Tuesday , May 11 2021
Breaking News
Home / Education / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই

বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সিলেবাস ব্যাপক ও বিস্তৃত। ভৌত বিজ্ঞান থেকে শুরু করে রসায়ন, জীব বিজ্ঞান, আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক— কি নেই এখানে? তবে আশার কথা হলো যে, এই টপিকের খুব গভীরে প্রশ্ন করা হয় না সচরাচর। সিলেবাসে উল্লিখিত টপিকস ধরে সেটির সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, বাস্তবিক ব্যবহার উদাহরণসহ জানলেই হয়। পড়ার জন্য খুব বেশি বইয়েরও দরকার নেই।

বিজ্ঞান অংশের জন্য ৯/১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বইটিকে মূল বই হিসেবে নেবেন। সাথে ওরাকল/ অ্যাসুরেন্স গাইড বই। বিষয়ভিত্তিক গাইড বইগুলোতে অনেক টপিকের বাড়তি আলোচনা করা থাকে যার অধিকাংশই হয়ত অপ্রয়োজনীয়। তাই সিলেবাস ধরে চ্যাপ্টার ওয়াইজ গুরুত্বপূর্ণ এবং আসার মত প্রশ্নগুলো দাগিয়ে ফেলবেন। সেই সাথে প্রশ্ন উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো। এতে করে আপনার বিশাল বইয়ের পরিধিটা কমে আসবে। এর বাইরে যা করতে পারেন তা হলো এসুরেন্স ডাইজেস্টের প্রশ্নগুলো ফলো করতে পারেন। এটা প্রিসাইস, যা দরকার ঠিক তাই দেয়া আছে।

অনেকেই নবম/দশম শ্রেণির পদার্থ, রসায়ন, জীব বিদ্যা বই পড়তে বলেন। এতগুলো বইয়ের বোঝা মাথায় না চাপিয়ে সিলেবাসের যে টপিকগুলা এই বইগুলোতে আছে, সেগুলো শর্ট করে খাতায় লিখে ফেলুন। কাজ কিন্তু খুব বেশি না! ফলটা যা হবে, তা হলো বইয়ের বোঝাটা কমে গিয়ে এক জায়গায় জিনিসগুলো থাকবে। পরীক্ষার আগের রাতে দ্রুত রিভাইস দিতে পারবেন।

এবার আসি ইলেক্ট্রিক্যাল অংশ নিয়ে। খুব খেয়াল করে দেখবেন বিগত ৭/৮ বছর থেকে ৪ টা কমন পড়ে যায়। কারশফ, ভোল্টেজ ল, হুইস্টোন ব্রিজ, সমান্তরাল/ শ্রেণী সংযোগ, এম্পলিফায়ার, ট্রানজিস্টর এইগুলা ঘুরে ফিরে আসে। এগুলোর জন্য গাইড/ ডাইজেস্ট থেকে পড়ুন।

কম্পিউটার অংশের জন্য প্রিলির জন্য পড়া ইজি কম্পিউটার বইটা সাথে রাখবেন। এটা সিলেবাসের ম্যাক্সিমাম কাভার করে। গাইড/ ডাইজেস্ট তো সাথে আছেই। যেহেতু জিনিসগুলো স্ক্যাটার্ড, তাই কিছু কিছু টপিক খাতায় নোট নিতে পারেন শর্ট করে, যাতে রিভাইসে সুবিধা হবে। আমি তাই করেছিলাম। ইন্টারমিডিয়েট-এর ICT বই যে লাগবেই, এমনটি কিন্তু না।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরীক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো টাইম ম্যানেজমেন্ট। সাধারণ বিজ্ঞানে সৃজনশীল টাইপ অনেক প্রশ্ন কিন্তু টাইম লিমিটেড। সো টু দ্যা পয়েন্ট উত্তর করতে হবে। পারলেও বেশি লেখার সুযোগ নেই। নয় তো শেষে ১০/১২ মার্ক উত্তর করারই সময় থাকবে না। কম্পিউটার ও টেকনোলজির প্রশ্নগুলো ২.৫ নাম্বারের, তাই যা চাইবে সেইটুকুই লিখুন। বাড়তি লিখতে যাবেন না। প্রয়োজনীয় ডায়াগ্রাম আঁকুন।

অনেকেই যে ভুলটা করে, তা হলো সাধারণ বিজ্ঞান দিয়ে শুরু করে ভালোভাবে লিখতে গিয়ে ২ ঘন্টার বেশি লাগিয়ে দেয়। ফলে প্রযুক্তি পার্ট খারাপ হয়ে যায়, সব উত্তর করতে পারেনা। তাই বলব শুরু থেকেই দ্রুত লেখার চেষ্টা করুণ। আমি কম্পিউটার আর ইলেক্ট্রিক্যাল দিয়ে শুরু করেছিলাম। ২.৫ মার্কের ১৬ (কম্পিউটারের ১০টি + ইলেকট্রনিকস-এর ৬টি উত্তর করতে হয়) টির মাঝে ১২ টা যা ভাল পারতাম তা সংক্ষিপ্তভাবে ১ ঘন্টার মাঝে লিখে তারপর বাকি ৪টির জন্য ৪টি পেজ ফাঁকা রেখে সাধারণ বিজ্ঞান লেখা শুরু করি। পরের ১ ঘন্টা ৪০/৪৫ মিনিট সাধারণ বিজ্ঞান দ্রুত লিখি। আর বাকি সময় আবার যে ৪টি বাকি ছিল তা লিখি। সব পারতাম না। কিন্তু লিখেছি যা জানতাম।

আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, বেশি লিখতে যাবেন না, যা চাওয়া হয়েছে তাই লিখুন। ক্ষেত্র বিশেষে টাইম কাভার না হলে উত্তর ফ্লোচার্ট করে দিয়ে দিবেন। যেমন- DNA Test কীভাবে সংঘটিত হয় এমন উত্তর। চিত্র আকার চেষ্টা করবেন। চিত্র সুন্দর হওয়ার দরকার নেই, বুঝা গেলেই হলো। চিত্র আপনার উত্তরকে ভারী করবে।

About khan

Check Also

পরীক্ষার খাতায় লেখার কৌশল: জানলে ভালো মার্ক তুলতে পারবেন সহজে।

লিখিত পরীক্ষার জন্য যে তথ্য আহরণ বা পড়াশোনা করেছেন, তার মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার খাতায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *