Monday , May 10 2021
Breaking News
Home / Education / মাথায় করে হাঁড়ি-পাতিল বেচে মেয়েকে পড়াশুনা করিয়ে যা প্রতিদান পেল বাবা

মাথায় করে হাঁড়ি-পাতিল বেচে মেয়েকে পড়াশুনা করিয়ে যা প্রতিদান পেল বাবা

বিরেণ সরকার। নি’জের এক টুকরো জমি নেই। নেই বসতবাড়ি। একটি ভাড়া বাড়িতে থা’কেন। গ্রামে গ্রামে ফেরি করে সিলভারের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করে দুই ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছেন।

ছেলে-মেয়ের লে’খাপড়ার খরচ আর সংসারের ভর’ণপোষণ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়ে’ছে তাকে। লেখাপড়ার প্রতি দুই সন্তানের অদম্য ইচ্ছে দেখে নি’জের দুঃখ-কষ্টগুলো নীরবে বয়ে বেরি’য়েছেন নিজের সুখ-আহ্লা’দের কথা চিন্তা করে’ননি বিরেণ সর’কার। মনের নিভৃত কোণে আস্তে আ’স্তে বেড়ে উঠতে থাকে একটি স্বপ্ন।

একদিন প্রাণ খুলে হা’সবেন। প্রশংসায় ভাসবেন। অবশে’ষে সেই স্বপ্ন আজ হাতের মু’ঠোয়! এখন তিনি বিসি’এস ক্যা’ডারের বাবা। তার মেয়ে বিথী রানী সর’কার এখন বিসিএস ক্যা’ডার। কিশোরগঞ্জের নি’ভৃত হাওর উপজেলা নিকলী। নিকলী উপ’জেলা সদরের বড়হাটি গ্রামের বাসিন্দা বিরেণ সরকারের এক ছেলে ও এক মেয়ে।

পরিবারের বড় সন্তা’ন বিথি রানী সরকার। ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় তিনি শিক্ষা ক্যা’ডারে নিয়ো’গের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বিথির এমন সাফল্যে প্রশং’সায় ভাসছেন তার বাবা-মা। আশপাশের লোক’জন ভিড় করছে তাদের বাড়িতে। বিথির সাফ’ল্যে বাবা বিরেণ আর গৃহিণী মা ময়না সর’কারের মুখে যেন হাসি লেগেই আছে।

বিরেণ সরকারের বাড়ি মূলত মুন্সি’গঞ্জের লৌহজং উপজে’লায়। বাবা আর ভাইদের সঙ্গে সিল’ভারের হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করতেই তিনি নিকলীতে আসেন। তবে এক সময় স্ত্রীকে নিয়ে স্থায়ী’ভাবে বসত গড়েন হাওর উপজেলা নিকলীতে। সেটি প্রায় ৩৮ বছর আগে। নিকলী সরকা’রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু বিথি রানী সরকারের।

প’ঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর স্থানীয় শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বি’দ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন ২০০৮ সালে। এরপর ভর্তি হন ঢাকার তেজগাঁও হলি’ক্রস কলেজে। সেখান থেকে ২০১০ সালে এইচএসসি পাস ক’রেন। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স শেষ করেন।

বিথির এক’মাত্র ছোট ভাই জয় সরকার দ্বীপ ঢাকা বিশ্ব’বিদ্যালয়ে পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টা’ডিজ বিভাগে মাস্টার্সে পড়’ছেন। বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হওয়া বিথি রানী সরকার বলেন, ৩৭তম বিসিএসে অংশ নিলেও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারিনি। তাই আরও প্রস্তু’তি নিয়ে ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিই।

পরে প্রিলি’মিনারি ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। এ জন্য আমি আ’মার বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের অদম্য ই’চ্ছায় আমি আজ স’ফলতার মুখ দেখেছি। বাবা-মা কষ্ট করে আমাকে লে’খাপড়া শিখিয়েছেন। বাবার ঋণ কোনো দিন শোধ ক’রতে পারবো না। আমি শিক্ষা ক্যাডার পেয়েছি। বিনয় ও সত’তার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, আশা ছিল প্রশা’সন ক্যাডারে যোগ দেয়ার। ৩৯তম বিসিএসে আ’বারও অংশ নিব। চেষ্টা করবো প্রশাসন ক্যাডার পাওয়ার। বিথির বাবা বিরেণ সরকা’র বলেন, আজ আমি কতোটা আনন্দিত সেটা কাউকে বোঝাতে পারবো না। গ্রামে গ্রামে ফেরি করে হাঁড়ি-পা’তিল বিক্রি করি।

এই আয় দিয়ে সংসা’রের খরচ চালিয়েও দুই সন্তানকে উচ্চ শি’ক্ষায় শিক্ষিত করেছি। আমার সুখ-স্বপ্ন সবই দুই সন্তা’নকে ঘিরে। রাতে চিন্তায় ঘুম হতোনা। ভাবতাম মে’য়েকে বিয়ে দেব কিভাবে? ভগবান অমা’দের দিকে ফিরে তাকিয়েছে। এখন আর আমার সে চিন্তা করতে হবে না। স্বপ্ন দেখ’তাম মেয়ে একদিন বড় হবে।

বড় চাকরি করবে। আ’মার সে স্বপ্ন আজ পূর্ণ হলো। এখন ছে’লেটির একটি ভালো চাকরি হলে মরেও আমি শান্তি পাব। বি’থির স্বজনরা জানান, নিম্নবিত্ত একটি পরিবা’রের পক্ষে ঢাকায় থেকে লেখাপড়া করা প্রায় অসম্ভব ছিল। তাই খা’লার বাসায় থেকে লেখাপড়া করেছেন বিথি। চা’চারা অনেক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছেন। বিথির বাবা বিরেণ সর’কার নিকলী বাজারে একটি ছোট দোকান ভাড়া নিয়েছেন। সেখানে সিলভা’রের হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করেন।

About khan

Check Also

টিউশন না পড়েই, পুরানো বই পাঠ করে শ্রমিকের মেয়ে হয়ে গেল বোর্ড টপার, ছুঁয়ে দেখেনি স্মার্ট ফোন

ফলাফল বেরল উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার। শ্রমিক পিতা অঙ্গদ যাদব এবং গৃহকর্মী ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *