Monday , June 14 2021
Breaking News
Home / News / স্ত্রী’র নামে জমি লিখে দেয়ায় ছে’লেদের হাতে মৃ’ত্যুর ভ’য়ে আছেন অসহায় বাবা

স্ত্রী’র নামে জমি লিখে দেয়ায় ছে’লেদের হাতে মৃ’ত্যুর ভ’য়ে আছেন অসহায় বাবা

জমি লিখে নেওয়ার পর অসহায় বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন দুই ছে’লে। নিরুপায় হয়ে তারা ঠাঁই নিয়েছিলেন খোলা আকাশের নিচে। শুক্রবার গ্রামবাসী জো’র করে বাবা-মাকে শেষপর্যন্ত ছোট ছে’লের বাড়িতে তুলে দেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছোট ছে’লের ঘরের একটি কক্ষে তাদের থাকতে দেয়া হয়েছে। তবে আশ্রয় মিললেও তাদেরকে মে’রে ফেলতে পারেন তার ছে’লে ও ছে’লের বউরা এমন ভ’য়ে ভীত মা মেহেরুন বেগম।

শনিবার (২১ নভেম্বর) বাসাইল উপজে’লার কাশিল ইউনিয়নের কামুটিয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ন অবস্থায় ছোট ছে’লের ঘরের একটি কক্ষে মেঝেতে শুয়ে আছেন বয়সের ভা’রে ন্যুব্জ আব্দুল খালেক (৭০)। পাশে বসেই কাঁদছেন তার স্ত্রী’ মেহেরুন বেগম (৬৫)। মেহেরুন বেগমের সাথে কথা বলতে গেলেই জোড়া হাতে অনুনয় বিনয় করে বলেন, কিছু কইয়া হারুমনা, আমগো মাই’রা হালাইবো, বাবা তোম’রা যাওগা। এমনটা বলতেই ছোট ছে’লে কাদেরের স্ত্রী’ ঐ কক্ষে ঢুকে প্রতিবেদকের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কি চান, ওনারা কি কইবো, যা কওয়ার তাতো কাইল সামবাদিকগো কইছেই, এহন আমা’র কতা হুনুন।

তিনি বলেন, শ্বশুরের (আব্দুল খালেক) বাড়ি প্রথমে আমাগো গেদির বাবা ও তার চাচা (বাবুল) দুজনের নামে লিখে দেন। আমা’র স্বামী তার অংশ বিক্রি করে বর্তমানে যে বাড়িতে আছি এখানে বাড়ি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঐ বাড়ির জায়গা প্রতি শতাংশ দেড় লাখ টাকা করে স্থানীয় একজন কিনতে রাজি হয়। তখন আমা’র শাশুড়ি (মেহেরুন বেগম) আমা’র স্বামীকে বলেন, বাড়ির জায়গাটি তার বড় ছে’লের কাছে বিক্রি করতে হবে।

তার সাথে এবং আমা’র ভাসুর(বাবুল) এর সাথে মৌখিক চুক্তি হয়। যতদিন শ্বশুর-শাশুড়ি জীবিত থাকবেন ততদিন ঐ বাড়িতে তারা বসবাস করবেন। এরকম চুক্তির পর প্রতি শতাংশে ৪০ হাজার টাকা কমে ভাসুরের নামে লিখে দেন আমা’র স্বামী। এখন গ্রামের মানুষ জো’র করে আমাদের বাড়িতে রেখে গেল। আম’রাই খাবার দাবার দিতেছি। তবে শ্বশুর শাশুড়িতো আমা’র একার নয়, দুজনকে সমান খরচ বহন করার দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় হ’জরত আলী বলেন, খালেক ভাই ও ভাবিকে তাড়ানোর জন্য তাদের ঘরের বিদ্যুৎ লাইন কে’টে দেন বড় ছে’লে বাবুল। তখন তারা গ্রামের বিভিন্ন লোকের কাছে বলেছেন যাতে তাদের লাইনটি জোড়া দিয়ে দেয়। কিন্তু কোনো মতেই বাবুল বিদ্যুতের লাইন লাগাতে দেননি। খালেক ভাই চোখে দেখে না। বুইড়া মানুষ তিনি মনে করছেন, তিনি জীবিত থাকতেই এমন করে বড় ছে’লে, মই’রা গেলেতো তার স্ত্রী’কে আরও ক’ষ্ট দিব, তাই খালেক ভাইর নামে থাকা ২৮ শতাংশ আবাদি জমি তার স্ত্রী’র নামে লিখে দেন।

এই লিখে দেওয়ার বিষয়টি বড় ছে’লের কানে এলে, বড় ছে’লে বাবুল তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। তারপর তারা আশ্রয় নেন খালেক ভাইয়ের স্ত্রী’ মেহেরুন ভাবীর বাবার বাড়িতে। সেখানে আড়াই মাস থাকার পর ৩-৪দিন আগে চলে আসেন তাদের ছোট ছে’লের বাড়ির উদ্দেশে। তার ছোট ছে’লে অ’ভিমানে তাদের বাড়িতে উঠতে দেয় না। পড়ে গ্রামবাসী এসে তাদের ঐ বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে এখানেই আছেন। তবে মেহেরুন ভাবীর ভিতরে ভ’য় আছে, ছে’লেরা না কিছু করে বসে। কারণ জো’র করেই ছোট ছে’লের বাড়িতে তাদের রাখা হয়েছে।
বড় ছে’লে বাবুলের সাথে কথা বলতে গেলে কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

কাশিল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা খান বাহাদুর বলেন, আমি খবর পেয়ে, সাথে সাথে গিয়ে ঐ বৃদ্ধ আর বৃদ্ধাকে তাদের ছোট ছে’লের বাড়িতে তুলে দিয়ে আসছি। প্রতিবেশিদের খোঁজ খবর রাখতে বলছি। খুব শিগগিরই স্থায়ী সমাধান করার চেষ্টা চলছে।

About khan

Check Also

ঘরে অসুস্থ বাবা, পেটের দায়ে সংসার চালাতে রিক্সা চালাচ্ছেন যুবতী, ভিডিও ভাইরাল

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম প্রায় সকলেই ব্যবহার করেন। এই সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *