Saturday , June 12 2021
Breaking News
Home / Exception / বে’কার নূপুর থাকেন কোটি টাকার ফ্ল্যাটে, মাসে জিম খরচই ৩০ হাজার

বে’কার নূপুর থাকেন কোটি টাকার ফ্ল্যাটে, মাসে জিম খরচই ৩০ হাজার

দৃ’শ্যমান কোনো পেশা নেই। অথচ লাখ টাকা ভাড়ায় নিকেতনের একটি বাসায় থাকেন। প্রতি মাসে জিমের বিল দেন ৩০ হাজার টাকা! এছাড়া সন্তানকে পড়ান ভালো স্কুলে।

পারভীন আক্তার নূপুর নামের এ তরুণীর এমন জীবনযাপন যে কাউকেই চমকে দেবে। বৈ’ধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও উচ্চবিলাসি জীবন তার। অথচ এভাবে চলাফেরা করতে প্রতি মাসে প্রয়োজন কয়েক লাখ টাকা।

নূপুরের এত টাকার উৎস ধনাঢ্য ব্যক্তিরা। যাদের কেউ শিল্পপতি, কেউ বা বড় ব্যবসায়ী। নূপুর তার বোন শেফালী বেগমকে নিয়ে ‘প্রে’মের ফাঁ’দ পেতে’ এসব ব্যক্তিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হা’তিয়ে নেন।

প্র’তারণার শি’কার একাধিক ব্যক্তি এ বিষয়ে অভিযোগ জানান আ’ইনশৃঙ্খলা বাহি’নীর কাছে। সেই অ’ভিযোগের পরি’প্রেক্ষিতে সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে নূপুর ও তার বড় বোনসহ প্রতা’রক চ’ক্রের চার’জনকে গ্রে’ফতার করেছে রাজ’ধানীর হাতিরঝিল থানা পুলি’শ। গ্রে’ফতার হওয়া চারজন এসব বিষয়ে প্রাথমিকভাবে স্বী’কারোক্তিও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা গেছে, অন্তত ২৫ জনকে এভাবে ফাঁ’দে ফে’লার কথা স্বীকার করেছেন তারা। তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি আদায় করা হয়েছে দুই থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত। নূপুর যাদের স’ঙ্গে প্রতা’রণা করতেন, তাদের বেশিরভাগই সমাজে প্রভাবশালী এবং সম্মানিত ব্যক্তি। সেই কারণে মান-সম্মানের ভ’য়ে তারা মুখ খুলতে পারতেন না। ফলে নূপুরের চাহিদামতো টাকা দিতে বা’ধ্য হতেন তারা।

চ’ক্রের ‘মূল হোতা’ পারভীন আক্তার নূপুর টাকার বিনিময়ে এসব ব্যক্তির নাম ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন একটি ট্রাভেল এজেন্সির এক কর্মকর্তার কাছ থেকে। সেসব নম্বরের বিপরীতে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন বেসরকারি মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের কর্মী রুবেল মাহমুদ অনিকের কাছ থেকে।

এরপর নূপুর ওই বয়স্ক ব্যক্তিদের মুঠোফোনে কল করতেন। কখনো সাংবাদিক, কখনো-বা সমাজকর্মী হিসেবে নিজের পরিচয় দিতেন। পরিচয়পর্ব শেষে সখিত্ব গড়ে তুলতেন। দেখা-সাক্ষাৎও করতেন বিভিন্ন মাধ্যমে। একপর্যায়ে নূপুর তাদের স’ঙ্গে প্রে’মের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। প্রে’মের ফাঁ’দে ফেলে আন্তরিক কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সংগ্রহে রাখতেন তিনি। এ ছা’ড়া ঘ’নি’ষ্ঠ ছ’বিও কাছে রাখতেন নূপুর।

গত ৩ ডিসেম্বর হাতিরঝিল থানায় ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি এ বিষয়ে মা’মলা করেন। মা’মলার ত’দন্তে নেমে গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত চারজনকে গ্রে’ফতার করে পু’লিশ। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, নিকেতন, রমনা ও বাড্ডা এলাকা থেকে তাদের গ্রে’ফতার করা হয়। গ্রে’ফতারকৃতরা হলেন- চক্রের প্রধান পারভীন আক্তার নূপুর (২৮), তার বড় বোন শেফালী বেগম (৪০), মতিঝিলের পারফেক্ট ট্রাভেল এজেন্সির কর্মী শামসুদ্দোহা খান ওরফে বাবু (৪০) এবং মুঠোফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের কর্মী রুবেল মাহমুদ অনিক (২৭)।

ঢাকা মহানগর পু’লিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, প্র’তারণা করে টাকা হা’তিয়ে নিতে যদি কোনো ঝা’মেলা হতো তাহলে ব্যবহার করা হতো মো. ইসা নামের এক ভু’য়া আইনজীবীকে। তিনি তাদের কল করে না’রী নি’র্যাতন ও ধ’ণের মা’মলা দা’য়েরের কথা বলে হু’ম’কি দিতেন। তিনি এখনো প’লাতক আছেন। ই’সা বিভিন্ন মি’থ্যা ও বানো’য়াট বিল ভাউচার তৈরি করার কথাও জানাতেন প্র’তারি’তদের। এ ছাড়া এসব ব্যক্তির কাছে দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পারভীনের বড় বোন শেফালী সেসব ব্যক্তিকে কল করে মা’ম’লার হু’ম’কি দিতেন। এদের বি’রু’দ্ধে হাতিরঝিল থা’নায় প্র’তার’ণা ও ডিজিটাল নিরাপ’ত্তা আ’ইনে দু’টি মা’ম’লা করা হয়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে নূপুর ও তার বোন এভাবে এমন প্র’তার’ণার ফাঁ’দ পেতে টাকা-পয়সা আদায় করে আসছিলেন। কোনো ব্যক্তি টাকা দিতে রাজি হলে অধিকাংশ সময় নূপুরের হয়ে তা সংগ্রহ করতেন বাবু। প্রতিটি কাজের জন্য বাবুসহ চক্রের অন্য সদস্যদের ১০ হাজার করে টাকা দেয়া হতো। বাকি টাকা দুই বোন ভাগ করে নিতেন।

এর আগে ছয়টি লিপস্টিক হারা’নোর ঘটনায় একবার গুলশান থা’নায় অভি’যোগ করেছিলেন পারভীন আক্তার নূপুর। সেখানে বলা হয়েছিল, লিপস্টিকগুলোর মোট মূল্য ৯০ হাজার টাকা!

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পারভীন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। মূলত তার কোনো পেশা নেই। কিন্তু তিনি কোটি টাকা দামের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। তার বড় বোন শেফালী তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তিনি চাঁদনী চক মার্কেটে স্কার্ফ, হিজাব ও বোরকা বিক্রি করেন। আর অবিবাহিত শামসুদ্দোহা মোহাম্মদপুরে শেফালীর ফ্ল্যাটেই থাকেন।

About khan

Check Also

সুন্দরী যুবতীর পো-শাক টে-নে স্ত-নে মুখ ও হাত দিলো বাঁদর, বে-কা-য়দায় প-ড়ে গেলেন যুবতী, ভাইরাল ভিডিও!

আম’রা প্রত্যেকেই চাই যে আমা’দের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা একটু ভিন্ন মাত্রায় স্বাদ আনতে এবং এই ভিন্ন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *