Saturday , January 16 2021
Breaking News
Home / Education / বিসিএস কেন প্রয়োজন

বিসিএস কেন প্রয়োজন

বিসিএস অবশ্যই প্রয়োজন, যেহেতু রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়। তাই যথেষ্ট পরিমাণে দক্ষ বিসিএস কর্মকর্তা থাকা আবশ্যক। ক্যাডারগণ যেহেতু রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ, শৃঙ্খলা বিধান, আইন প্রণয়ন, বৈদেশিক সম্পর্ক, প্রকল্প ও চুক্তি প্রণয়ন ইত্যাদি করবেনন, তাই তাদের সর্বোচ্চ analytical ability থাকতে হয়, আইনের প্যাঁচ বুঝতে হয়, ইতিহাস জানতে হবে, সাইকোলজি আর দর্শন বুঝতে হবে।
এজন্যই ক্যাডার হওয়ার পর কর্মকর্তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, বিদেশ থেকে উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

কিন্তু কথা হলো, আমাদের ছাত্ররা কেউ কেউ হাইস্কুলে থাকতেই বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। এটা অবশ্য ভাল, স্বপ্ন দেখা তো খারাপ না। কিন্তু কলেজে উঠার পর পড়া শুরু করে, আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরই mp3 নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে।

চার বছরে পঠিত অনার্স এর বিষয়ে একটি বইও পুরোটা পড়েনা, সিলেবাসের বাইরে রাজনীতি, ইতিহাস, দর্শন, আইন, সমাজতত্ত্ব, সাহিত্য কোনো বিষয়ে একটি বইও পড়েনি- এমন ছাত্র বা ছাত্রী অসংখ্য রয়েছে যারা শুধু MCQ মুখস্ত করে।

এভাবে কোনোদিনই রাষ্ট্রীয় আমলা হওয়ার মত জ্ঞান অর্জিত হয় না। বরং মাথা গোবরে ভরে যায়। অনার্স মাস্টার্স এর পাশাপাশি যদি সে সিলেবাসের বাইরে ছোটবড় ২০০ বই পড়ত, পাঠ্য বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করত, সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব দানে যোগ্যতা অর্জন করত, তাহলে বিসিএসের জন্য কখনোই ৫ বছর মুখস্ত করা লাগত না। আমরা আরো বেশি দক্ষ আমলা পেতাম।
বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা থাকলে এমনিতেই অনেক নলেজ গেদার হয়ে যায়। শুধু কতিপয় সহজ কৌশলের বই আর মুখস্তবিদ্যা দিয়ে বিসিএস ক্যাডার হলেও তারা কর্মক্ষেত্রে কখনও ভাল করতে পারবেনা। বরং নীতি নির্ধারনে ভুল করবে, বৈদেশিক সম্পর্ক, চুক্তি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি বুঝবে না।
♦♦বিসিএস কেন প্রয়োজন নয়?

“প্রয়োজন নয়” কথাটা বললে একটু স্পেসিফাই করে বলতে হয়, “প্রয়োজন, কিন্তু সবার জন্য প্রয়োজন নয়।”
বিশেষ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট ছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, আর উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববঙ্গ সমাজের সার্বিক উন্নয়ন।
এজন্যই ১৯৫০, ৬০, ৭০, ৮০ এর দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সঙ্কটের সময় দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ৫০-৬০ এর দশকে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন অনেক স্কলার।

দেশের বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, বাণিজ্য, রাজনীতি, গবেষণা, উদ্যোগ, উদ্ভাবন, উৎপাদন, গঠনমূলক সমালোচনা – এসব উদ্দেশ্য নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে লক্ষ লক্ষ বই পড়ে আছে দশকের পর দশক ধরে। জ্ঞান জমা পড়েছে বইয়ের পাতার নিচে, কিন্তু না মানুষের মনকে আলোকিত করতে পারছে, না রাষ্ট্রের কোনো কাজে আসছে। গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন।
আমাদের এক শিক্ষক, যিনি একজন সহযোগী অধ্যাপক, তিনি একদিন বলেছিলেন, ছাত্রজীবনে তিনি সেন্ট্রাল লাইব্রেরি থেকে একটা বই নিয়েছিলেন। তখন ২০০৬ সাল হবে সম্ভবত। সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার পর আরেকবার একই বই আনতে গেলেন সেই লাইব্রেরিতেই। বই আনার সময় বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় ইস্যু করতে হয়। অবাক হওয়ার বিষয়, ছাত্র অবস্থায় বই আনা আর শিক্ষক হয়ে বই আনতে যাওয়া, এই ১০ বছরেও মাঝখানে বইটা ইস্যু হয়নি। অর্থাত, ১০ বছর বইটা কেউ পড়ার জন্য নেয়নি। শুধু তাই নয়, শতশত এনসাইক্লোপিডিয়া, বই, জার্নাল পড়ে আছে, পড়ার মানুষ নাই।বরং, লাইব্রেরিতে গিয়ে যদি কেউ এসব বড় বড় ইংরেজি লেখা বইয়ের ধুলা মুছে পাতা উল্টায়, আশেপাশের অনেকেই তার দিকে চিড়িয়াখানার প্রাণীর মত তাকায়।

যা বলতে চেয়েছি, শিক্ষার্থীদের একাংশ সরকারি চাকরিতে বা বিসিএসে যোগ দিবে অবশ্যই। আর বাকিদের উচিত knowledge acquisition, assimilation, distribution এবং invention এর কাজ করা। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজই মূলত জ্ঞান তৈরি করা। “বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র”- এটাই হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার মূলমন্ত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যেসব বিভাগে গবেষণার কাজ বেশি হয়, সেখানে গবেষণাভিত্তিক কাজ বেশি হওয়া উচিত। বাংলাদেশের প্রত্যকটি কর্মক্ষেত্রে যদি গবেষণার জন্য ক্ষেত্র রাখা হতো, তাহলে অল্প কয়েক বছরেই সেসব ক্ষেত্র উন্নতির মুখ দেখতে পারত, গবেষকরা কাজের সুযোগ পেত, বিসিএসের ওপর চাপও কমে যেত। কারণ যেহেতু কখনো সবাই বিসিএস ক্যাডার হতে পারবে না, তাই সবাই ক্যাডার হওয়ার চেষ্টা করেও লাভ হবেনা।
অন্যান্য চাকরি অথবা ব্যাতিক্রম ধর্মী উদ্ভাবনী কাজের দিকে আগাতে হবে।

About khan

Check Also

বিসিএস ক্যাডার, নন-ক্যাডার, বোথ ক্যাডার ও ভাইভাতে কিভাবে নম্বর বন্টন হয়!

#লিখিতঃ বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় জেনারেল ও বোথ ক্যাডারে পৃথক করে মোট ৯০০ নাম্বার করে থাকে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page