Thursday , January 21 2021
Breaking News
Home / অবাক পৃথিবী / “বসে আর কত দিন বেতন নেবো”? তিন মাসের বেতন থেকে দুঃস্থদের সাহায্যে বাংলার দুই শিক্ষক দম্পতির

“বসে আর কত দিন বেতন নেবো”? তিন মাসের বেতন থেকে দুঃস্থদের সাহায্যে বাংলার দুই শিক্ষক দম্পতির

ক’রোনা সংক্রমণ রুখতে গত ৩ মাস যাবত লকডাউন চলছে ভারতজুড়ে। সরকারি চাকুরিজীবীরা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষ কিংবা ক্ষেত মজুর শ্রমিক প্রত্যেকে কার্যত দুর্দশার শিকার। বহুদিন ধরে কর্মসংস্থান বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভর করে দিন কাটাতে হয়। এমনই এক দৃশ্য চোখে পড়েছিল শিক্ষক দম্পতির। জনৈক ছাত্রের বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। পরিবারটির এমন অভাবনীয় শোচনীয় অবস্থা দেখার পরেই দম্পতির মনে এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। তারই প্রতিফলন নিম্নে।

মাসের মাস ঘরে বসে বেতন পাচ্ছেন। লকডাউনের কারণে স্কুলে ক্লাস করাতে যেতে হয় না। তাই মনস্থির করলেন তিন মাসের বেতন থেকে বেশির ভাগ অংশই খরচ করবেন অসহায় দুঃস্থ মানুষদের সাহায্যে। অন্ডালের হাই স্কুল পাড়ার বাসিন্দা শোভন সরকার ও তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার দুজনেই প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। শোভন বর্ধমানের জিয়ারা স্কুলে এবং প্রিয়াঙ্কা অন্ডালের দামোদর কলোনির অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় চাকরি করেন। তারা সিদ্ধান্ত নেন, তিন মাস ধরে স্কুল ছুটি আছে, তবুও যে বেতন পাচ্ছেন তার বেশিরভাগ অংশটাই দরিদ্রদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণের জন্য কাজে লাগাবেন।

কুপন সংগ্রহ করে অসহায় মানুষেরা যাচ্ছে স্থানীয় একটি মুদির দোকানে। সেখানেই ওই দম্পতি ৬০ হাজার এর বেশি টাকা রেখে গেছেন। কুপন দেখিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে অসহায় মানুষগুলো। গত তিনদিন ব্যাপী ১২৮ টি পরিবারকে সাহায্য করতে পেরে খুশি তারা। এখনো পর্যন্ত ওই দম্পতি কুপন বিলি করে চলেছেন।

এমন সিদ্ধান্তের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, “লকডাউন এর শুরুতে এক পড়ুয়ার বাড়ি গিয়েছিলাম খোঁজখবর নিতে। পরিবারটির এতই খারাপ অবস্থা যে আমাকে এক কাপ চা করে দেবার সামর্থ ছিলনা। দেখে খুব খারাপ লাগে। বাড়িতে এসে ঘটনাটি বলি। এরপর আমি আর আমার স্বামী সিদ্ধান্ত নিই, আমাদের বেতনের পুরো টাকাটা এইসব দুস্থ মানুষের সাহায্যের খরচ করব”।

প্রিয়াঙ্কার স্বামী শোভন সরকার জানিয়েছেন,” প্রিয়াঙ্কা যেদিন এসে বলল, ওর এক পড়ুয়ারা পরিবারের কিনার পয়সাও নেই, তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আমাদের দুজনের বেতনের টাকা দুঃস্থদের সাহায্য খরচ করব। তাছাড়া এই তিন মাস তো আমরা স্কুলে গিয়ে ছাত্র- ছাত্রীদের পড়াচ্ছি না। বিনা পরিশ্রমে ঘরে বসে বেতন পাচ্ছি। তাহলে এই টাকা ভালো কাজে খরচ করতে আপত্তি কোথায়?”

গত তিনদিন ব্যাপী কুলডাঙ্গা, দাসপাড়া, শ্রীপল্লি ও ১/৭ কলোনির বাসিন্দা তাদের সেই কুপন নিজেরাই বিলি করেন ওই দম্পতি। জানিয়ে দেন যে, কুপন দোকানে নিয়ে গেলেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী দোকানদার নিজেই দেবেন। গত এপ্রিল থেকে মে মাসে অসংখ্য দুস্থ মানুষের মুখে রান্না করা খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছিলেন শোভন ও প্রিয়াঙ্কা। দম্পতির সাহায্যে খুশি প্রত্যেকে।শিক্ষক দম্পতির এমন মানবিকতার মুখ দেখে দাসপাড়ার একজন বাসিন্দা খুশি হয়ে বলেছেন,”আমরা ভাবতেই পারছিনা এভাবে কেউ বেতনের পুরো টাকা দিয়ে আমাদের মতো মানুষদের সাহায্য করবেন।”

About khan

Check Also

প্রতি বছর যেখানে হয় ‘মাছের বৃষ্টি’!

আমেরিকার হন্ডুরাসের লোকাচার বিদ্যায় মাছ বৃষ্টি এখন একটি সাধারণ ঘ’টনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ অবিশ্বা’স্য প্রাকৃতিক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page