রটি বাস্তবেই আছে এবং লাদাখে এরকম একটা বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে; যেখানে কোনো বই-পুস্তক পড়ানো হয় না। সব কিছুই শেখানো হয় হাতে-কলমে। SECMOL এডুকেশন মু’ভমে’ন্টের প্রতিষ্ঠাতার নাম সোনাম ওয়াংচুক। থ্রি ইডিয়টস ছবিটি তার জীবন থেকেই বানানো হয়েছে।

সবচেয়ে বড় মজার ব্যাপারটি হল, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই ম্যাট্রিকে ফেল করতে হবে। এ কারণে অনেকেই বলে থাকেন ‘University of Failures’. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের আশ্চ’র্য রকমের সব আবিষ্কার দেখা যায়। তারা মাটি দিয়ে এমনভাবে স্কুল বানিয়েছে বাইরে যখন মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াম তাপমাত্রা তখন ভিতরে প্লাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে।

আগে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অন্তর্গ’ত ছিল লাদাখ। কিন্তু বর্তমানে উত্তরে কুনলুন পর্বতশ্রেণী ও দক্ষিণে হিমালয় দ্বা’রাবে’ষ্টিত এই অঞ্চলটি এখন ভারতের একটি কেন্দ্রশা’সিত এলাকা। সেখানকার বিরান ধূ ধূ মরুভূমি অঞ্চলে গ্রীষ্মে পানি পাওয়া খুব মু’শকিল। গরমে পানি পাওয়ার জন্য সাধারণ পাইপ দিয়ে ‘আইস স্টুপা’ তৈরি করেছেন সোনাম ওয়াংচুক। দেখতে বরফের টিলার মতো, যা দিয়ে সহজে গ্রিন হাউজ ইফে’ক্ট দূর করা যায়।

তিন-চারবার ফেল করা ছাত্ররা কেউ আজ বিশ্বসেরা সাংবাদিক, ফিল্মমেকার, স্বনামধন্য উদ্যোক্তা। এমনকি লাদাখের শিক্ষামন্ত্রী, যিনি কিনা ম্যাট্রিকে পাঁচবার ফেল করে পরে ‘The Himalayan Institute of Alternatives’- এ ভর্তি হয়েছিলেন।

সাধারণত আমরা আশায় থাকি কবে ছুটি হবে আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় সা’জা হলো এক সপ্তাহর ছুটি! বিশ্ববিদ্যালয়টা একটা দেশের মতো। ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে নেতৃত্ব তৈরি করে, রেডিও স্টেশন সম্প্রচার করে, নিউজপেপার ছাপায় এমনকি নিজেদের খাবার নিজেরাই চাষ করে উৎপন্ন করে। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে অর্থ যোগায় আবার বছর শেষে ঘুরতেও যায়।

এর মাধ্যমে ওদের অর্থনীতি, ভূগোল, জীববিজ্ঞান শিখা হয়। শিক্ষা নিয়ে রেভু’ল্যু’শন করে সফল হওয়া এই ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন একটি ইউনিভার্সিটি করা। সেই ভার্সিটির নাম হবে ‘Doers University’, যেখানে কাজ করা হবে আবিষ্কার হবে কোনো পড়ালেখা হবে না। সোনাম ওয়াংচুক এক অনুপ্রে’রণার নাম হয়ে উঠেছে ম্যাট্রিকে ফেলা করা শিক্ষার্থীদের কাছে।

About khan

Check Also

বিসিএস ক্যাডার, নন-ক্যাডার, বোথ ক্যাডার ও ভাইভাতে কিভাবে নম্বর বন্টন হয়!

#লিখিতঃ বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় জেনারেল ও বোথ ক্যাডারে পৃথক করে মোট ৯০০ নাম্বার করে থাকে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page