Thursday , April 22 2021
Breaking News
Home / Education / হেঁটে টিউশনি করা সেই মেয়ে এখন বিসিএস ক্যাডার

হেঁটে টিউশনি করা সেই মেয়ে এখন বিসিএস ক্যাডার

শিল্পী মোদক। যিনি অধ্যবসায় আর কঠিন পরিশ্রমের বিনিময়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন জীবনের সফলতা। বুঝিয়ে দিয়েছেন নারী কোন বিষয় নয়। প্রবল ইচ্ছা শক্তিই পারে জীবন যুদ্ধে জয় লাভ করাতে।

ক্লাস এইট পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েননি শিল্পী মোদক। মা-ই ছিলেন তার শিক্ষক। হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পীর নাম স্কুলের দেয়ালে লিখে রাখেন। সেই প্রধান শিক্ষক বেঁচে নেই, কিন্তু তার প্রিয় ছাত্রী শিল্পীর নাম আজও স্কুলের দেয়ালে লিখা রয়েছে। আজ সেই মেধাবী শিল্পীই ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল, কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে মা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেন। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিল্পীকে স্কুলে বেতন দিতে হতো না। এমনকি শিক্ষকরাই তাকে বই, খাতা, নোট সংগ্রহ করে দিতেন। স্কুলে সবসময় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও গানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।

২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর উচ্চমাধ্যমিক থেকেই টিউশনি শুরু করেন শিল্পী। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তির পর প্রতিদিন বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে কলেজে আসতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতিদিনই বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিউশনি করাতেন নিজের খরচ জোগাতে।

২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হন শিল্পী। তবে যেহেতু বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন, তাই বাংলা ছেড়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও বীজবিজ্ঞান বিভাগে।

অনার্স ও মাস্টার্স, দুটোতেই সিজিপিএ ৩.৯ পেয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। আর এই অসাধারণ ফলাফলের জন্য অর্জন করেন রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক। ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন, কিন্তু সার্কুলার না হওয়াতে শুরু করেন বিসিএসের প্রস্তুতি।

বিসিএসে ধাপে ধাপে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর অবশেষে ফলাফলে তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন প্রশাসন ক্যাডারে। শিল্পী চান যারা দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে পড়াশোনা করেন তাদের সাহায্য করতে। পাশাপাশি দেশসেবা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন।

About khan

Check Also

ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত করে মেডিকেলের পড়া শুরু করতেন মুনমুন

এমবিবিএস ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন মিশরী মুনমুন। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *