Saturday , March 6 2021
Breaking News
Home / Education / ১২ বছরের লড়াকু সুখীর গল্প

১২ বছরের লড়াকু সুখীর গল্প

ঠাকুরগাঁও: ছয় বছর বয়সেই হারিয়েছে বাবাকে। বাক প্রতিবন্ধী মা, শারিরীক প্রতিবন্ধী নানি আর মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাইকে নিয়ে সুখীর সংসার। ১২ বছর বয়সেই অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করে সংসারের হাল ধরেছে সুখী। এখানেই শেষ নয়। বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে নানা সমস্যার মধ্যেও চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়া। বর্তমানে সে ঠাকুরগাঁও গোয়ালপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা যায়, সুখী আক্তারের বয়স যখন ছয়, তখনই দুরারোগ্য রোগে মারা যায় তার বাবা। মা শিউলি আক্তার (৪৬) বাক প্রতিবন্ধী হওয়ার পরও এক সময় মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করতেন। পরে অসুস্থতার কারণে তাকে কাজ ছাড়তে হয়েছে।

অপরদিকে শারিরীক প্রতিবন্ধী নানি হামিদা বেওয়া (৭৫) আর মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সাইফুল (৮) এর ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পরেছে সুখীর কাঁধে। তাই চার সদস্যের পরিবারের দুবেলা দুমুঠো খাবারের সন্ধানে লেখাপড়ার পাশাপাশি ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে তাকে।

সুখী আক্তার জানান, সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কাজ করি অন্যের বাসায়। ১০টার সময় স্কুলে যাই। বিকেলে ফিরে আবারো কাজ করতে চলে যাই অন্যের বাসায়। সে কাজ চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। অন্যের বাসায় কাজ করে যে খাবার টুকু পাই, রাতে বাসায় ফিরে সেটাই ভাগ করে খাই সবাইমিলে। এছাড়াও মাস শেষে কাজের যে পারিশ্রমিক পাই তা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সব চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।

সুখীদের কষ্ট লাগবে কখনোও কেউ এগিয়ে আসেনি। সুখী জানান, প্রচণ্ড শীতে একটা কম্বলও পাইনি আমরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ যেসব জায়গাতে গিয়েছি সাহায্যের জন্য, খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। এত কষ্টের মাঝেও তাই লেখাপড়াটা চালিয়ে যাচ্ছি ভালো কিছু করার আশায়।

প্রধান শিক্ষক খাশিরুল ইসলাম জানান, সুখী আমার স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে বেশ মেধাবী ছাত্রী। সে কষ্ট করে লেখাপড়া করে জানতাম । তবে অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালায় এটা জানতাম না। আমরা তাকে স্কুলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পৌর এলাকা আমার আয়ত্ত্বের মধ্যে পড়েনা। তবুও তার জন্যে কিছু করার ব্যাপারটা আমি ভেবে দেখবো।

About khan

Check Also

পরীক্ষার খাতায় লেখার কৌশল: জানলে ভালো মার্ক তুলতে পারবেন সহজে।

লিখিত পরীক্ষার জন্য যে তথ্য আহরণ বা পড়াশোনা করেছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার খাতায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *