Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / Education / বিজ্ঞান, কলা এবং ব্যবসায় শিক্ষা সকল বিভাগের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবী।

বিজ্ঞান, কলা এবং ব্যবসায় শিক্ষা সকল বিভাগের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সময়ের দাবী।

আমি যখন ক্যাডার হয়েছিলাম তখনো PSC সাথে আমার ৩ বছরের খেলার চুক্তি বাকি ছিল কিন্তু তার আগেই বই,খাতা,কলম তুলে রেখে দিয়ে অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিলাম। গণিত নামক গুগলি বল খেলতে আমি বরাবরি ব্যর্থ হয়েছি। ৩৫ তম BCS এ লিখিত ফেইল একমাএ গণিত এর জন্য। ৩৬ তম তেও গণিত নামক গুগলি বলে বোল্ড আউট হলাম কিন্ত এবার ভাগ্য ভাল রিটেন ফেইল করি নি, অন্য পরীক্ষা গুলো অনেক ভাল হওয়াতে আল্লাহর অশেষ রহমতে শিক্ষা ক্যাডার হয়ে গেলাম। গণিতে দুই বার ফেইল করার জন্য BCS নামক প্রতিযোগিতা থেকে অনেক টা অনুরাগ করে অবসর গ্রহন করেছিলাম। নিজেকে কেন যেন জেনারেল ক্যাডারের জন্য অযোগ্য মনে হত। যদিও BCS পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে নিজের মনের মধ্যে বিশাল একটা ক্ষোভ ছিল।HSC উচ্চতর গণিত বই যা কোন দিন চোখেও দেখি নাই কিন্তু রিটেনের অধিকাংশ প্রশ্ন আসে এখান থেকে। প্রত্যেক বছর রিটেন পরীক্ষার অধিকাংশ প্রতিযোগী ফেইল করে এই গণিতে।

৩৬ তম তে ২৩৪৩ জন ক্যাডার হয়েছে যার মধ্যে ১২০০- ১৫০০ ক্যাডারের সাথে আমি যে কোন ভাবে পরিচিত। মজার ব্যপার হচ্ছে, আমি এখনো ১ জন জেনারেল ক্যাডার পাইনি যে কিনা সম্পূর্ণ কলা অথবা বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসেছে। কিছু যাও পেয়েছি তারা HSC পর্যন্ত বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন অথবা বিভিন্ন কোটার মাধ্যমে জেনারেল ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন

। প্রশ্ন হচ্ছে কলা অথবা বাণিজ্য বিভাগে কি মেধাবী শিক্ষার্থী নেই??? যদি থাকে, তাহলে কেন এত কম শিক্ষার্থী জেনারেল ক্যাডারে আসছে?? তাহলে কি সমস্যা টা BCS এর সিলেবাসে, যে কারণে কলা এবং বাণিজ্য বিভাগের ছাএ ছাএীরা ভাল করতে পারছে না। যেহেতু আমি ৩৬ তম BCS এর সবাই কে চিনি না তাই তাদের মধ্যে হয়ত কিছু পিউর কলা অথবা বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী থাকতে পারে কিন্ত সেটা কত শতাংশ?? হয়ত ৩ – ৫%….!! ৩৫ তম বিসিএস এর রিটেন ক্লাস করার সময় এক স্যার বলেছিলেন, যে সিলেবাসে বিজ্ঞানের রিটেন পরীক্ষা হয় , সিলেবাস প্রণেতারাই নাকি জানতেন না এই সিলেবাসে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে। তারা নাকি ভেবেছিল এই সিলেবাসে শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিবে (সত্য কতটুকু জানি না)। শুধু BCS নয় ব্যাংকের অবস্থাও অনেক নাজুক।

সেখানেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর জয় জয়কার। এমন কি প্রাইভেট ব্যাংকেও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বেশি। অথচ অনেকেই আছেন যারা ব্যাংকিং এর “ব ” বুঝেন না। নিঃসন্দেহে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা অনেক মেধাবী কিন্তু কলা ও বাণিজ্য বিভাগেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে কিন্তু সেই অনুপাতে তারা ভাল করতে পারছে না কেন?? এর জন্য কি পরীক্ষা পদ্ধতি আর সিলেবাস দায়ী নয়?? ৬ বছর পড়াশুনা করে একজন শিক্ষার্থীকে ডাক্তার হতে হয়। পরবর্তীতে তাকেও সরকারি চাকুরির জন্য বিসিএস দিতে হয়। তাকেও পড়তে হয় সুদানের মুদ্রার নাম কী, হাইতির রাজধানী কোথায়, উমানের জনসংখ্যা কত ইত্যাদি। একজন ডাক্তারের জন্য এই সব বিষয় জানা আদৌ কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কী ?

আমি ঢাকা মেডিকেলে ইন্টার্ণ ডাক্তার দের এই সব জেনারেল নলেজ বিষয়ে গ্রুপ স্টাডি করতে দেখেছি। যখন কোন রোগী আসছেন তখন তারা বেশ বিরক্ত বোধ করছেন কিন্তু পরামর্শ দিচ্ছেন। আর বিরক্ত না হয়ে উপায় নেই কারণ বিসিএস ক্যাডার হতে হলে তাকে পড়তে হবে। তাই তারা চিকিৎসার পাশাপাশি চাকরির জন্য পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছু দিন আগে আমার ভাতিজা অসুস্থ হলে আমাকে রাতে হসপিটালে থাকতে হয়।গভীর রাতে ইন্টার্ণ ডাক্তারের রুমে ঢুকে দেখি সে জেনারেল নলেজ এর বই পড়ছে। একজন ডাক্তারের কেন চাকরির জন্য জেনারেল নলেজ পড়তে হবে? তার পেশাগত দক্ষতার জন্য কি এই জেনারেল নলেজ আদৌ কোন ভূমিকা রাখে?

একজনBCS ক্যাডার কে যদি গণিতের জন্য HSC উচ্চতর গণিত, বিজ্ঞানের জন্য পদার্থ, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স পড়তে হয় তাহলে কেন হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স,ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, অর্থনীতি এই সব বিষয় সিলেবাসে নেই বা পড়তে হয় না?? কেন SWOT Analysis, Case Study মত ফ্রি হেন্ড রাইটিং প্রশ্ন করা হয় না?? একজন কলা এবং বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীর যদি উচ্চতর গণিত, পদার্থ, রসায়ন পড়তে হয় তাহলে একজন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর কেন হিসাব বিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানবে না?? কলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগের মত না হলেও চাকুরীর পরীক্ষায় কিছুটা সুবিধা পায় যেমন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইংরেজি, বাংলা ইত্যাদি বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনেক সুবিধা পায় কিন্তু বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা সব দিক থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে। আমার মনে হয় এখনি সময় এসেছে সব বিভাগের শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার। আমার একটাই প্রার্থনা এই দেশে আর কখনোই যেন উচ্চতর গণিত দিয়ে মেধা যাচাই না করা হয়। কারণ প্রায় ৬০% শিক্ষার্থী তার ছাএ জীবনে কোন দিন এই মহাগ্রন্তটি চোখেই দেখে নি।

লেখক (আশরাফুল আলম)
৩৬ তম বিসিএস ( সাধারণ শিক্ষা)

( আলী ইমাম মজুমদার স্যারের আজকের লিখার প্রায় ২ বছর আগেই আমি এই লিখাটা লিখেছিলাম)

About khan

Check Also

পরীক্ষার খাতায় লেখার কৌশল: জানলে ভালো মার্ক তুলতে পারবেন সহজে।

লিখিত পরীক্ষার জন্য যে তথ্য আহরণ বা পড়াশোনা করেছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার খাতায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *