Saturday , December 4 2021
Breaking News

সেদিন ছিল বাসর রাত তাই চিৎকার করেনি ফুলি!

সময় রাত ২টা ৪৫ মিনিট। ডিউটি ডাক্তার সবে মাত্র বিশ্রাম নেয়ার জন্য ঘুম ঘুম চোখে বিছানায়। ই’মারজে’ন্সি থেকে কল আসল। চোখের পাতায় ঘুম ঠেসে, ই’মারজে’ন্সিতে এসে চমকে যাওয়ার মত অবস্থা।

মহিলা রোগী, পরনের চাদর র’ক্তে ভে’জা। মুখের রঙ ফ্যা’কাসে, সাদা। কাপড় দেখেই বোঝা যাচ্ছে নতুন বিয়ে হয়েছে। রোগীর নাম ফুলি (ছদ্ম নাম)। হিষ্ট্রি নেয়ার জন্য ডাক্তার জানতে চাইল, কি হয়েছে?রোগীর সাথে সদ্য বিবাহিত জামাই, জা এবং আরও ৪/৫ জন এসেছে। ডাক্তারের প্রশ্ন শুনেই রোগীর বর চো’রের মত, রুম থেকে বের হয়ে গেল। রোগীর স’ঙ্গে আসা এক মহিলা তেজের সাথে বলল,

‘ডাক্তার হইছেন, বুঝেন না কেরে, সব বলতে হইবো!’ ওদের গ্রামে গাছের মাথায় বাধা মাইকটিতে একটির পর একটি বিয়ের গান বেজে চলছে।বিয়ে বাড়িতে সবাই ব্যস্ত।

বর পক্ষের যারা এসেছে, কথা বার্তায় অভিজাত ও ব্যক্তিত্ব দেখানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।দর ক’ষাক’ষি করার পরে, কনে পক্ষ থেকে যৌ’’তুক হিসেবে যা পাওয়া গেছে, তা নেহাতই কম নয়। কিন্তু কম

হয়ে গেছে কনের বয়স। বাচ্চা মেয়ে, নাম ফুলি বেগম, সবে মাত্র ১৪ পেরিয়ে ১৫ বছরে পড়েছে।মেয়ের বাবাও মোটামুটি ভাবে লাল শাড়ি পড়িয়ে মেয়েকে বিদায় দিতে পেরে খুশি।

মেয়ে হলে তো বিদায় দিতেই হবে। ক্লাস সেভেন পর্যন্ত মেয়েকে পড়িয়েছে। কম কি! তাছাড়া, শোনা যাচ্ছে ছেলেও নাকি ভাল। বাড়ির উঠোনে বসে মুখে পান চিবোতে

চিবোতে ছেলের মামা বলল, ‘এমন ছেলে কোথায় পাবেন মিয়া। তাছাড়া, ছেলে মানুষের একটু দো’ষ থাকলেও সমস্যা নেই, বিয়ের পর ঠিক হয়ে যাবে।’বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেয়েকে নিয়ে আসা হল তার নতুন ঘরে।

যে মেয়েটি সবে মাত্র জীবনের সংজ্ঞা শিখতে শুরু করেছে, শৈশব থেকে কৈশোরে পা রাখতে যাচ্ছে, কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তার আজ বাসর রাত। পুরুষতা’ন্ত্রিক এই সমাজে সতীত্ব যাচাই করার উৎসব। আর বিয়ে তো একটি সামাজিক বৈধতা মাত্র। সমাজ অনেক এগিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিয়ের সময় মেয়ের মতামতটা এখনও গৌন।

মেয়ের যদি মতামত না নেওয়া হয় বা পরিবারের কারও ধমকে মতামত দানের পর বিয়ে হয়, তাহলে তাকে ধ’র্ষ’ণ না বলে উপায় নেই। ফুলির ইচ্ছে করছে, চিৎকার

করতে, কিন্তু বাসর ঘরে চিৎকার করা যে উচিত নয়, এতটুকু বুঝতে শিখেছে ফুলি। হাত পা ছুঁড়ে বরের লা’লসার য’জ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার মিথ্যে চেষ্টা।সমাজ বি’ধীত

‘বর’, যখন আদিম প’শুত্ব থেকে বাস্তবে ফিরে আসে, তখন ফুলি র’ক্তে ভেজা। তখনও ফি’নকি’র মত র’ক্ত যাচ্ছে। ক্রমান্বয়ে সাদা ফ্যা’কাসে হয়ে আসছে মুখের রঙ!

ফুলি এখন হাসপাতালের বেডে অ’চেত’ন হয়ে শুয়ে আছে। তাকে যখন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে, ফুলির চোখ পড়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর।তারা যে কানাকানি করে কথা বলছিল, ব্য’’ঙ্গাত্ম’ক

হাসি তামাশা করছিল। যেন সব দোষ ফুলির। ল’জ্জায় কারও দিকে তা’কাতেও ভ’য় করে। তারপর ইঞ্জিন চালিত গাড়ীর প্রচণ্ড শব্দ। আরও এলোমেলো কিছু মুহূর্ত।

কিছুক্ষণ পর, সাদা এপ্রোন পড়া একজন ডাক্তার এসে তার হাত ধরেছে। মনে আছে শুধু এটুকুই। ডাক্তার নার্সকে সাথে নিয়ে, ফুলি বেগমকে পরীক্ষা করলেন।

ভ’য়াব’হ রকমের পে’রিনিয়াল টিয়ার (যৌ’’না’ঙ্গ ও তার আশপাশ ছিঁ’ড়ে গে’ছে)। তখনও র’ক্ত যা’চ্ছে প্রচুর। হাতে পা’লস দেখা হল। খুবই কম। জরুরি ভিত্তিতে

রোগীকে র’ক্ত দেয়া দরকার। জরুরি অবস্থায় অ’পারে’শন করে ছিঁ’ড়ে যাওয়া অংশ ঠিক করতে হবে। এই ভ’য়াব’হ সং’কটাপন্ন রোগীকে নিয়ে হিমসিম খাওয়ার অবস্থা

কর্তব্যরত ডাক্তারের। ম্যাডামকে ফোন করা হল…প্রাথমিক ভাবে ম্যানেজ করার জন্য র’ক্ত দরকার… রোগীর সাথে যারা এসেছে এতক্ষণ ই’মারজে’ন্সি রুমের সামনে চিল্লা পাল্লা করছিল। ডাক্তার এসে জানালো জরুরি ভিত্তিতে র’ক্ত

দরকার। তখন সবাই চুপ। কেউ কেউ কেটে পড়ার জন্য পাশে সরে গেল। কিছুক্ষণ পর রোগীর লোক জানালো, তারা র’ক্ত জোগাড় করতে পারবে না। যা হয় হবে!

ডাক্তার তাদের বুঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু লাভ হল না…রাত সাড়ে তিনটায় ম্যাডাম আসলেন। তার ধ’মকে শেষ পর্যন্ত তারা র’ক্ত জোগাড় করতে রাজি হল। কিন্তু

র’ক্ত আর সেই রাতে জোগাড় হল না। অ’পারেশ’ন থিয়েটারে ফুলিকে নিয়ে গিয়ে টিয়ার রি’পেয়ার করা হল। সকালে রোগীর শ্বশুরবাড়ির লোক সবাই উধাও। ফুলির

বাবা আসলেন সেই ভোরে, র’ক্ত জোগাড় হল কোন রকমে। ছয়দিন পর, রোগীর সেপ্টিসেমিয়া ডেভলপ করলো। ইন’ফেক’শন র’ক্তে ছড়িয়ে গেছে। ভাল অ্যা’ন্টিবায়ো’টিক দরকার।

রোগীর বাবা এসে বললেন, তারা আর খরচ চালাতে পারবেন না। ডাক্তার পরামর্শ দিলেন, কোন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে, তাহলে ঔষধ কেনার খরচ কিছুটা

বাঁচবে। কিন্তু, হাসপাতাল মানে তো, কাজকর্ম রেখে একজনকে রোগীর পাশে থাকতে হবে। রিলিজ দিয়ে বাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন, যা হবার হবে। রিলিজ নিয়ে

ফুলিকে বাসায় নেয়া হল।আরও বেশি অসুস্থ হওয়ায় চারদিন পরে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হল। পরদিন ভোর ভোর সময়। একবার চোখ খুলে আবার বন্ধ করলো

ফুলি। সেই বন্ধ শেষ বন্ধ। এই সমাজের প্রতি ঘৃ’ণায় চোখ জ্বল জ্বল করছিল কি না কেউ দেখতে পারেনি। ভোরের স্বল্প আলোয় বিদায় জানালো জীবনের নি’ষ্ঠুর’তাকে! ফুলি ‘একিউট রে’নাল ফে’ইলরে’ মা’রা গেছে।ঢাকা

মেডিকেলে নিয়ে ডায়ালাইসিসের জন্য বলা হয়েছিল, তারা রোগী নিয়ে এত ঝা’মে’লা করতে পারবে না। শ্বশুরবাড়ি থেকে সেই বাসর রাতের পর, কেউ আসেনি।

তাদেরই বা এত চিন্তা কি, একটা বউ ম’রলে দশটা বউ পাওয়া যায়! ফুলি একা নয়, এ রকম ঘ’টনা প্রায়ই দেখা যায়। এই ঘ’টনা গু’লো চক্ষু ল’জ্জার ভ’য়ে প্রকাশ হয় না। কিন্তু সচেতনতা জরুরি। লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

About khan

Check Also

অবৈধ সম্পর্কের জেরে বাবার বান্ধবীকে রাস্তায় ফেলে চুলের মুঠি ধরে মে’য়েদের মা’রধর (ভিডিও)

বাবার সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রকাশ্যে এক নারীকে বেধড়ক মারধর করেছে দুই মেয়ে। সম্প্রতি ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *