Saturday , December 4 2021
Breaking News

মা খুব বাজে বাজে পিক পাঠায়

খুব লজ্জা আর ক’ষ্ট নিয়ে আজ লিখছি। আমা’র বয়স ১৯। আমি স্নাতক ১ম ইয়ারে পড়ছি। আমা’র ছোট ১টা ভাই আছে সে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। আমি আমা’র মা-কে অনেক ভালোবাসি। আমা’র মা আমা’র জন্য উনার লাইফটাই বলতে গেলে বিসর্জন দিয়েছেন।

মা’র যখন ১৫ বছর তখন উনার হুট করেই বিয়ে হয়ে যায় উনার থেকে ১৬ বছর এর বড় ১টা লোকের(আমা’র বাবা) সাথে। উনি স্কুল থেকে এসে শুনে উনার বিয়ে। খুব সাদামাটা ভাবেই উনার বিয়ে হয়। মা বাবাকে দেখেই বাসর রাতে। দেখে উনি আরও হতাশ হয়ে পড়ে।

কারণ বাবা দেখতে মোটেই সুন্দর না। অনেক কালো আর খাটো ছিল। আর সবথেকে বড় কথা হল বাবা ছিল বেকার। অ’পরদিকে মা খুব সুন্দর। খুবই সুন্দর। মা এখনও অনেক সুন্দর। মা’র ক’ষ্ট আরও বেড়ে যায় আমি আমা’র বাবার মত হয়েছি দেখে। হুট করে কেউ দেখলে বিলিভ করতে চায় না আমি আমা’র মায়ের মে’য়ে। কিন্তু মা আমাকে অনেক ভালোবাসে।

মায়ের বিয়েতে কেউ রাজি ছিল না। কিন্তু গ্রামের বিয়ে ,মুরব্বিরা মিলেই বিয়ে দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে আমা’র নানারা মাকে বাবার ফ্যামিলি থেকে নিয়ে ফেলতে চায়। মানে ডিভোর্সের কথা হয়। কিন্তু তখন আমি পেটে চলে আসি যার জন্যে তাদের আর ডিভোর্স হয়নি।

আমা’র মা আজ পর্যন্ত আমা’র বাবাকে মেনে নেয়নি মন থেকে। কিন্তু বাবা মাকে অনেক ভালোবাসে। আমাদেরকে কোন দিক দিয়ে অ’সুখী রাখে নি। আমি কখনো দেখিনি আমা’র বাবা আর মাকে একসাথে বসে আড্ডা দিতে। তারা প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারো সাথে কথা বলে না। মা বাবার জন্য সব করে কিন্তু তার কাছে যায় না। এমনকি তারা রাতেও একসাথে থাকে না। আমা’র নানা আর দাদার ফ্যামিলিতে কেউ জানে না তাদের স’ম্পর্ক যে এত খা’রাপ।

আম’রা ভাই-বোন কখনো মা-বাবার সাথে বাইরে একসাথে ঘুরতে যাইনি। রিলেটিভ এর বাসায় গেছি কিন্তু অন্য কোথাও ন। বাবা দুপুরে বাইরে খায়। কিন্তু রাতে বাসায়। রাতে বাসায় থাকা সত্ত্বেও এক সাথে খাওয়া হয় না। আমি মে’য়ে হয়েও সব লজ্জা ভুলে চেয়েছি বাবা আর মাকে একত্রে রাখার। কিন্তু মা রাজি হয়নি। খুব খা’রাপ লাগে যখন অন্য কারো মা বাবাকে দেখি।

তারপরেও আমা’র মা আমা’র জন্য একজন আদর্শ ছিল। মা’র সাথে আমা’র স’ম্পর্ক বেশি ভালো। কিন্তু ইদানিং দেখি মা কাকে যেন তার খুব বাজে বাজে পিক পাঠায় ভাইবারে। কী’ রকম পিক তা আমি বলতে পারছিনা। মা’র কাছেও আসে বাজে বাজে পিক। আমি এগুলা দেখার পর মাকে আর ভালোবাসতে পারছিনা। উনাকে দেখলেই আমা’র ঘৃ’ণা করে।

উনি কী’ভাবে পারে নিজের এত বাজে পিক পাঠাতে? আমি জানি না কে সে? আমি বুঝতে পারছিনা উনি কেন আমা’র বাবাকে এভাবে ঠকাচ্ছে। আমি এসব নিয়ে খুব ডিস্টার্ব ফিল করছি। লেখাপড়ায় মনযোগ দিতে পারছি না। আর মাকে দেখলেই গা জ্বালা করে।

আমি বুঝতে পারছি না কী’ভাবে সিচুয়েশন থেকে বের হব? আমি কি মাকে ডাইরেক্ট এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করব?” দেশের অন্যতম একটি অনলাইনের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করা হচ্ছে।

পরাম’র্শ:
প্রথমত বলি, তোমা’র সমস্যাটা আমি বুঝতে পারছি আপু। খুবই ভালো’ভাবে বুঝতে পারছি। আমি আমা’র খুব কাছের একজন বান্ধবীকে এই সমস্যার মাঝ দিয়ে যেতে দেখেছি। তাই তোমা’র মানসিক অবস্থাটা আন্দাজ করতে পারছি। তোমা’র তোমা’র ভাগ্য ভালো যে মা তোমাকে খুবই ভালোবাসেন, তোমা’র জন্য নিজের জীবন স্যাক্রিফাইস করেছেন। আমা’র বান্ধবীর মা ওকে ভীষণ ঘৃ’ণা করতো।

তুমি ভেবো না যে আমি তোমা’র মায়ের সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি যা করছেন সেটা নিঃস’ন্দেহে পর’কী’য়া এবং ভীষণ খা’রাপ। তবে এটার পেছনে সম্পূর্ণ দায় তাঁর একার না, আরও কিছু কারণ আছে অন্তরালে। তাই তুমি কী’ করবে সেটা নির্ধারণ করার আগে সেগুলো নিয়েও ভেবে দেখতে হবে।

এমন কিছুই করা যাবে না যাতে সংসারটা ভেঙে যায়। তুমি আর তোমা’র ভাই, দুজনের জীবনই তাহলে এলোমেলো হয়ে যাবে। সাথে তোমা’র বাবারও। মে’য়ে হয়ে নিশ্চয়ই তুমি চাও না সংসারটা ভেঙে যাক? তাই পদক্ষেপ নিতে হবে খুব সাবধানে। তোমাকে একই সাথে একজন তৃতীয় ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখতে হবে এবং একজন দায়িত্বশীল কন্যার মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তুমি অবস্থাটা খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করেছ। এতে স্পষ্টই বুঝতে পারছি যে বাবাকে কখনোই মা ভালোবাসেন নি। কেবল তোমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করে গিয়েছেন। তাতে যা হয়েছে, তাঁর বুকের ভেতরে আস্তে আস্তে একটা বড় শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে। বাবাকে তিনি কখনোই নিজের যোগ্য মনে করেন নি, পরিস্থিতির চাপে বাবার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে মা সারা জীবন নিজের ক’ষ্টের জন্য বাবাকেই দায়ী করেছেন। ভেবেছেন যে অন্য কারো সাথে বিয়ে হলে তিনি আরও অনেক ভালো থাকতে পারতেন।

তোম’রা যখন ছোট ছিলে, মা তোমাদেরকে নিয়ে জীবন কাটিয়েছেন। এখন তোম’রা বড় হয়েছ, মা অনেকটাই নিঃসঙ্গ হয়ে গিয়েছেন। জীবনে ভালোবাসার অভাব পূরণ করতে গিয়েই মা বিপথে চলে গিয়েছেন। আজকাল ফেসবুক বা ভাইবারের কল্যাণে স’ম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। অনেকেই ফাঁদে পা দিচ্ছেন, নিজের ক’ষ্ট কম করতে গিয়ে ভুল পথে চলে মা’ও গিয়েছেন। কিন্তু তুমি রাগ বা ঘেন্না করে মাকে এই পথে থেকে ফেরত আনতে পারবে না। সেটা করার জন্য মা ও বাবা দুজনের প্রতিই তোমা’র সহানুভূতিশীল হতে হবে।

About khan

Check Also

অবৈধ সম্পর্কের জেরে বাবার বান্ধবীকে রাস্তায় ফেলে চুলের মুঠি ধরে মে’য়েদের মা’রধর (ভিডিও)

বাবার সঙ্গে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রকাশ্যে এক নারীকে বেধড়ক মারধর করেছে দুই মেয়ে। সম্প্রতি ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *