Monday , May 10 2021
Breaking News
Home / Education / লক্ষ্য যখন বিসিএস

লক্ষ্য যখন বিসিএস

মানুষ তার স্বপ্নের মতই বড়। স্বপ্ন যত কঠিন আর অবাস্তবই হোক না কেন তা পাবার জন্য সবাই মরিয়া। বিসিএস শুধু একটি পরীক্ষার নাম নয়, একটি স্বপ্নের নাম! ক্যাডার হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কিংবা বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের জন্য বয়সের শেষ অবধি এ নেশা অনেককেই অন্ধের ন্যায় আকৃষ্ট করে রাখে। এ নেশা নান্দনিক নেশা! এ নেশা নাম, যশ, খ্যাতি, মান-সম্মান, বিত্ত আর চিত্তের নেশা! একজন বিসিএস ক্যাডার রাষ্ট্রের সেবক। অনেকের মতে রাষ্ট্রের কল্যাণ তাদের হাতে নিহিত। তারা রাষ্ট্রের যন্ত্র। সে যাই হোক না কেন বিসিএস ক্যাডার বলে কথা! ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষার আর খুব বেশিদিন বাকি নেই। এখন থেকেই বিসিএস প্রত্যাশিদের মাঝে চলছে প্রস্তুতির দৌড়ঝাঁপ। বিসিএস প্রস্তুতির নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত বেশ কয়েকজন বিসিএস ক্যাডার। তাদের নিয়ে লিখেছেন— মো: আল-আমিন

যত কষ্টই হোক প্রতিযোগিতায় টিকতে হবে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পুলিশ সুপার, গাজীপুর বিসিএস, পুলিশ (২০তম বিসিএস) সা ধারণত একজন ছাত্র যখন অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরিবার থেকে চাপ আসে চাকরি করার জন্য। গ্রামের একটি পরিবার তাদের সন্তানকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে পড়াশোনা করানোর পর অনেকটা অপারগ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সন্তানের উপর চাপ আসে বাড়িতে টাকা পাঠানোর বা পরিবারকে সাপোর্ট দেওয়ার। এমতাবস্থায় অনেক মেধাবীরাই চাকরি কিংবা কাজে জড়িয়ে যায়।

অনেক সময় কাজ ও পড়াশোনা ঠিক রাখতে গিয়ে কোনোটাই ঠিকমত হয়ে উঠে না। আমি ঐসব পরিবারকে বলব আপনারা আপনাদের সন্তানকে আরো কিছু দিন সময় দিন। ছাত্ররা পরিবারের উপর চাপ কমানোর জন্য বিসিএস প্রস্তুতির পাশাপাশি দু-একটা টিউশন করতে পারে। এতে করে নিজের হাত খরচও হয় এবং চর্চাও থাকে। বিসিএস তেমন আহামরি কিছু না। নিয়মিত পড়াশোনা করলে যে কেউ বিসিএস এ ভালো করতে পারে। পরীক্ষার আগের রাত্রিতে অনেকের মাঝে প্রশ্ন পাবার লোভ কাজ করে। এমন কোনো চক্রে পা দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে বিসিএস পার করতে হবে নিজের মেধায়। ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে কেয়া দেবনাথ সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিসিএস, প্রশাসন (৩৪তম বিসিএস)

সা ধারণত অন্য যেকোনো পরীক্ষা থেকে বিসিএস একটি লম্বা প্রক্রিয়া। এখানে রেজাল্ট কিংবা নিয়োগ পেতে একটু সময় লাগে তাই অনেক মেধাবীরা এখান থেকে সরে আসে। আবার অনেকে বিসিএস এর জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয় ভেবে পরীক্ষা দিতে চায় না। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলব বিসিএস একটি ধৈর্যের পরীক্ষা। এখানে যে যত বেশি ধৈর্য ধারণ করবে সে ততো বেশি ভালো করবে। বিসিএস প্রত্যাশি অনেকের ধারণা তাদের সবকিছু জানতে হবে। কোনো কিছুই বাদ দেওয়া যাবে না। আমার মতে এ ধারণাটি সম্পূর্ণভাবে ভুল।

কারো পক্ষেই সবকিছু জানা সম্ভব না। বাজারে অনেক অনুশীল বই পাওয়া যায়। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন যাচাই বাছাই করে যেসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোতে জোড় দেওয়া উচিত। এখনো যে কদিন আছে সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু পড়াশোনা করলে ভালো করা সম্ভব। অনেকের ধারণা ফেইসবুক কিংবা সোশ্যাল মিডিয়গুলো ঘাটাঘাটি করলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। অযথা ফেইসবুক বা অন্য সামাজিক মাধ্যমগুলোতে সময় নষ্ট না করে মন দিয়ে পড়াশোনা করুন। আপনিও ভালো করতে পারবেন। যে কোনো বিষয়ে সম্মুখ জ্ঞান থাকতে হবে ড. সুব্রত রায় জুনিয়র কনসালটেন্ট পেডিয়াট্রিকস, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র বিসিএস, স্বাস্থ্য (২৭তম বিসিএস)

অ নেক সময় পরীক্ষার হলে একটা প্রশ্নের দু্ইটা উত্তর সঠিক বলে মনে হয়। মনে হয় কোনটা রেখে কোনটা উত্তর করব! উত্তর নিয়ে অনেকটা সংকোচে পড়তে হয়। এমন সংকোচ বোধ হবার একটা বড় কারণ ঐ প্রশ্নের বিষয় সম্পর্কে সম্মুখ জ্ঞান না থাকা। এজন্য যতটুকুই পড়ব তা যেন সঠিক এবং সুন্দর হয়। কোনো বিষয়ে সম্পর্কে আবছা জ্ঞান থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। যেহেতু পরীক্ষার আর খুব বেশিদিন বাকি নেই তাই এখন থেকেই নতুন পড়ার চাপ কমিয়ে পুরাতন পড়াগুলো ঝালাই করে নিতে হবে। নতুন পড়ার মাঝে শুধু প্রতিদিন পত্রিকা পড়া আর টিভিতে সংবাদ দেখা যোগ হতে পারে।

পরীক্ষার আগ দিয়ে পড়া মনে রাখার একটা সহজ উপায় হতে পারেও রেকর্ডিং। আমি পরীক্ষার কিছুদিন আগে থেকে যা পড়তাম তাই রেকর্ড করে রাখতাম। পরবর্তীতে অবসর সময়ে বা কোথাও যাতায়াত করার সময় এগুলো শুনতাম। আর যা পড়ছি তা কারো সাথে আলোচনা করতে পারলে খুব ভালো হয়। এক্ষেত্রে পড়াগুলো ভুল হবার সম্ভাবনা কম থাকে। গ্রুপ প্র্যাক্টিস করতে পারলে খুবই ভালো হয় মোহাম্মদ গোলাম মাওলা ফার্ম ব্রডকাস্টিং অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস বিসিএস, কৃষি (২৭তম বিসিএস)

সা ধারণত বিসিএস পরীক্ষার জন্য অনেকে নাওয়া খাওয়া বাদ দেয়। সারাদিন বই নিয়ে পড়ে থাকে। এমন করতে করতে একটা সময় দেখা যায় পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে যায়। আমি আসলে এমন পড়াশোনার মোটেও পক্ষপাতি না। আমি বলব পড়াশোনার পাশাপাশি হালকা বিরতি নেওয়া যায়। এতে করে শরীর মন দুটাই ভালো থাকে। একদিন সারাদিন পড়ে অন্যদিন এক ঘণ্টাও পড়লাম না এমনটি করা যাবে না। প্রতিদিন নিয়ম করে পড়তে হবে। যেসব বিষয়ের উপর দুর্বলতা আছে সেসব বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করার ক্ষেত্রে গ্রুপ প্র্যাক্টিস খুব কাজে দেয়। গ্রুপ প্র্যাক্টিস করার মাধ্যমে একে অপরের সমস্যা সমাধান করতে পারে। কোনো কিছু না বুঝলে বা পড়াশোনা নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে বড় ভাইদের স্মরণাপন্ন হওয়া উচিত। অনেকে ইংরেজী আর গণিতে ভয় পায়। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলব আপনারা ভয় না পেয়ে এ বিষয়গুলোতে সময় বেশি দিন। একটা কথা সবার মাথায় রাখতে হবে বিসিএস প্রচুর পড়াশোনার পরীক্ষা। এখানে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।

About khan

Check Also

টিউশন না পড়েই, পুরানো বই পাঠ করে শ্রমিকের মেয়ে হয়ে গেল বোর্ড টপার, ছুঁয়ে দেখেনি স্মার্ট ফোন

ফলাফল বেরল উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার। শ্রমিক পিতা অঙ্গদ যাদব এবং গৃহকর্মী ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *