Saturday , March 6 2021
Breaking News
Home / Education / লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য অলিখিত নির্দেশনা

লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য অলিখিত নির্দেশনা

লিখিত পরীক্ষার্থীদের জন্য অলিখিত নির্দেশনা ♣♦♣
লিখেছেন – Ahasanur Haque Saikat Talukder (বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার)
আগামী ৪ জানুয়ারী শুরু হচ্ছে ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। হাতে আছে আর মাত্র কয়েকদিন। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি যা নেওয়ার আপনারা নিয়ে ফেলেছেন। তাই প্রস্তুতি নিয়ে কোন কথা না বলে কীভাবে সঠিক উপায়ে প্রস্তুতিটাকে কাজে লাগানো যায়, সেটা নিয়েই কয়েকটি কথা বলছি।
## লিখিত পরীক্ষার জন্য অগোছালো পড়ালেখার চাইতে গুছিয়ে পড়ালেখা বেশি কাজের। তাই যা পড়েছেন সেটাকে মাথায় স্টেপ বাই স্টেপ সাজিয়ে নিন। পরীক্ষা হলে ভাবাভাবির কোন সময় নাই।

## পরীক্ষার কথা ভেবে আলাদা চাপ নেওয়ার দরকার নাই। চাপ নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সুতরাং স্বাভাবিক জীবনযাপন করুন।
## হাত বা আঙ্গুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কাজগুলো এড়িয়ে চলুন। কারণ লিখিত পরীক্ষায় প্রিলিমিনারী পরীক্ষার মতো শুধু বৃত্ত ভরাট করলেই হয় না, অনেক লিখতে হয়।
## একটানা ৪-৬ ঘন্টা লেখার জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হোন। তাছাড়া দ্রুত লেখার প্রস্তুতিও নিন। লিখিত পরীক্ষায় আপনি কী জানেন সেটার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কী লিখলেন। BCS Studycare

## বাসা থেকে বের হওয়ার সময় একটি ফাইলে কলম, অ্যাডমিট কার্ড, পেন্সিল, স্কেল, ইরেজার, সার্পনার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস সাথে নিবেন।
## মোবাইল বা ব্যাগ নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ নিষিদ্ধ। নিজের উদ্যোগে কেন্দ্রের বাইরে যদি এসব জিনিস রাখার ব্যবস্থা না করতে পারেন, তাহলে এগুলো নিয়ে যাবেন না। অযথা খাল কেটে কুমির আনার দরকার নাই।

## গাণিতিক যুক্তি, গণিত, ফলিত গণিত, পদার্থবিদ্যা, ফলিত পদার্থবিদ্যা, পরিসংখ্যান, হিসাব বিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের পরীক্ষা ছাড়া অন্য সব পরীক্ষার দিন হলে ক্যালকুলেটর ব্যবহার নিষিদ্ধ।
## হাতে সময় নিয়ে বাসা থেকে বের হবেন যাতে যানজটে পড়লেও সময়মত কেন্দ্রে পৌছাতে পারেন। একটু বেশি পড়ার জন্য বাসা থেকে দশ মিনিট পরে বের হওয়ার কারণে পরীক্ষার হলে পৌছাতে দেরি হলে আপনাকে যে টেনশন ভোগ করতে হবে, সেটা ঐ দশ মিনিটে যা পড়েছেন তার চেয়েও বেশি কিছুকে ভুলিয়ে দেবে।
## পরীক্ষার হলে সময় দেখার জন্য দেয়াল ঘড়ি ও পিপাসা মেটানোর জন্য পানির ব্যবস্থা থাকবে। এটা নিয়ে আপনার চিন্তা না করলেও চলবে।
## ভালো প্রস্তুতি, ভালো পরীক্ষা বলে একটা কথা আছে। তবে কথাটা সবসময় সঠিক নয়। কারণ ভালো পরীক্ষার জন্য ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট করাসহ অন্যান্য অনেক কিছুই জরুরী। সেগুলোর দিকেও নজর দিবেন।

## সবারই কিছু দুর্বল দিক থাকে, কিছু সবল দিক থাকে। তাই অন্যের সাথে নিজের তুলনা করতে যাবেন না। আপনি আপনিই। যিনি বেশি বক বক করেন, ওনার রোল নম্বরটা টুকে নেবেন। রেজাল্টের দিন কাজে লাগবে।
## খাতা পাওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয়কোড, বিষয়ের নাম, সেন্টার ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করবেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিতে ভুলবেন না। যারা বোথ ক্যাডারে পরীক্ষা দেবেন, তাঁরা বাংলা পরীক্ষার দিন দুইটি উত্তরপত্র পাবেন। সতর্ক থাকবেন যাতে প্যাঁচ না লাগে।
## লিখিত পরীক্ষা পাস করার পাশাপাশি নম্বর তোলার পরীক্ষা। কম নম্বর পেয়ে পাস করলে মৌখিক পরীক্ষা দিতে পারবেন কিন্তু ক্যাডার হতে পারবেন না। তাই যতটা সম্ভব নম্বর তোলার চেষ্টা করবেন।

## বেশি নম্বর তোলা যদি একান্তই সম্ভব না হয়, তাহলেও হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দিয়ে আসবেন না। মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হলে, ক্যাডার না পান, অন্তত নন-ক্যাডার একটা চাকরির আশা করতে পারবেন। BCS Studycare
## যেকোন বিষয়ের পরীক্ষাই বাংলা বা ইংরেজি যেকোন ভাষাতেই উত্তর দিতে পারবেন। তবে একই পরীক্ষায় একটা প্রশ্ন বাংলা আবার আরেকটা প্রশ্ন ইংরেজিতে উত্তর দিতে পারবেন না।
## ফুল আন্সার করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন। কোন কিছু না পারলেও বানিয়ে লিখবেন। কারণ বানিয়ে লিখলেও কিছু নম্বর পাওয়ার আশা থাকবে। আর আপনি যদি খাতায় কিছু না লিখেন, তাহলে পরীক্ষকের শক্তি নাই আপনাকে নম্বর দেয়।
## পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাওয়ার পর পুরো প্রশ্নটা একনজর দেখবেন। পূর্ণমান অনুযায়ী সময় ভাগ করে নেবেন। যে প্রশ্নের জন্য যতটুকু সময় বরাদ্দ সেই সময়ের মধ্যে উত্তর করা শেষ করতে চেষ্টা করবেন ।

## যে প্রশ্নগুলোর উত্তর ভালো পারেন সেগুলো আগে লিখবেন। পনেরো নম্বরের একটা বড় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেয়ে পাঁচ নম্বরের তিনটি ছোট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ভালো। তাতে নম্বর আসবে বেশি।
## প্রয়োজনে ম্যাপ, ছবি, চার্ট আঁকবেন। সময় থাকলে যেখানে যতটুকু তথ্য দেওয়ার সুযোগ আছে সেখানে তথ্য দিতে ভুলবেন না। তাতে মার্ক বাড়বে।
## উদ্বৃতি বা কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা পয়েন্ট, যেটা আপনি পরীক্ষকের নজরে আনতে চান, সেটা নীল বা সবুজ কালিতে লিখতে পারেন।
## কোন প্রশ্নের (ক), (খ), (গ) থাকলে সেগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী লিখবেন। তাতে পরীক্ষকের খাতা দেখতে সুবিধা হবে।

## ঢালাও না লিখে প্যারা করে লিখবেন। নাম্বারিং করেও লিখতে পারেন। মোটকথা, নিজে পরীক্ষক হলে কেমন খাতা আশা করতেন সেরকমভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করবেন। ## পরীক্ষার হলে আশেপাশে কারো দেখার সুযোগ নাই। এতো লেখা লিখতে হয় যে কারো দেখে এতো লেখা লেখাও সম্ভব না। তবে কিছু টার্ম হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন না বা কনফিউশন হচ্ছে, যদি সুযোগ থাকে, তাহলে সেটা পাশের জনের নিকট থেকে শুনে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। ## বেশি লিখলেই বেশি নম্বর পাবেন না। লেখা তথ্যবহুল হতে হবে। অতিরিক্ত খাতা নিলে সেটাতে পরীক্ষকের স্বাক্ষর আছে কি না সেটা দেখে নেবেন। ## অতিরিক্ত খাতার নম্বরটা আপনার মূল খাতার নির্দিষ্ট স্থানে লিখে পাশের বৃত্তটা ভরাট করবেন। পরীক্ষা শেষের আগে খাতাগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী গুছিয়ে সেলাই করে নেবেন। ## কোন ক্যালকুলেশন করার দরকার হলে ক্যালকুলেশনগুলো মুখে মুখে না করে লিখে করবেন। কারণ পরীক্ষার হলে মানসিকভাবে চাপে থাকার ফলে সহজ ক্যালকুলেশনও ভুল হয়ে যায়। ## যেটা জিনিসটা সবাই পারে সেটাতে যেন আপনার মার্ক ছুটে না যায় সেটা নিশ্চিত করবেন। প্রশ্ন কঠিন হলে ঘাবড়ে যাবেন না। কঠিন প্রশ্ন সবার জন্যই কঠিন। ## বাসায় এসে প্রশ্ন নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন না। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। সময় থাকলে পরের দিনের মূল মূল পড়াগুলো রিভাইস দেবেন। যেদিন দুই বেলা পরীক্ষা থাকবে সেদিন হয়তো পড়ালেখা করার কোন এনার্জিই পাবেন না। ## পরীক্ষা ভালো হোক আর খারাপ হোক, ফলাফলের কথা চিন্তা না করে মনোবল ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন। একত্রিশতম বিসিএস পরীক্ষায় যে মেয়েটি লিখিত পরীক্ষা দিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না, যার বারবারই মনে হচ্ছিলো, তিনি আরো ভালো লিখতে পারতেন, রেজাল্ট হওয়ার পর দেখা গেলো তিনি প্রথম হয়েছেন।

About khan

Check Also

পরীক্ষার খাতায় লেখার কৌশল: জানলে ভালো মার্ক তুলতে পারবেন সহজে।

লিখিত পরীক্ষার জন্য যে তথ্য আহরণ বা পড়াশোনা করেছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার খাতায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *